ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:১৪:৪০আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:১৬:৩২
টাঙ্গুয়ার হাওরে জোছনাসুধায় ভেজার দিন ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর
বদর উদ্দিন আহমদ, সিলেট


 


পর্যটন শিল্পকে আজ অনন্য শিল্প হিসেবে দেখছেন পৃথিবীর উন্নত বিশ্বে। সেদিক থেকে আমাদের দেশের জনগনও পিছিয়ে নেই। সকল ব্যস্ততার পর একটু সময় পেলেই বেড়াতে বেরিয়ে পরে দল বেঁধে, পরিবার পরিজন নিয়ে।   
দিন দিন মানুষের কাছে ভ্রমন বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তার সাথে যোগ হয়েছে দলবেঁধে হাওরের মাঝখানে বসে জোছনাউৎসব পালন করা। পূর্ণিমার রাতে হাওরের মধ্যে খোলা নৌকায় বসে জোছনাউৎসব সে এক অন্যরকম অনুভূতি।  সে অনুভূতি বলে বুঝানোর মতো না। সেই রকম না বুঝানোর এক অন্যরকম উৎসব পালন করতে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে। আর তাহেরপুরের দর্শনীয় স্থান গুলোকে পর্যটকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে টাঙ্গুয়ায় দু,দিন ব্যাপী জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যেগে এ উৎসব চলবে আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। এ লক্ষ্যে ইতি মধ্যে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার হাওর কেন্দ্রিক উপজেলা তাহিরপুর। এ উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা, বারেকটিলা,বড়গুফ টিলা, ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প,হাওলি জমিদার বাড়ি,ইসকন মন্দির অধৈত প্রভুর মন্দির,শাহআরেফিন মোকাম ও বাংলার কাশ্মীর বলে খ্যাত নীলাদ্রী লেক সহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এ সব দর্শনীয় স্থান গুলোকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে দেশী বিদেশী অনেক পর্যটক আছেন যাহারা তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থান গুলো সম্বন্ধে ব্যাপক কিছু জানেন না। তাই তাহিরপুরে পর্যটনের স্বার্থে ও পর্যটকদের তাহিরপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান গুলো পরিচয় করিয়ে দিতে টাঙ্গুয়ায় জোৎ¯œা উৎসবের আয়োজন।
আয়োজনে থাকছে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ টি নৌকা ও লঞ্চে পর্যটকদের নিয়ে হাওরের হিজল-করচ বাগান  সহ বিভিন্ন বিল জলাশয় ঘুরে দেখা, হাওরে নৌকায় থেকে ভাসমান মঞ্চে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান উপভোগ, রাতে ভরা পূর্নিমায় জল-জোৎ¯œা উপভোগ, টাঙ্গুয়া থেকে যাদুকাটা নদী পর্যন্ত নৌ পথ ভ্রমন, সীমান্তবর্তী বারেক টিলা, ট্যাকেরঘাট নীলাদ্রী লেক, কড়ইগড়া আদিবাসি পল্লী ও তাদের সংস্কৃতি উপভোগসহ  বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ব্যাবস্থা রয়েছে এ জোৎ¯œা উৎসবে। ইতি মধ্যে অনেক পর্যটক স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে টাঙ্গুয়া হাওরে জোৎ¯œা উৎসবে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
তাহিরপুরে টাঙ্গুয়া, যাদুকাটা, বারেকটিলাসহ একাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা দেখে ঢাকা থেকে কিংবা বিভিন্ন শহর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা মুগ্ধ হন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের এই ভ্রমণোৎসবে যোগ দিতে ফোনে যোগাযোগ করছেন ভ্রমণার্থীরা। নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই ভ্রমণোৎসবের উদ্যোগ নেওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে বিপুল সাড়া পড়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের মধ্যখানে ভাসমান মঞ্চ স্থাপন করে প্রথম রাতে জোছনাসুধায় মাতবেন ভ্রমণার্থীরা। উদযাপন করা হবে বিরল জোছনা উৎসব। স্থানীয় ও জাতীয় শিল্পিদের কণ্ঠে থাকবে গান। তারা মধ্যরাতে হাওরের বুকে মরমি সুরের তুফান তোলবেন। ভ্রমণে অংশ নিয়ে জলের উপর বিরল জোছাসুধায় ¯œাত হওয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে চান পর্যটকরা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এসে মাত্র ২৫০০ টাকায় বুকিং দিয়ে যে কেউ এই উৎসবে শরিক হতে পারবেন বলে আয়োজকরা জানান।
ভ্রমণোৎসবের দ্বিতীয় দিন তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত রূপের নদী যাদুকাটাও ঘুরে দেখা হবে। রাতে ও দিনে ভিন্নরকম সৌন্দর্য্য নিয়ে পর্যটকদের চোখে প্রতিনিয়ত এই নদীটি ধরা দেয়। এই নদীর পশ্চিম পাড়েই ঘন সবুজের খাড়া ও ঢালু বড়গোপ টিলা (বারেকের টিলা)। এই টিলাটিও অনন্য সৌন্দর্য বহন করছে। রাতে এই টিলায় উৎসব হবে। তাছাড়া টিলার নিচে শত শত বছর ধরে অবস্থানকারী পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পর্বও রয়েছে। দেশের বৃহত্তম বারুণি উৎসবের স্থান ও অদ্বৈতধামও পরিদর্শনের সুযোগ থাকছে। লোকায়ত পীর শাহ আরেফিনের মাঝারও পরিদর্শননেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা পর্বে বর্ণাঢ্য আয়োজন রেখেছেন উৎসবের আয়োজকরা। আয়োজকরা জানিয়েছেন এই উৎসবের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে টাঙ্গুয়ার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। পর্যটকদের নিয়মিত ভ্রমণের জন্য আহ্বান জানানো হবে। তাছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য দাবি ও সুপারিশমালাও তৈরি করবেন আয়োজকরা।
টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে পর্যটকদের এই টান ও স্বতস্ফুর্ত উচ্ছ্বাস আমাদের অভিভূত ও মুগ্ধ করেছে। আয়োজক হিসেবে আমরাও অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।আয়োজকদের পক্ষ থেকে তিনি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিচের এই নম্বর গুলোতে ০১৭১৬-৯৩৭৯২৩, ০১৭১৪৭১১৯৫১,০১৯২৭৯৩৭৪১১ এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, টাঙ্গুংয়ার হাওরে জোৎ¯œা উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা তাহিরপুর উপজেলাকে দেশবাসীর কাছে তোলে ধরে পরবর্তীতে পর্যটনের জন্য সরকারের কাছে জোড়ালো দাবী জানবো। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, টাঙ্গুয়া হাওর সহ তাহিরপুরের সব গুলো দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটকদের কাছে আরও ভাল ভাবে উপস্থাপনের জন্য টাঙ্গুয়া হাওরে আমাদের এ জোৎ¯œা উৎসব।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.হারুনর রশিদ বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরে এ রকম একটি আয়োজন তাহিরপুরকে পর্যটনের জন্য আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরে জোৎ¯œা উৎসবের মধ্যে দিয়ে তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার যে প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন  তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে হাওরের পরিবেশ রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd