ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:১৩:৩৯আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:১৬:৫৬
পুরনো গাড়িকে নতুনরূপে গড়ি : সাদমান শমিক

 

সাদমান শমিক এস কে; দেশের তরুণ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা। দেশের একমাত্র ফ্যাশনেবল গাড়ি অ্যাসেম্বলিং ও আধুনিক যন্ত্রাংশ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বিডি কিডজ-এর সিইও তিনি। পাশাপাশি তিনি এশিয়া সিনেমা হল, অমি বনি কথাচিত্র, ফাহিম সুটিং স্পট, ইনফিনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসবই তার পিতা দেশের স্বনামখ্যাত ও জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল-এর গড়ে তোলা পারিবারিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। স্বাধীন চেতনায় বেড়ে উঠেছেন সাদমান শমিক। তার বেড়ে উঠার সময়কালে পিতা-মাতার কোনো রকমের অনুশাসন মোকাবিলা করতে হয়নি; বরং পিতা ডিপজলের একমাত্র উপদেশ, যে কাজই করবে তা স্বাধীন চিন্তা-চেতনায় করবে এবং কাজকে ভালোবাসবে। আর এভাবেই তার বেড়ে ওঠা এবং আজকের সফল অত্যাধুনিক ফ্যাশনেবল গাড়ির অ্যাসেম্বলিং কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি জনাব ডিপজলের দ্বিতীয় সন্তান। এছাড়াও জনাব ডিপজলের আরো দু’জন সন্তান রয়েছে; তারা হলেনÑ অলিজা মনোয়ার বনি (আমেরিকায় বসবাসরত প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার) এবং সাদ মনোয়ার (বাংলাদেশে অধ্যয়নরত)। জনাব সাদমান শমিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পাশাপাশি আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। তিনি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন। তরুণ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা সাদমান শমিক সম্প্রতি টাইমওয়াচকে দেশের গাড়ি ব্যবসা ও সমসাময়িক বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : আপনি পারিবারিকভাবে একটি সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। দেশের স্বনামধন্য অভিনেতা ডিপজলের সন্তান আপনি। অথচ নিজেকে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন; এ বিষয়ে জানতে চাইছি।
সাদমান শমিক : আমার বাবা-মা আমাদের সঙ্গে খুবই আন্তরিক। কোনো কিছুর সিদ্ধান্ত তারা কখনোই আমাদের ওপর চাপিয়ে দেন না। তারা সবসময়  পুরনো গাড়িকে নতুনরূপে গড়ি : সাদমান শমিক</div><div style= " />
আমাদেরকে সাপোর্ট করে বলেন যে, তোমাদের যে বিষয় ভালো লাগবে সে কাজটিই করবে। সেটি পড়াশুনা কিংবা অন্য যা কিছুই হোক না কেন। আমিও মনে করি, ভালোবেসে এবং ভালো লাগার বিষয়ে কাজ করলে বিখ্যাত হওয়া যায়। এভাবে বাবা-মা আমাদের চাওয়া-পাওয়াকে সব সময় প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। যার ফলে আমার বড় বোন আমেরিকার মতো দেশে এখন একজন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি সেখানে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে কাজ করছেন। আমার বাবা ডিপজলের বাংলাদেশে বেশ ক’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি এগুলো দেখাশোনার পাশাপাশি আমার শখের বিষয়ে কাজ করছি। ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ। আর এ সুবাদে গাড়ি নিয়ে কাজ করার জন্য বিডি কিডজ কোম্পানিটি গড়ে তুলি। এই বিষয়ে আমার বাবা আমাকে সব দিক দিয়েই সাপোর্ট করেছেন। তিনি কখনোই বলেননি যে, এটা হ্যাসেল বিজনেজ, এখানে প্রফিটের নিশ্চয়তা নেই, যেখানে বেশি প্রফিট সেই কাজ করো। তিনি আমাকে সর্বদা বলছেন, যখন কাজ করবে সেটিকে যেন মনে না হয় যে তুমি কাজ করছো? মনে করতে হবে- এই কাজটিই আমার জন্য পারফেক্ট। আর বিখ্যাত হতে হলে কাজকে ভালোবাসতে হবে। এ কারণেই হয়তো আমি পরিবারের পরিমন্ডলের বাইরে ডিফারেন্ট অর্থাৎ বিডি কিডজ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আমি এই কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি, এখন এটি দেশের একমাত্র ফ্যাশনেবল গাড়ি অ্যাসেম্বলিং ও আধুনিক যন্ত্রাংশ বিক্রি প্রতিষ্ঠান।
টাইমওয়াচ : আপনি স্বাধীন চেতনায় গাড়ির ব্যবসা শুরু করেছেন; কীভাবে শুরু করলেন বলবেন কী?    
সাদমান শমিক : ২০১২ সালে আমি আমেরিকায় ছিলাম; সেখানে আমি এক বছর ছিলাম। ওই সময়ে আমি অ্যামেরিকার গাড়ির মার্কেট পর্যবেক্ষণ করি। আমি লক্ষ্য করলাম, আমেরিকার মার্কেট ওয়েল অর্গানাইজড। আমাদের দেশে গাড়ির কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র  কোম্পানির নাম ব্র্যান্ডিং করতে চায়। কিন্তু তারা গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোডাক্ট ব্র্যান্ড করে। আমাদের দেশের মানুষ গাড়ির মাধ্যমে প্রোডাক্টকে কীভাবে ব্র্যান্ডিং করা যায় তা জানেন না।
দেশের অনেক বিত্তবানের সন্তান ড্রাগ অ্যাডিক্ট হয়ে কু-পথে চলে যাচ্ছেন। অথচ এসব বাদ দিয়ে সবাই যদি তার শখের দিক ফোকাস করে এবং তা নিয়ে কাজ করে তাহলে তাদের খারাপ পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। যেমন গাড়ির প্রতি নেশা থাকলে সে তা নিয়ে সকাল-বিকাল ব্যস্ত থাকবে। গাড়ি নিয়ে আজ কি করবো, কাল কোথায় যাবো, গাড়ি কিভাবে সাজাবো প্রভৃতি। সবাই যদি তার পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ করে, তাহলে তাকে আর খারাপ কিছু স্পর্শ করতে পারে না। এসব চিন্তা করে আমি দেশে ফিরে গাড়ির ব্যবসায় সম্পৃক্ত হই।
টাইমওয়াচ : আপনার শো-রুমে এসে লক্ষ্য করলাম, আপনি অনেক পুরাতন মডেলের গাড়িকে নতুন অবয়বে গড়ে তুলেছেন; এই কাজটি কীভাবে করছেন?
সাদমান শমিক : আমি যে কোনো পুরাতন মডেলের গাড়ির ফ্যাশনেবল যন্ত্রাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করি। আমি জানিÑ কোন গাড়ি কীভাবে অ্যাসেম্বলিং করতে হয় । গাড়িতে যাতে জং না ধরে সেজন্য সব ধরনের উপযুক্ত কেমিক্যাল আমরা ব্যবহার করি। এছাড়া গাড়িতে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়, যেগুলো আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়। আমরা ওইসব যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করছি। অতি জরুরি হলে অনলাইনে অর্ডার করেও যন্ত্রাংশ কিনি। এসব যন্ত্রাংশ দিয়ে একটি পুরাতন গাড়িকে নতুনভাবে  অ্যাসেম্বলিং করার জন্য আমাদের টেকনিশিয়ানদের থাইল্যান্ড থেকে ট্রেনিং করিয়ে থাকি।    
টাইমওয়াচ : একটি পুরাতন গাড়িকে নতুনভাবে অ্যাসেম্বলিং করার জন্য কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়; এ ক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানে কী দক্ষ লোকবল রয়েছে?
সাদমান শমিক : আমার প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই  দক্ষ লোকবল রয়েছে। আমাদের সেলসম্যান থেকে শুরু করে যারা পুরাতন গাড়িকে নতুনভাবে অ্যাসেম্বলিং করার জন্য কাজ করছেন তারা সবাই দক্ষ। আমি ২০১২ সালে মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করি। এক সপ্তাহে আমরা কমপক্ষে ২/৩টি গাড়ি কমপ্লিট করে গ্রাহককে হ্যান্ডওভার করতে পারি। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করতে দক্ষ লোকের প্রয়োজন হয়। আমি জানি, বিদেশে গাড়ি অ্যাসেম্বলিং স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে করা হয়। অথচ আমরা কিছু ইক্যুইপমেন্টের সাহায্যে হাতে অ্যাসেম্বলিং করি। এক্ষেত্রে আমি গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করার জন্য থাইল্যান্ড থেকে ওয়ার্কারদের প্রশিক্ষণ করাই। এ বিষয়ে আমাদের দেশে কোনো রকমের নীতি বা পলিসি নেই ।
টাইমওয়াচ : আপনি বিধি বিধানের কথা বলছেন। আমরা এক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশে গাড়ি ব্যবসার জন্য উপযোগী কোনো নীতিমালা নেই; বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
সাদমান শমিক : আমরা যদি গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে কোনো পলিসি তৈরি করি তাহলে সেই পলিসি হবে উপযুক্ত। সরকার যদি নিজের কথা চিন্তা করে পলিসি করে তাহলে গ্রাহকসহ কেউ উপকৃত হবেন না। আমি মনে করি, কোনো পলিসি করার আগে টার্গেট করা দরকারÑ গ্রাহক কী চাচ্ছে, কতটুকু ফ্যাসিলিটি দিলে সরকার এবং গ্রাহকের মধ্যে ভালো সমন্বয় হবে। আমাদের দেশে তা করা হয় না। সরকার শুধু রেভিনিউ বাড়ানোর চিন্তা করে। কনজ্যুমার ফ্যাসিলিটিসের কথা সরকার চিন্তা করে না। আর পলিসি অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে। পলিসি কম সময়ের জন্য হলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ে যান।
টাইমওয়াচ : গাড়ির যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে থেকে আনার ক্ষেত্রে কোনো রকমের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কী?
সাদমান শমিক : আমাদের দেশের পোর্টের ম্যানেজমেন্ট, ট্যাক্স-ফি প্রভৃতির পলিসি পরিবর্তন করা দরকার। পোর্টের বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স/কমিশন খুবই বিরক্তিকর। এতে প্রোডাক্ট ইমপোর্টে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।
টাইমওয়াচ : একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আগামীতে দেশে গাড়ির অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট করার কোনো পরিকল্পনা আপনার রয়েছে কী?
সাদমান শমিক : আমি অল্প বয়সে বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। আমার এ দেশে গাড়ির অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট করার ইচ্ছা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই এগিয়ে যাবো।
টাইমওয়াচ : একজন তরুণ যে বয়সে আড্ডাবাজি করে থাকেন; সেই বয়সে আপনি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আজকের তরুণদের উদ্দেশে আপনার কোনো বক্তব্য রয়েছে কী?
সাদমান শমিক : আমাদের দেশের তরুণরা পড়াশুনা শেষে চাকরি খুঁজেন। কিন্তু আমাদের দেশে চাকরির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যে হারে ছেলেমেয়েরা প্রতিবছর শিক্ষাজীবন শেষ করে বের হচ্ছে সেইহারে চাকরির বাজার নেই বা সৃষ্টি হচ্ছে না। তাদের জন্য আমার পরামর্শ চাকরি না খুঁজে নিজের উদ্যোগে কিছু একটা করো; যাতে নিজের কর্মসংস্থান নিজেই করতে পারো। প্রথমেই যে বড় পরিসরে করতে হবে তা-নয়। ছোট থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ শুরু করা উচিত। এভাবে করতে পারলে একসময় অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হবে এবং এটি দেশের জন্যও ভালো। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে অন্যদের জন্যও চাকরির বাজার তৈরি করতে সক্ষম হবো। এজন্যে শুধুমাত্র চাকরির পেছনে না ছোটাই উত্তম।
টাইমওয়াচ : আপনি সংস্কতিমনস্ক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। সাংস্কৃতিক বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কী?
সাদমান শমিক : প্রতিটি মানুষের পছন্দের বিষয় বলে কিছু থাকে। সিনেমায় অভিনয় করার আমার সেরকম কোনো আগ্রহ বা শখ ছিল না। ছোট বেলা থেকে গাড়ির প্রতি ভীষণ আকর্ষণ ছিল। যে কারণে খেলতে খেলতে একসময় গাড়ির বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম। তবে সংস্কৃতিতে আমি অন দ্য স্ক্রিনে নয়Ñ অব দ্য স্ক্রিনে কাজ করছি। আমার বাবার সিনেমা হলগুলোকে আমি আরো ডেভেলপ করছি। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নতুন মেশিন সেট করছি। আগে এনালগ প্রিন্ট ছিল। তাতে অনেক টাকা ব্যয় হতো। সেখানে আমরা ডিজিটাল মেশিন বসিয়েছি। সিনেমা যাতে পাইরেসি না হয় সেজন্য আমরা এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছবি চালাচ্ছি।
টাইমওয়াচ : অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ মানসম্মত নয়। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
সাদমান শমিক : সিনেমা যতই ভালো হোক, হলের পরিবেশ যদি ভালো না হয় তাহলে দর্শক হলে সিনেমা দেখতে যাবে না। এসব বিষয় চিন্তা করে আমাদের সব হলকে ডেভেলপ করেছি। সিনেমা দেখার পরিবেশ ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছি। সিনেমার উন্নয়নের জন্য আমরা ফিল্ম সিটি নির্মাণ করছি। আমার বাবা আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন। পুরো কাজ আমার তত্ত্বাবধানে হচ্ছে।
টাইমওয়াচ : আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নেতিয়ে পড়েছে; পুনরুদ্ধার করা সম্ভব কী?
সাদমান শমিক : একা কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। গ্রুপ করে কাজ করতে হবে। সরকারকেও সহযোগিতা করতে হবে। ভারত সিনেমায় অনেক এগিয়ে গেছে। আজকে সিনেমা দিয়ে ভারতকে সারা বিশ্ব চিনে। এর কারণ হচ্ছেÑ তাদের দেশে সিনেমা নির্মাতাদের সাথে সরকারের নিবিড় সমন্বয় রয়েছে। আমাদের সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। হল মালিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে গ্রুপ প্ল্যান করতে হবে। আমাদের দেশে সেরকম কোনো উদ্যোগ নেই। হলগুলোর পরিবেশ খারাপ। নির্মাতাদের সিনেমা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। এখন নতুন নির্মাতা আসছেন; যারা এসব উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। হল মালিকরাও সচেতন হচ্ছেন। ঢাকায় ৫/৬ টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শকরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখছেন। নতুন নতুন হল নির্মাণ হচ্ছে। এর সাথে সরকারের সম্পৃক্ততা থাকলে আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন হবে।
টাইমওয়াচ : আপনি অভিনেতা ডিপজলের সন্তান হিসেবে সিনেমার সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে আপনি মূলত গাড়ি ব্যবসায়ী। তাই গাড়ির ব্যবসা নিয়ে আপনার কর্ম-পরিকল্পনা কী?
সাদমান শমিক : গাড়ি নিয়ে বর্তমানে আমি যে কাজ করছি এটি শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দিতে চাই। প্রত্যেক জেলা শহরে সম্ভব না  পুরনো গাড়িকে নতুনরূপে গড়ি : সাদমান শমিক</div><div style= " />
হলেও দেশের প্রধান প্রধান জেলা শহরে আমার কোম্পানির একটি করে শাখা খুলবো। আর্থিক সহযোগিতা এবং যদি ফিজিক্যালি ফিট থাকতে পারি তাহলে দেশে একটি গাড়ির প্ল্যান্ট করতে চাই। পিএইচপি গ্রুপ দেশে গাড়ি অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে পিএইচপি গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশে গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি তাঁর মতো কাজ করতে চাই।
টাইমওয়াচ : এই ছোট বাজারে গাড়ির প্ল্যান্ট করে কতটুকু সফলতায় আমরা পৌঁছতে পারবো বলে আপনি মনে করেন?
সাদমান শমিক : অবশ্যই লাভজনক হবে। গাড়ির প্ল্যান্ট হবে শুধু আমাদের দেশকে টার্গেট করে নয়। আমরা গাড়ি উৎপাদন করে বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট করবো। কারণ শুধুমাত্র লোকাল সাপ্লাই করে একটি গাড়ির অ্যাসেম্বিং কোম্পানি টিকে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের গাড়ি বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট হবে। দেশে গাড়ির লোকাল মার্কেট করতে পারলে গাড়ি ইমপোর্ট করা আমাদের কমে যাবে। একটি গাড়ি আমদানি করতে অনেক বেশি পরিমাণে ট্যাক্স গুনতে হয়। তখন গাড়ির মূল্য বেড়ে যায়। গাড়ির প্ল্যান্ট হলে দেশে অনেক কম মূল্যে গ্রাহক গাড়ি কিনতে পারবেন।
টাইমওয়াচ :  দেশে গাড়ির প্ল্যান্ট গড়ে ওঠার জন্য সরকারের সহায়তার ধরন কেমন হওয়া উচিত?
সাদমান শমিক : দেশে গাড়ির প্ল্যান্ট গড়ে উঠলে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কম দামে গ্রাহকরা গাড়ি কিনতে পারবেন। গাড়ি এক্সপোর্ট হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এজন্য সরকারের ব্যাপক সহায়তা দরকার।
টাইমওয়াচ : এর আগে সরকারি উদ্যোগে প্রগতি গাড়ি নির্মাণ করেছিল, তা আশার মুখ দেখেনি। বেসরকারি উদ্যোগে গাড়ি প্ল্যান্ট গড়ে উঠলে তা মুখ থুবড়ে পড়বে কী-না?
সাদমান শমিক : যে কোনো বিজনেসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে এবং পরিকল্পনামাফিক কাজ হচ্ছে কী-না সে বিষয়ে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে। ব্যবসা শুধু খুলে বসলেই হবে না, সেটির তদারকি করতে হবে। আমি আমার ব্যবসা যদি ঠিক মতো দেখি এবং কোথায় কি সমস্যা হচ্ছে তা রিকভার করতে হবে। কারণ ছোট একটি সমস্যা হলে তার সমধান না করলে তা ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পতিত হবে। আমি মনে করি, প্রগতি গাড়ি অ্যাসেম্বলিংয়ে যা যা ফল্ট ছিল সেসবের সমাধান করেনি। যার কারণে প্রগতি এ উদ্যোগে আলোর মুখ দেখেনি। একটি ফ্যাক্টরি চালু হওয়ার পরে সেটি ডেভেলপ করে তদারকির মাধ্যমে। সরকারের ম্যানেজমেন্ট জোরদার করা উচিত ছিল। কোনো কোম্পানি খোলার আগে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে এবং যারা কাজ করবে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর সাথে কন্টিনিউয়াস ইনভেস্টমেন্ট থাকতে হবে। এভাবে কোম্পানি খুলে কাজ করলে বিফলে যাওয়ার কথা নয়।
টাইমওয়াচ : গাড়ি প্ল্যান্ট করার জন্য আপনি বর্তমানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কী?
সাদমান শমিক : আমি এখনো বেসিক লেভেলে আছি। আরো শক্ত অবস্থানে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। আগেই বলেছি, মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ দেশে গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করতে চেয়েছেন। কিন্তু সরকার থেকে সাপোর্ট কম হচ্ছে। আমি মনে করি, গার্মেন্টের পরে আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার গাড়ি। কারণ এখানে ইমপোর্টের ক্ষেত্রে সরকারের রেভিনিউ পাওয়ার বিষয় জড়িত। আশা করি, সরকার গাড়ির প্ল্যান্ট করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd