ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৫:০৩:৪৮
বর্তমান বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবই বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনার ফসল
মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ


 


বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মালেক নওগা’র প্রথিতযশা খ্যতিমান প্রবীন রাজনীতিবিদ এবং নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে এসেছেন। রাজনীতির মুল লক্ষ্য যা বোঝায় তার নেতৃত্বের মধ্যে শতভাগ বিরাজমান। সততা এবং নিষ্ঠার সাথে নিজের স্বার্থ পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ জনকল্যাণে রাজনীতি হওয়া উচিত এই বিশ্বাস তিনি মনেপ্রাণে ধারণ করেন এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কি পেয়েছেন তার কোন হিসাব না করেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। দেশের সব চেয়ে বড় এই রাজনৈতিক দলটি বেশীরভাগ সময়ই থেকেছে ক্ষমতার বাইরে।
সব সময়ই ক্ষমতাসীন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রেখে গাছের উপরেরটা নিব আর গোড়ারটা কুড়িয়ে নিজের আখের গোছাবো এমন উদাহরণ বাংলাদেশে ভুরি ভুরি থাকলেও এই ফর্মূলা তিনি কখনই পছন্দ করেন না। তিনি দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবেসে রাজনীতি করেন। আর তাই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর একটি সুখি সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গঠন এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সব সময় গঠনমূলক রাজনীতি করেছেন।
আব্দুল মালেক ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শের সৈনিক। তাই তার রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব অনেকটা জুড়ে। ছাত্রজীবনেই বঙ্গবন্ধুর কাছে তিনি শিখেছেন কেন ছাত্র রাজনীতি  করবেন তিনি। কেন রাজনীতি করবো বঙ্গবন্ধুর নিকট তার ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘ভালো রাজনীতি করতে হলে আগে ভালো করে লেখাপড়া করা একজন ছাত্রের প্রধান কাজ। দায়িত্ব নিয়ে লেখাপড়া করবি। কোন ফাঁকি দিবি না। যারা ফাঁকি দেয় তারা দেশ ও সমাজকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা রাজনীতির মুল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মনে রাখবি মানুষের অসুবিধা হয় এমন একটি ইট রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার মধ্যেও মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে’। বঙ্গবন্ধু তাকে আরও বলেছিলেন যে মানুষের উপকার করার মাঝে যে তৃপ্তি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দিয়েও তা অর্জন করা সম্ভব নয়।
সেই আদর্শিক মুল্যবোধ থেকেই মো. আব্দুল মালেক বর্তমান ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যারা লেখা পড়া করবে না তাদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নাই।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে জনাব মো. আব্দুল মালেক বলেন, সেই সময়ে সারা দেশের থেকে  নওগাঁ’র প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন ছিল। সে সময়ই নওগাঁয় স্থানীয়ভাবে ডিস কলেজিয়েট এবং নন কলেজিয়েট আন্দোলন গড়ে ওঠে। মিছিল মিটিং অব্যাহত থাকে। এমন কি তৎকালীন প্রিন্সিপাল সাহাব উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা এবং ১১ দফা ভিত্তিক সংগ্রামে রুপলাভ করে। তাঁর পদের প্রতি কোন লোভ ছিল না। নিজেকে ঐ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেই তিনি খুশি ছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি নির্দেশ এবং প্রতিটি কর্মসূচীর সাথে সক্রিয়ভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন তিনি। সেটি নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি মনে করতেন।
১৯৭০ সালে এক নির্বাচনী জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নওগাঁয় এসেছিলেন। নওগাঁ এটিম মাঠে ঐ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জনসভার পূর্বে তৎকালীন আওয়ামীলীগের নেতা আতাউর রহমানের বাসায় তিনি বিশ্রাম গ্রহন করছিলেন। তখন অন্যান্য নেতারা আব্দুল মালেককে বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। এসময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন পরিচয় করিয়ে দেয়ার দরকার নাই। আমি ওকে চিনি। ও একটু ট্যারা। কিছুক্ষণ পরই মো. আব্দুল মালেক বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ মুজিব ভাই বিজয় আমাদের অনিবার্য কিন্তু তারা ( পাকিস্থানীরা) কি ৬ দফা বাস্তবায়ন করবে ?” বঙ্গবন্ধু তখন সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন “ আমি বলেছিলাম না ও ট্যারা । তা না হলে সারা দেশের কেউ এমন প্রশ্ন করে নি। ও করলো। এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘৬ দফা গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা। এ জন্য রক্ত লাগবে তৈরী থাক’।
বঙ্গবন্ধুর ‘রক্ত লাগবে তৈরী থাক’ এই কথার মধ্যে অন্তর্নিহীত সারমর্ম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেই সময়ের তরুন নেতা মো. আব্দুল মালেক। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম বাঙালী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন বর্তমানে বাংলাদেশের যে অর্জন তা বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনারই ফসল। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারলেই আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত এবং সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। বর্তমান সরকারের সমুদ্রসীমা, স্থলসীমা, নদীচুক্তি সব কিছুতেই যে সফলতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলার যে নীতি তার সবই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা ও চেতনার ফসল।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd