ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:০৬:৫৩আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:০৭:৪৮
কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
জি. এম. নিজাম উদ্দিন, প্রিন্সিপাল, কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

 

বাংলাদেশে যে ক’টি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে; কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ওইসব স্কুলের মধ্যে অন্যতম। তৃতীয় প্রজন্মের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হিসেবে এটি অতি অল্প সময়ে সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এই সফলতার নেপথ্যের কারিগর যিনি, তিনি হলেন কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল জি. এম. নিজাম উদ্দিন। সম্প্রতি শিক্ষানুরাগী নিজাম উদ্দিন টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে এই স্কুলটি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট এবং দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। তার দেওয়া মতামতের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজল আরিফ
টাইমওয়াচ : প্রথমেই কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইছি।
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষিত কারিকুলাম ও প্রশংসাধন্য সিলেবাস হাতে নিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক ইৎধরহ ইধংবফ শিক্ষণ-শেখনের মাধ্যমে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার ধানমন্ডিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা তার বলিষ্ঠ অগ্রযাত্রায় প্রয়াসী হয়। শিক্ষার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত মনোরম ক্যাম্পাস, যুগোপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী, সহশিক্ষা ও সুশিক্ষার জন্য মুষ্টিমেয় যে কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এযাবৎ সুনাম অর্জন করেছে, তার মধ্যে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা অন্যতম।
ছাত্রছাত্রীদের বহুমুখী প্রতিভা (Multiple Intelligence) বিকাশের স্বার্থে, একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি, এ স্কুলে নাচ, গান, অংকন, শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীলতা ও সৎ গুণাবলী যতœসহকারে শেখানো হয়। তাদের দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল হতে এবং দেশ ও সমাজকে সেবা করার মানসিকতা অর্জন করতে আগ্রহশীল করানো হয়। বিশ্বায়নের এ দুনিয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, বহুজাতিক পরিসরে কাজ করতে বহু ভাষা জানতে হবে। একইসঙ্গে তাদের নিজের বোধ, বিশ্বাস, মাতৃভূমি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বজাতিকে ভুলে যাওয়া যাবে না।
গ্লোবালাইজেশনের এ যুগে তাদের সব সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সেইজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাদের নতুন নতুন জিনিস শেখার পদ্ধতি এবং নতুন পরিবেশে নিজেদেরকে সহজে মানিয়ে নিতে শিখতে হবে, মনকে খোলা রাখতে হবে এবং দেশকে ভালোবাসতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে স্বাধীনভাবে বড় হতে দিতে হবে। কার্ডিফ স্কুলে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে শেখানো হয়। ছাত্র/ছাত্রীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
শিক্ষার্থীরা যেনো ভালো মানুষ হয়, সেজন্য নৈতিকতা ও ধর্মীয় জ্ঞান শেখানো হয় এবং তাদের শারীরিকভাবে সুস্থ সবল ও সক্ষম রাখার জন্য সব সময় সুষম খাবার খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়, শরীর চর্চা ও খেলাধুলা করানো হয়। সেই সাথে শিক্ষার্থীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযোগী ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা হয়। কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জন্ম এমন একটি প্রত্যয় নিয়ে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়। কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সফল শিক্ষার্থী তৈরি করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ধীর কিন্তু বলিষ্ঠ পদক্ষেপে।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা সমৃদ্ধির সোপান রচনা করে দেয় কিংবা শিক্ষাই মানবশিশুর মানুষ হয়ে উঠবার প্রধান অবলম্বন- এমন বহু মহার্ঘ্য বাণী বৃত্তান্তের সঙ্গে পরিচিত হলেও স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সাড়ে চার দশকেও একটি সমন্বিত শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় যুগোপযোগী জীবনমুখী শিক্ষা যে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি প্রজন্মধারার মনো-দৈহিক পরিপূর্ণ বিকাশে- একথা প্রায় সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিবেন। এক্ষেত্রে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল একটি ব্যতিক্রম, আধুনিক কর্মমুখী ও সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন মেটানোর জন্য কার্ডিফ স্কুলের পথচলা শুরু হয়।
নানাবিধ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ বাস্তবতায় ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে আমাদের চিরচেনা এ পৃথিবী। ফলে আজকের দিনে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া ছোট্ট শিশুটিও গ্লোবাল ভিলেজের এক বাসিন্দা। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাকে টিকে থাকতে হবে এবং সম্মুখ পানে এগোতে হবে। হয়ে উঠতে হবে গ্লোবাল সিটিজেন কিংবা বিশ্ব নাগরিক। আজকের ছোট্ট শিশুকেই বিশ্বায়িত বিশাল ভুবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং নিজ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার গুরু দায়িত্বটিও তারই ওপর বর্তাবে আগামী দিনগুলোতে-এমনই বাস্তবতা। বেড়ে ওঠা প্রজন্মের আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, হতে পারে প্রতিবেশী কোনো দেশে কিংবা অন্য কোনো মহাদেশে। যেমনটি বর্তমানে বাংলাদেশের ১৬/১৭ কোটি মানুষের প্রায় ১ কোটি লোক বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সুতরাং এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে মানবশিশুর শিক্ষা হওয়া চাই আন্তর্জাতিক মানের। এ লক্ষ্য থেকেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশন (সিআইএ)-এর আওতায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। অর্থাৎ বিশ্বায়নের বিদ্যমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দান এবং গ্লোবাল ভিলেজে তাদের সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন থেকেই কার্ডিফের জন্ম হয়।
টাইমওয়াচ : কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বলুন।
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় প্রি-স্কুল স্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রি-স্কুল কারিকুলাম এবং নি¤œমাধ্যমিক স্কুল, ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল স্তরে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত আইপিসি ও ক্যামব্রিজ কারিকুলামে পড়াশোনা করানো হয়। শিক্ষার্থীরা ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা এ স্কুল থেকেই দিতে পারে।
কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান, কার্যকর পাঠ পরিকল্পনা ও পাঠদান সহায়ক শিক্ষা উপকরণ তৈরির জন্য এখানে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের শিক্ষকেরা সারা বছর বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শ্রেণিকক্ষে পাঠ পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্টাডি স্কিল, ফিল্ড ভিজিট, মাইন্ড ম্যাপিং ও থিঙ্কিং স্কিলের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এ স্কুলে ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টার রাইটিং প্যাড ও পিআরএস ডিভাইসের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হয়। এখানে দেশবরেণ্য প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, সাঁতার ও হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ রয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নাট্য, নৃত্য, সঙ্গীত ও চারুকলা বিভাগ।
টাইমওয়াচ : কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অল্প সময়ে বেশ সফলতা অর্জন করেছে। এর পেছনে বিশেষ কী কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : উন্নত কারিকুলাম, দক্ষ শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষকতায় আমাদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাই এর প্রধান কারণ। কার্ডিফ শিক্ষাক্রম ও বিশেষত্ব বিবেচনায় স্বতন্ত্র। বাংলাদেশে এই প্রথম ক্যামব্রিজ কারিকুলামের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘প্রি-স্কুল’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘প্রাইমারি স্কুল কারিকুলাম’-এ ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের একটি সমন্বিত আয়োজন, যা শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা ও সৃজনশীলতাসহ সামাজিক, আবেগিক, মানসিক অর্থাৎ মনো-দৈহিক পরিপূর্ণ বিকাশের উপযোগী একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে যেমন রয়েছে বহু ভাষা শিক্ষাসহ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার অবারিত সুযোগ।
ভাষাগত দক্ষতাই গ্লোবাল ভিলেজের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও সম্পর্ক চর্চার প্রধানতম হাতিয়ার। এই বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এখানে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অ্যারাবিক, জার্মান, চায়নিজ, জাপানিজ ও স্প্যানিশ ভাষা পড়ানো হয়। বিবেচনা করুন, বাংলা ভাষাসহ এই ৬টি ভাষা রপ্ত করতে পারলে বাংলা মায়ের কোলে জন্ম নেওয়া শিশুটি বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সম্পর্ক চর্চাসহ কর্মসংস্থান কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে। মজার বিষয় হলো, বাংলা ভাষাভাষী হয়েও যখন এদেশের একটি শিশু চায়নিজ কিংবা জাপানিজ কিংবা স্প্যানিশ ভাষা কিংবা অন্য ভাষায় কথা বলতে পারবে, মনের ভাব প্রকাশ করবে তখন তা উক্ত ভাষাভাষী মানুষের মনে স্থায়ী রেখাপাত করবে। গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধানতম বাঁধাটি দূর করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এ-সঙ্গে আছে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিশেষ আয়োজন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা মানবসভ্যতার রক্ষাকবচ। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও নৈতিকতার মানুষের সমাহারে আজকের বিশ্বায়িত ভুবন। সুতরাং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধে সহাবস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধর্মচর্চার পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কিত ধারণা থাকা জরুরি। এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীর জন্য পবিত্র কোরআন শিক্ষার সুযোগ যেমন রয়েছে; তেমনি হিন্দুদের গীতা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক ও খ্রিস্টানদের বাইবেল শেখানো হয়। ‘ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা’ নামে আরও একটি বিষয় সব শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। এতে করে শিশু অন্য ধর্মাবলম্বী ও নৈতিকতার মানুষকে যেমন সমজে বুঝতে পারে, মেনে নিতে পারে- তেমনি উদ্ভুত যে কোনো পরিস্থিতি ও বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষাটিও আত্মস্থ করতে পারে। অর্থাৎ ভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও নৈতিকতার মানুষের সঙ্গে মেনে ও মানিয়ে চলার শিক্ষাটি নিশ্চিত করতে চায় কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, যা গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে উঠবার ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখবে।
কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এর মধ্যে হলো- দেশ ও বিদেশে শিক্ষা সফর। পুঁথিগত বিদ্যা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছেলেমেয়েদের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানে এবং বিদেশে শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে ছেলেমেয়েরা পরিবার ও সমাজের বাইরের জগতকে জানতে ও বুঝতে পারে। এছাড়া আছে ম্যাথ, আইসিটি, ফিজিক্স, বায়ো-ক্যামিস্ট্রি অ্যান্ড লিঙ্গুয়িস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সুযোগ। শুধু তাই নয়, স্পেলিং বী, হ্যান্ডিক্রাফটস, আর্টস এন্ড ডিজাইন, মেমোরি চ্যাম্পিয়নশিপ, মিউজিক, ডিবেট, ড্রামা, আইকিউ, ইকিউ, স্যাট, আইইএলটিএস অ্যান্ড কুইজ কম্পিটিশনের ব্যবস্থাসহ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট এক্সিবিশন অ্যান্ড প্রজেক্ট ডিসপ্লের সুযোগ। এ-সঙ্গে আছে সায়েন্স, আইসিটি, ট্রেড অ্যান্ড কমার্স ফেয়ার, কমিউনিটি সার্ভিস এবং সোশ্যাল এনগেজমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের অবারিত সুযোগ। কার্ডিফ-এর অপর বিশেষত্ব হলো বছরের ৯ মাসে পাঠ্যক্রমের শিক্ষা সমাপ্ত করে ৩ মাস বিষয়ভিত্তিক স্টাডি ট্যুর এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা, যাতে তারা সমাজমনস্ক হয়ে উঠতে পারে এবং বাইরের জগত সংসারকে চিনে বুঝে নিয়ে নিজেদের গড়তে পারে।
শৈশব কৈশোর যেমন শেখার ও জানার সময়, ঠিক তেমনি এটি খেলাধুলা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বেড়ে ওঠার এক মহার্ঘ্য কাল। শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মানস কাঠামো গড়ে দেয়, তেমনি খেলাধুলার মাধ্যমে দৈহিক সামর্থ্য ও সক্ষমতায় পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেয়। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার জন্য প্রতিদিন মাঠে নেওয়া হয়। এ স্কুলে ‘ফিজিক্যাল, স্পোর্টস, হেলথ অ্যান্ড ইথিক্যাল এডুকেশন’ নামে সকল ছাত্র/ছাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক একটি সাবজেক্ট রয়েছে। এছাড়াও প্রতি শুক্র ও শনিবারে ক্রিকেট, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, স্কেটিং, টেবিল টেনিস, সুইমিং, মার্শাল আর্ট এবং ইয়োগা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এগুলো শিক্ষার্থীদের মনো-দৈহিক ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশের সহায়ক।
কার্ডিফ যে চেতনা ও লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। আমরা যোগ্যতাসম্পন্ন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী নিযুক্ত করেছি, যাদের সমন্বয়ে একটি আদর্শ টিমওয়ার্ক পরিচালনা করে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এসব শিক্ষক ক্যামব্রিজ কারিকুলামে অভিজ্ঞ এবং এরা উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েই এখানে যুক্ত হয়েছেন। এখানে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, ও লেভেল এবং এ লেভেলের শিক্ষকরা আছেন তারা ক্যামব্রিজ ঊঝঙখ ও ঈওঊ থেকে টিচিং নলেজ টেস্ট, ঈঊখঞঅ এবং ঈওউঞঞ ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন। সর্বোপরি ক্যামব্রিজ কারিকুলামের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের উৎকর্ষ শিক্ষা দানের সবগুলো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিচালিত হচ্ছে এবং সম্ভাবনার নয়াদিগন্ত উন্মোচিত করে দিয়েছে। ফলে আমরা জোর দিয়েই বলতে পারি, এখানে যে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করবে তাদেরকে প্রাইভেট টিচারের কাছে পড়াশোনার কোনো প্রয়োজন হবে না। কেননা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের বিশেষ যতœসহকারে তাদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়ে থাকে কার্ডিফ।
বঙ্গোপসাগর উপকূলের বদ্বীপ ভূখ- বাংলাদেশ নদীমাতৃক নান্দনিক ও সমৃদ্ধ এক অনন্য প্রকৃতিতে আমাদের বসবাস। প্রাকৃতিক ও জিনগতভাবেই আমাদের শিশুরা অন্য যে কোন দেশের শিশুদের চেয়ে অধিক ভাগ্যবান, মেধাবী ও সৃষ্টিশীল। প্রতিটি শিশুই তার নিজস্ব দক্ষতা, ক্ষমতা, জ্ঞান, ধ্যান-ধারণা ও মানসিকতা নিয়ে সম্পূর্ণ একটি আলাদা সত্ত্বা এবং কার্ডিফ এই বিশেষ সত্ত্বাটিকেই চিহ্নিতকরণের কাজে যেমন থাকে সদা-সচেষ্ট; ঠিক তেমনি আবার এসবের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ বিধানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সতত আন্তরিক। এর জন্য দরকার পিতামাতা, বিদ্যার্থী ও স্কুলের মধ্যে গভীর ও নিবিড় এক বন্ধন, যে বন্ধনটি পারস্পরিক যোগাযোগ ও জানাশোনার মাধ্যমে ক্রমশ হয়ে উঠবে দৃঢ় হতে দৃঢ়তর। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাস এই বন্ধনটিকে দেবে নবতর এক মাত্রা। অভিভাবকদের সহায়তায় কার্ডিফ তার নিজস্ব চেতনা ও লক্ষ্যে অবিচল থেকে মানুষ গড়ার গুরুদায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছে। কার্ডিফের স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশাল সফলতার এ এক অন্যতম কারণ। যাকে আমরা একটি কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
‘ম্যাজিক ফর্মুলা’ও বলতে পারি।
টাইমওয়াচ : দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছি।
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা আজ পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি-নির্ভর। সত্যিকারের মেধা বিকাশ ও জ্ঞান চর্চার সুযোগ এখানে নেই। মুখস্তকরণ, নোট, গাইড, পরীক্ষার কোচিং সেন্টার, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ ইত্যাদির দুষ্টচক্রে সত্যিকারের মানুষ গড়ার শিক্ষা হারিয়ে যাচ্ছে।
টাইমওয়াচ : কার্ডিফ- এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলবেন কী?
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। কার্ডিফ স্কুলে ইন্টারন্যাশনাল প্রি-স্কুল কারিকুলাম রয়েছে, যা অন্য কোনো স্কুলে নেই। আমরা প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্রিটেনের বিখ্যাত শিক্ষাপদ্ধতি ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশনের আওতায় শিক্ষা দিয়ে থাকি। আমাদের অনেক দক্ষ শিক্ষক রয়েছেন। আমাদের স্কুলে প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণির মুসলমান শিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। অন্যান্য ধর্মের যারা আছে তাদের গীতা-বাইবেল শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের স্কুলে আরো একটি বিষয় রয়েছে ঐবধষঃয, চযুংরপধষ ধহফ ঊঃযরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ এই বিষয়ের মাধ্যমে বাচ্চাদের
আচার-ব্যবহারের উন্নতির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এছাড়াও আমরা হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে থাকি।
কার্ডিফ স্কুলের সাথে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক ও দেশবরেণ্য অনেক খেলোয়াড় যুক্ত রয়েছেন। আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে সুইমিংপুল করা হয়েছে। এককথায়, কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা চোখে পড়ার মতোই আধুনিক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ করে দিচ্ছে কার্ডিফ। এক সময় কার্ডিফ এমন একটি স্কুলে পরিণত হবে যেখানকার শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়বে। নোবেল পুরস্কার পাবে। অনেক শিক্ষার্থী ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ নামিদামি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করবে। সবচেয়ে বড় কথা, কার্ডিফ থেকে যারা পাস করবে, তারা ভালো মানুষ হবে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হবে।
টাইমওয়াচ : শিক্ষা ক্ষেত্রে কার্ডিফ-এর বর্তমান অবস্থান কোন পর্যায়ে রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : কার্ডিফ বাংলাদেশে তৃতীয় প্রজন্মের ইংলিশ মিডিয়াম ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন বিস্তারে ঈর্ষণীয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। সৃষ্টিশীল, নেতৃত্বধর্মী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা বিস্তারে কার্ডিফ বাংলাদেশে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। গ্লোবালাইজেশনের এ যুগে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বহু ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা হয়েছে। এ স্কুলে প্লে গ্রুপ থেকে ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি ও বাংলা ভাষা, প্রথম শ্রেণী থেকে ছাত্রছাত্রীদের আরবি ভাষা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের ফরাসি, স্প্যানিস, চীনা, জার্মান ও জাপানিজ ভাষা শেখানো হয়। প্লে গ্রুপ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পবিত্র কুরআন, অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ ও নৈতিকতা শেখানো হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ব্যক্তিত্বের বিকাশ, সৃষ্টিশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয় এবং তাদেরকে এসব বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা হয়।
কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যাতে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশে নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হয়। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্কলারশিপ নিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আইবিএ ও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোচিং করানোর মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করানো হয় যাতে এসব প্রতিষ্ঠানে তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভর্তি হতে পারে।কার্ডিফ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনচেতা হতে শেখায়
কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুলের বাইরে কোথাও কোচিং করতে হয় না বা গৃহ শিক্ষকের সহযোগিতা নিতে হয় না। রুটিন মাফিক প্রতিদিন যে হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়, স্কুল আওয়ারের পরে, স্কুলেই শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে, ছাত্র-ছাত্রীরা তা শেষ করে। এরজন্য কোনো আলাদা ফি দিতে হয় না। কার্ডিফ সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী; তাই শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে কার্ডিফ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
টাইমওয়াচ : আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা বলবেন কী?
জি. এম. নিজাম উদ্দিন : বাংলাদেশকে ব্যক্তি উদ্যোগে মেধা, মননশীলতা, দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার মহতি এক পরিকল্পনা আমার আছে। শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে এক সম্পদে পরিণত করতে হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণই একদিন বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখবে। বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সবল রাখতে হলে আমাদেরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। সেজন্য তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতি-নীতি রপ্ত করতে হবে। উন্নত দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হতে হলে তাদের দরকার মতো দক্ষতা ও জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেবল তা অর্জন করা সম্ভব এবং এটির বিকল্প আর কিছুই নেই।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd