ঢাকা : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৬:১৬আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫০:১৭
দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক রফিকুল আমীনের মুক্তি
বদর উদ্দিন আহমদ


 


দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদক, বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এবং ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের জামিনের খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রাণসঞ্চার হয়। সারাদেশে যারা ডেসটিনির সাথে সম্পৃক্ত তাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। খুশিতে আত্মহারা ডিস্ট্রিবিউটরা আল্লাহর কাছে শোকরানা আদায়, মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ায়, বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। গত ২০ জুলাই বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের দুটি মামলায় বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীম্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন মঞ্জুর করেন।
সংবাদটি শুনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেসটিনির হাজার হাজার কর্মী সৃষ্টিকর্তার কাছে দুহাত তুলে শোকরিয়া আদায় করেছেন। সেই সাথে দেশের সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। শুধু ডেসটিনির সাথে যারা সম্পৃক্ত তারাই নয়, এর বাইরেও সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, আরো আগেই তাদের জামিন হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কারণ, ডেসটিনির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে তো এর ক্রেতা-পরিবেশকদের কোনো অভিযোগ ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। বরং তারা দিনের পর দিন জামিনের জন্য অপেক্ষা করেছেন।  ডেসটিনির ক্রেতা-পরিবেশকরা কোথাও কোনো অভিযোগটি পর্যন্ত করেননি।
শীর্ষ দুই কর্মকর্তার জামিনের খবরে সিলেট বিভাগের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেসটিনির ক্রেতা-পরিবেশকরা সরগরম হয়ে উঠেছে। নেট অফিস এবং সোস্যাল মিডিয়ার ব্যানারে ক্রেতা-পরিবেশকরা মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেন। মিষ্টিও বিতরণ করা হয়। শীর্ষ কর্মকর্তাদের জামিন দেয়ায় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে তারা অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তারা বলেন, দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের জামিন হওয়ায় দেশে আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো বেড়ে গেল। আমরা বিশ্বাস করি সরকার ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সুনজরে দেখবে।
দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের জামিনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ। তিনি এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংবাদপত্র শিল্পকে রক্ষায় এ পদক্ষেপ সন্তোষজনক, আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত না হয় সেই পদক্ষেপই নেবেন। অপরদিকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদকের এ জামিন হওয়াটা খুবই জরুরি ছিল, এজন্য যে দৈনিক ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ জামিনের কারণে তাদের আর বেতনভাতা পেতে অসুবিধা হবে না।
বৈশাখী টেলিভিশনের উপদেষ্টা সিরাজাম মুনির এই জামিন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আইনের শাসনের জয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডেসটিনির ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক প্রাণ খুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য  দোয়া করবেন, ক্রেতা-পরিবেশকরা এতদিন রফিকুল আমীনের জামিনে মুক্তির প্রতীক্ষায় ছিলেন। এ জামিনের মধ্য দিয়ে তাদের সে আশা পূর্ণ হলো। তারা কেউ বিনিয়োগ ফেরত চাননি, এতদিন শুধু মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইনের মুক্তি চেয়েছিলেন। সব সময় বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, ডেসটিনির এ দুজন প্রাণপুরুষ বেঁচে থাকলে তারা লগ্নীকৃত অর্থ ফেরত পাবেন। তিনি আরো বলেন, ক্রেতা-পরিবেশকসহ আমরা কঠিন মানবেতর জীবনযাপন করেও এমডি ও চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া মাহফিল করেছি মহান আল্লাহ যেন তাদেরকে সুস্থ  রেখে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন, রাব্বুল আলামীন আমাদের সে কথা শুনেছেন।
দেরিতে হলেও উচ্চ আদালতের জামিন আদেশকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। বলছেন, এখন তাদের কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত। যে লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে ডেসটিনি এগিয়ে যাচ্ছিল, তা সফল করতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কেননা সরকারের উন্নয়ন নীতির সাথে ডেসটিনির মূলনীতি ছিল একই সুতায় গাঁথা। এ বিষয়ে দৈনিক ডেসটিনির পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল গ্রাহক-পরিবেশক ও সাধারণ মানুষের সাথে। সিলেটর বেশকিছু ডেসটিনি ক্রেতা-পরিবেশক বলেছেন, বিগত ৪টি বছরকে আমরা কঠিন পরীক্ষা হিসেবে মনে করেছি। আমাদের মনোবল ও ঐক্য একটুও নষ্ট হয়নি। বিভিন্ন মহল থেকে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল আমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা  কোনভাবেই ভেঙে পড়িনি। একদিকে, যেমন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা অপেক্ষা করেছি আবার অন্যদিকে নিজেদের মনোবলকে আরো মজবুত করেছি। এখন আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ দুই কর্ণধারের জামিন আদেশ সংবাদটি আমাদের কাছে পৌঁছানোর পর আমরা যেমন আনন্দিত হয়েছি, তেমনি আগামীর মহাদায়িত্ব পালনে সবাই নতুন করে শপথ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, অধিকতর তদন্তে ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হবে না। আর আমাদের এ বিশ্বাসের পেছনের মূল কারণ হচ্ছে, ডেসটিনি আমাদের সাথে প্রতারণা করেনি, আমরা কেউ ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হইনি। প্রতিষ্ঠানের কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, অভিযোগ ছিলও না।
অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, ডেসটিনির কর্মীরা যেমন একদিকে সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হবে তেমনি তারা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে এগিয়ে এসে পক্ষান্তরে সরকারের হাতকেই শক্তিশালী করবে। তরুণরাই তরুণদের বিপথগামিতা রোধ করবে। অনস্বীকার্য বাস্তবতা হচ্ছে, একমাত্র তরুণ প্রজন্মই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা। সরকার যদি ডেসটিনিকে তাদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার সুযোগদান করে, তবে পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের বেকারত্ব দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে। তরুণরা হতাশা থেকে বেরিয়ে আসলে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মূল শিকড়ও উৎপাটন হবে। তাদের আর কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
একই সাথে অভিজ্ঞমহল মনে করেন, ডেসটিনির যত সম্পদ রয়েছে তা ডেসটিনিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। বন্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলে দিতে হবে। তাদের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। শিক্ষা, পরিবেশ উন্নয়ন, সঞ্চয়, সমবায়সহ যতগুলো খাতে ডেসটিনির বিনিয়োগ ছিল সেই খাতগুলোতে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি ডেসটিনির যেসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কারণে বেদখল হতে বসেছে তা পরিপূর্ণভাবে ডেসটিনিকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ডেসটিনির যে দায় রয়েছে তার চেয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য বেশি হওয়ায় গ্রাহক-পরিবেশকদেরও ধৈর্য ধরে সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের সাথে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানটি আবারো তার পুরনো গৌরব ফিরে পেতে পারে।
অপরদিকে, অর্থপাচারের অভিযোগে ডেসটিনি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জ গঠনসহ নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে মামলায় অভিযোগ গঠন ও এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দিলেও তা পারেননি সংশ্লিষ্ট আদালত। সে কারণে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লাকে ১১ আগস্টের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অর্থপাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় দুটি মামলা দায়ের করে। গত ফেব্রুয়ারিতে ডেসটিনির কর্মকর্তা দিদারুল আলম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। পরে তাঁর আইনজীবী আবেদন খারিজের আরজি জানালে আদালত তা গ্রহণ করেন। তবে এ মামলায় এক মাসের মধ্যে অভিযোগ গঠন ও এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযোগ গঠন করতে পারেননি ওই আদালত। পরিশেষে অনুপায় হয়ে ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকরা তাদের অসহায়ত্ব, বেকারত্ব, দুরবস্থা ও মানবেতর জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু’দিন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেছেন, ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের জামিন হলেও তা এখনো আপিল বিভাগের আদেশের অপেক্ষায় আছে। বক্তারা অবিলম্বে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, ডেসটিনি গ্রুপের সম্পদ রক্ষাসহ ডেসটিনিকে পূর্বের মতো ব্যবসা করার অনুমতি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অভিভাবক ও বিপদের বন্ধু, আপনি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করে ৪৫ লাখ পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচান। ডেসটিনি আমাদের সাথে কোনো প্রতারণা করেনি, বরং আমরা ডেসটিনিতে কাজ করে সুখে জীবনযাপন করছিলাম। ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইনের মুক্তি চাই।     
প্রায় ৫ হাজার বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশক এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাসরিন আজাদ, মো. আব্দুর রহিম, মো. ওয়াসিম আকরাম, মো. আবুল হাছান, সাইফুল ইসলাম, মো. মোশারফ হোসেন, আজম আলী, ইঞ্জি. নাজিম উদ্দিন জুয়েল, ইঞ্জি. শহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিরাজাম মুনির প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, আজ প্রায় ৪ বছর যাবৎ ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দসহ ব্যবসায়িক কর্মকা- বন্ধ হয়ে আছে। দুদকের করা কলাবাগান থানায় দুটি মামলায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া কিছু অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে শীর্ষ ৩ কর্মকর্তা ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এর কয়েকদিন পর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জে. এম হারুন-অর-রশিদ (বীরপ্রতীক) উচ্চ আদালত থেকে শর্তযুক্ত জামিন লাভ করেন। কিন্তু এরপর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন মহামান্য হাইকোর্টে বিভিন্ন সময়ে জামিন আবেদন করেও অপেক্ষায় থেকে প্রায় ৪৬ মাস কারাগারে বিনা বিচারে এবং অসুস্থতায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা জানি ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মালিকানা ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ-এর কমবেশি ৮ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার সদস্যের, যারা পাশাপাশি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ক্রেতা-পরিবেশক ও ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশনের ‘অগ্রিম বৃক্ষরোপণ প্যাকেজ’-এর স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদের নিয়োগকারীও। বিগত প্রায় ৪ বছর ধরে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলাজনিত জটিলতায় কোম্পানির সকল স্থাবর-অস্থাবর অর্থ সম্পদ ধ্বংস ও লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের কয়েকজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা গ্রেপ্তার ভয়ে আত্মগোপন করায় এসব সম্পদ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এর পাশাপাশি ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের রুটি-রুজির প্রতিষ্ঠান ডেসটিনির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার ফলে আমরা আজ প্রায় ২ কোটি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। বক্তারা গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এবং দাবি করছি ডেসটিনির সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও সঠিক জবাবদিহিতা আছে বলেই আজ পর্যন্ত আমাদের কোনো বিনিয়োগকারী, শেয়ারহোল্ডার, ক্রেতা-পরিবেশকদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বা এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। এমনকি কর্মকর্তাদের বা ডেসটিনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেউ আজ পর্যন্ত আদালতে বা কোনো গণমাধ্যমে বা কোনো ফোরামে কোনো প্রকার অভিযোগ দায়ের করেনি। ডেসটিনি ক্রেতা-পরিবেশকরা বলেন,আমাদের অর্থে এবং পরিশ্রমে গড়া ডেসটিনির যেসব স্থাবর-অস্থাবর অর্থ সম্পদ লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তার কিছু চিত্র অবগতির জন্য তুলে ধরেন।  দেশের প্রায় সব জায়গাতেই ডেসটিনি কতৃক ক্রয়করা সহায়-সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এইসকল সম্পদ রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অথচ এসব সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে অস্থায়ী পুলিশ কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের কথা রয়েছে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে ডেসটিনি ব্যয়বহুল ডেকোরেশনকৃত অফিসগুলো একের পর এক দখল করা হচ্ছে। কোটি টাকার ডেকোরেশন/আসবাবপত্রসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের আয় প্রত্যেক মাসে ২০-২৫ লাখ টাকা। এসব আয় সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা হওয়ার কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে জমা হচ্ছে না। এসব টাকা কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে ডেসটিনির বিনিয়োগকারীগণ তা জানে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আমাদের বিনিয়োগকৃত টাকার ক্রয়কৃত সম্পত্তি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কুচক্রী ও দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আপনাদের মাধ্যমে আবেদন জানাচ্ছি, আপনি ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবারের প্রায় ২ কোটি মানুষের অভিভাবক। আপনার কাছে আমাদের আকুতিসমূহ তুলে ধরছি। ডেসটিনির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ হোসাইনসহ অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে যে মনগড়া মামলা করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ডেসটিনি এমডি ও চেয়ারম্যানকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দিয়ে আমাদের সম্পদ রক্ষা ও ডেসটিনিতে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করে আমাদেরকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করে দিন। পাশাপাশি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর নামে এমএলএম লাইসেন্স দিয়ে ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করার ব্যবস্থা করে দিন। আমরা ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে যেখানে যে অবস্থায় আছি, প্রত্যেকে আমরা ডেসটিনির সম্পদ দখলবাজ ও লুটকারীদের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আমরা প্রত্যেকের জীবনের নিরাপত্তা আপনার নিকট দাবি করছি।
ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও  ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল  আমীনের জামিন হওয়া সত্ত্বেও কেন মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না এ দাবিতে ডেসটিনির বিনিয়োগকারী  ও ক্রেতা-পরিবেশকরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা আইন বিভাগ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ  হোসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে ডেসটিনিকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, কোনো ক্রেতা-পরিবেশকের অভিযোগ না থাকলেও ডেসটিনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে দুদক ৪ বছর আগে দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। সর্বশেষ ২০ জুলাই ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ  হোসাইন উচ্চ আদালতে জামিন লাভ করেন। গ্রেফতারের আগে শীর্ষ কর্মকর্তা ও সম্পৃক্তরা দাবি করেছিলেন, ডেসটিনিতে কোনো অনিয়ম নেই। শতভাগ স্বচ্ছতা রয়েছে। ডেসটিনি মহলবিশেষের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। যারা দেশের উন্নয়ন চায় না তারাই ডেসটিনির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পাতার আরো খবর

Developed by orangebd