ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৩:৩৮:১১
আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী


 


ইমামুল আম্বিয়া প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হায়াতে জিন্দেগানীর মধ্যে দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট ধর্ম পবিত্র ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেন। আর সাথে সাথে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তির লক্ষ্যে মানব জাতির জন্য অফুরন্ত নেয়ামতের ভান্ডার হিসাবে নাযিল করলেন মহাগ্রন্থ আল কুরআন। তিনি পবিত্র ধর্ম ইসলামের আলোক রশ্মিকে সর্বত্রই উদ্ভাসিত করেছিলেন। তাঁহার পরে আর কোন নবী রাসুল আসবেন না। তিনি যখন পৃথিবী হতে তাশরীফ নিলেন তখন ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের কাজ আহলে বাইয়াত, খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবী তাবেয়ীদের হাতে ন্যস্ত ছিল। কিন্তু কালের আবর্তন-বিবর্তনের ফলে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের কাজ অর্পিত হল হক্কানী-রাব্বানী আলেম, পীর মশায়েখ তথা আউলিয়ায়ে কেরাম গনের পবিত্র হাতে। ইসলামের প্রচারের ও প্রসারের কাজে তাঁরা ছিলেন বদ্ধপরিকর। আউলিয়ায়ে কেরামগণ তাদের আধ্যাতিœক শক্তি বলে ইসলামকে বিশ্বের আনাচে-কানাছে তথা সর্বত্রই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আউলিয়ায়ে কেরামগণ ছিলেন পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ ইসলামের ধারক ও বাহক। আউলিয়ায়ে কেরামগণ শুধু ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজ করেছিলেন তা নয় বরং তারা ইসলামের মধ্যে যত প্রকার ভ্রান্ত মতবাদ ও ফেরকার মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছিল তারা সকল ফেরকার মতবাদকে দৃঢ়তার সহিত উৎখাত করে হককে প্রতিষ্ঠা করেন। যারা একাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎমধ্যে আওলাদে রাসুল, গাউসে আমিন, মোজাদ্দেদে দ্বীনো মিল্লাত, মুফতিয়ে আজম, হযরত শাহছুফি আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (কু:) ছিলেন অন্যতম। নিন্মে তাহার সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করার প্রয়াস পাব। মুফতিয়ে আজম আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (কু:) রাসুলে কারীম রাউফুর রাহীম (দ:) এর পবিত্র বংশধর। ইসলামী ঐতিহ্যের প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণকেন্দ্র পবিত্র মদিনায়ে মনোয়ারা হতে অসংখ্য সৈয়দ বংশীয় লোক ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তাদের বংশ পরস্পরায় বাগদাদ-দিল্লি-গৌড়নগর-চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তৎ মধ্যে সৈয়দ নুর উদ্দিন কাজী নামে এক ব্যক্তি হাটহাজারী থানার ফরহাদাবাদ গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তিনি তৎকালীন কাজী বা বিচারক ছিলেন। তাহার নামানুসারে বিকাশ লাভ করেন বিখ্যাত “নুর কাজী” বংশ। উক্ত বংশে হযরত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল করিম (কু:) এর ঔরশে ১৮৬৬ খৃ: ১২৭৩ বাংলা জন্ম গ্রহন করেন মুফতিয়ে আজম আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:)। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা স্বীয় পিতার নিকট হতে লাভ করেন। তারপর স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে বিশেষ কৃতিত্বের সহিত সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য যে, আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) মোহছেনীয়া মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আউলিয়ায়ে কামেলীনগণের ফয়েজ-বরকত লাভে ধন্য হন। অত:পর তিনি বেলায়তে ওজমার অধিকারী ইমামুল আউলিয়া গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কু:) এর পবিত্র দাস্ত মোবারকে বায়াত গ্রহন করেন এবং খেলাফত লাভ করেন। শরিয়ত-ত্বরিকতের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) এর লেখনী, মুনাজেরা, বক্তৃতা ও দক্ষতা দেখে তৎকালীন সমসাময়িক শীর্ষস্থানীয় প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরামগণ তাঁহাকে বিভিন্ন উপাধি প্রদান করেন:
গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী হযরত শাহছুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কু:) কালাম করেছিলেন, “আমার আমিন মিয়াকে আমার ছয়টি কিতাব হতে একটি দিলাম, আমার ১২টি দপ্তর ও কাছারী হতে একটির মালিক বানাইলাম, আমিন মিয়া আমার ত্বরিকতের সাবরেজিষ্টার” ইত্যাদি আধ্যাতিœক রহস্যপূর্ণ পবিত্র কালামাদি।
অছিয়ে গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ দেলাওর হোসেন মাইজভাণ্ডারী (কু:) তার লিখিত বেলায়তে মোতলাকা কিতাবে বলেন, “আল্লামা ফরহাদাবাদী ছাহেব একজন জবরদস্ত কামেল আলেম ও ইসলামী বিধান শাস্ত্র বিশারদ মুফতি ছিলেন। তাঁহার ফতোয়া মিশর জামেউল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগণ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছিল”।
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা শাহ আহমদ রেজা ফাজেলে বেরলভী (র:) বলেন, “আপনার কিতাব আমি দেখেছি। আপনার মত দক্ষ আল্লামা আমার কুতুবখানায় প্রয়োজন”।
ইমামে আহলে সুন্নাত ছদরুল আফাজিল আল্লামা নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী (র:) একদিন আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) এর রচিত মিলাদুন্নবী (দ:), মিলাদ-কিয়াম, ওরশ, ফাতেহা ইত্যাদি জায়েজ সম্পর্কে লিখিত ‘শাওয়াহিদুল ইব্ত্বালাত ফি র্তাদিদে মা-ফি রাফিউল ইশ্কালাত’ কিতাব খানি পেয়ে বাঙ্গালী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাচ্চা তুম লৌগো হামারে পাচ এলেম হাছেল করনে কেলিয়ে কিউ আয়া, জো আল্লামা ইয়ে কিতাব তাসনিফ কিয়া হে, উস্কি পাচ্ যাকর এলেম হাছেল করতে তো হামারে তরফছে আচ্ছা তরিন হোতাহে”।
আল্লামা সৈয়দ আবদুল হামিদ বোগদাদী (র:) পবিত্র কাবা শরীফের বারান্দায় উপস্থিত সাক্ষাতে আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (কু:) এর পরিচয় দিতে গিয়ে তার ডান হাত ধরে  আরববাসীদেরকে বলেন, “এই সরু হাত গুলো হাড়ের নহে, হীরার বলা যাইতে পারে। তাঁহার লিখার মধ্যে হীরার ধার আছে। বাংলার মুলুকে এইরূপ লায়েক আলেম আমি দেখি নাই”।
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (র:) দিওয়ানে আজিজ কিতাবে বলেন, “খোদাদ্রোহী ফেরাউনের জন্য মুসা (আ:) যেরুপ ভয়ের কারণ ছিলেন, আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (কু:) ও ওহাবীদের জন্য তদ্রুপ ভয়ের কারণ ছিলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের জন্য তিনি নি:সন্দেহে সর্ববৃহৎ স্তম্ব”।
পীরে কামেল আল্লামা শাহছুফী সৈয়দ আবদুস সালাম ঈসাপুরী (র:) বলেন, “ইমামুল ওলামা আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) ছিলেন একজন বিশ্ব বিখ্যাত মুহাক্কেক ও মুফতী এবং নায়েব রাসূল। রাসূল (দ:) এর সত্তর প্রকার সুন্নাতের মধ্যে সমস্ত সুন্নাতের পায়রভী আল্লামা ফরহাদাবাদীর জীবনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অনুসরন ছিল”।
পেশওয়ায়ে আহলে সুন্নাত পীরে কামেলে মোকাম্মেল শাহছুফী আল্লামা সৈয়দ আহমদ ছিরিকোটি (র:) হাটহাজারীর কাটিরহাট মাহফিলে আল্লামা ফরহাদাবাদী সম্পর্কে বলেন, “ইয়ে মুলুক আল্লামা ফরহাদাবাদী কা হ্যায়, তুম ছবলোগ উন কি ছাত হুছনে ছলোক র‌্যাহো”।
গহিরা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাজুল ওলামা আল্লামা দোস্ত মোহাম্মদ (র:) বলেন, “হানাফী মাযহাবের ইমাম আজম আবু হানিফার পর যদি কোন ইমাম আজম পৃথিবীতে আসতেন ধর্মীয় মছায়েলা, ফতোয়া ইত্যাদির ব্যাপারে সমাধান দেওয়ার জন্য, তবে আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) অবশ্যই ইমাম আজম হতেন।
ফখরে বাংলা আল্লামা সৈয়দ আবদুল হামিদ (র:) আল্লামা ফরহাদাবাদী ছাহেবকে বলেন, “আমাকে এলমের স্বীকৃতি স্বরূপ যদিওবা সরকার ফখরে বাংলা খেতাব দিয়েছেন। কিন্তু আমি দেখেছি এই খেতাব পাওয়ার যোগ্য আপনিই। আপনার এলেম একসের আমার এলেম তার তুলনায় এক পোয়া”।
শরিয়ত-ত্বরিকতের প্রচার-প্রসারে  আল্লামা ফরহাদাবাদীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনেক গবেষণামূলক মহা-মূল্যবান কিতাবাদী রচনা করেন। তৎমধ্যে “তোহফাতুল আখইয়ার” নামক কিতাবটি অন্যতম। এতে গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কু:) স্বয়ং দস্তখত করেন এবং মাকবুলিয়তের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) এর ফতোয়া সুদূর মিশর জামেউল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগন কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছিল। তাঁহার এই ধর্মীয়-আধ্যাতিœক জীবনে লোক সমাজে অসংখ্য কারামত পরিলক্ষিত হয়। তাঁহার নিকট বেলায়ত বা ফয়েজ লাভ করে অসংখ্য লোক কামালিয়ত লাভে ধন্য হয়। এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ অনেক ত্যাগ ও সাধনার পর ২৭ জিলহজ্ব, ২৭ অগ্রহায়ন, ১৩৬৩ হিজরী, ১৩৫১ বাংলা মোতাবেক ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে, বুধবার (৭৯) বৎসর বয়সে মাওলায়ে হাকীকীর সান্নিধ্যে অনন্ত যাত্রা করেন। মুফতিয়ে আজম আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) স্বীয় ওফাতের কিছুদিন পূর্বে তাঁহার ত্বরিকতের ভার একমাত্র পুত্র গাউছে জামান শাহছুফি আল্লামা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম ফরহাদাবাদী (কু:) কে খলিফায়ে আজম ও সাজ্জাদানশীন নিযুক্ত করে বলেন, “বাবা আমি তোমাকে জামানার গাউস হিসাবে দোয়া করলাম”। আল্লামা ফরহাদাবাদীর আরো অনেক খলিফা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে। মুফতি আল্লামা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম ফরহাদাবাদী (কু:) অত্যান্ত সুষ্ঠ, সুন্দর ও সূচারুরূপে ফরহাদাবাদ দরবার শরীফের যাবতীয় খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান এবং শরীয়ত-ত্বরিকতের যতেষ্ঠ খেদমত করেন। তিনি ফতোয়া-ফরায়েজ দানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তাঁহার অসংখ্য ভক্ত, মুরিদ ও শিষ্যবৃন্দ রয়েছে। তিনি ১৯৮৯ সালে ২২ মাঘ ওফাত প্রাপ্ত হন। আল্লামা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম ফরহাদাবাদী (কু:) ওফাতের পূর্বে তাহার পুত্রদের মধ্যে ৬ষ্ঠ পুত্র মুর্শিদে বরহক পীরে ত্বরিকত বাবাজান মুফতি আল্লামা সৈয়দ মোজাম্মেল হক শাহ ফরহাদাবাদী (মা:জি:আ:) কে দরবারের “সাজ্জাদানশীন” হিসাবে ১৯৮২খ্রি: ১০ মাঘ ( গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর পবিত্র ওরশ শরীফের দিন ) সকাল ১০টা ত্রিশ মিনিটের সময় আল্লামা ফরহাদাবাদী (কু:) এর পবিত্র মাজার শরীফের দক্ষিণ বারান্দায় বসিয়া খিলাফত প্রদান করেন। এই মোবারক সময়ে দরবারের বহু আশেক, ভক্ত ও মুরিদান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মুফতি আল্লামা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম ফরহাদাবাদী (কু:) এর জানাজা শরীফের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন আল্লামা সৈয়দ মোজাম্মেল হক শাহ ফরহাদাবাদী। আর উক্ত ধারাবাহিকতায় বাবাজান আল্লামা সৈয়দ মোজাম্মেল হক শাহ ফরহাদাবাদী (মা:জি:আ:) দরবারের প্রশংসনীয় খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা ও আধ্যাতিœক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পথহারা মানুষকে ত্বরিকতের দীক্ষাদান করে হেদায়তের আলো দান করে যাচ্ছেন। আল্লাহ পাক তাঁহার সফল খেদমতকে কবুল করুক। প্রতি বৎসর ২৭ অগ্রহায়ন, ১১ ডিসেম্বর আল্লামা ফরহাদাবাদীর বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এই বৎসর ও মোজাদ্দেদে দ্বীনো মিল্লাত মুফতিয়ে আজম হযরত শাহছুফি আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (কু:) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ আগামী ২৭ অগ্রহায়ন, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫ইং, রোজ : শুক্রবার ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ বিশ্ব মাওলানা মঞ্জিল প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। আমিন।
লেখক- সৈয়দ ফয়জুল হক শাহ ফরহাদাবাদী
আওলাদে পাক: ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ, ফরহাদাবাদ

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd