ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:০৮:১০
সড়ক, রেল দুর্ঘটনায় মুঠোফোন অপব্যবহার অনেকাংশে দায়ী
মহিউদ্দিন আহমেদ


 


বিশ্বে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গণ পরিবহনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতি ১ লক্ষ মানুষের জন্য ১ হাজার ১শত ৩৩ টি যানবাহন রয়েছে। চীনে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের জন্য রয়েছে ১৮ হাজার যানবাহন। ভারতে প্রায় ১৩ হাজার। আর পাকিস্তানে ৫০০০। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় প্রতি ২০ জনের জন্য ১টি করে যানবাহন রয়েছে। এদেশগুলোতে জনসংখ্যার হারও অনেক বেশি (মটর সাইকেলসহ)।
সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব মতে ১ বছরে লোক মারা যায় ২১ হাজারেরও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে প্রায় ১২ হাজার। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে ৮ হাজার ৬শত ৪৮ জন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের হিসাব মতে ৩ হাজার ৪শত ৫০ জন, বুয়েটের সড়ক দুঘর্টনার রিচার্স ইনষ্টিটিউট ও একটি হিসাব প্রকাশ করে। আর পুলিশ শুধু মামলার হিসাব ধরে হিসাব কষে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমরা দৈনিক ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে যে সংবাদগুলি পেয়ে থাকি তা আরও বেশি।
যান বাহনের অবস্থা
দেশে যানবাহন আছে প্রায় ৯০ লক্ষ। সেখানে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ২৭ লক্ষ। ফিটনেস বিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৪ লক্ষ। প্রকৃতপক্ষে বৈধভাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিলে দেখা যাবে যে, অর্ধেক যানবাহনই ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার অযোগ্য। বর্তমানে দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্ত ড্রাইভারের সংখ্যা ১৩ লক্ষ। বাস, ট্রাকসহ সকল প্রকার যানবাহনের ড্রাইভারগণ ৯৫ ভাগই ট্রেনিং নিয়েছে চালকের সহকারী হিসেবে। বিআরটিএ-র হিসাব অনুযায়ী দেশের ভারী যানবাহনের প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার চালক রয়েছে। এদের ১ লক্ষ ৯০ হাজার লাইসেন্স পেয়েছে পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে। তারা লাইসেন্স পান নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁনের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর তালিকা অনুযায়ী। এত বড় একটা মন্ত্রণালয় যেখানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হচ্ছে সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য আলাদা কোন মনিটরিং কমিটি নেই।
সড়ক পরিবহন আইনের অবস্থান
সড়ক পরিবহন চলছে মটর যান আইন ১৯৮৩ এর মাধ্যমে। এ আইন বর্তমান সময়ের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে সরকার নতুন করে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্ব ব্যাংক এর সহায়তায় ১৯১২ সালে সেই আইন তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ব ব্যাংক এতে সহায়তা প্রদান করে। যে আইনের নাম দেওয়া হয় সড়ক পরিবহন ও চলাচল আইন-২০১২। এর বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন খসরা তৈরি হয়েছে ঠিকই কিন্তু খসরা গুলি মান সম্পন্ন না হওয়ায় তা আইনে পরিণত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ ও ১৮ই জানুয়ারী বিশ্ব ব্যাংক হোটেল সোনারগাঁও-এ দুদিন ব্যাপি একটি কর্মশালার আয়োজন করে। সে কর্মশালা বিশ্বের বিভিন্ন এক্সপার্ট ডঃ পাথানজেলীদেব নায়ার, অরুণ মোহন বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালক দেশের বিশিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিগণ সংশ্লিষ্ট খাতের স্ট্রেক হোল্ডারগণ অংশ গ্রহণ করেন। আমি নিজেও এ কর্মশালায় অংশ গ্রহণ কারীদের একজন। সেখানে ৪ জনের একটি গ্রুপ করে একটি পরামর্শ কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়। আমার গ্রুপে রেডক্রিসেন্ট এর ডাক্তার শাহানা ল-কমিশনের সিনিয়র রিচার্স অফিসার এ.এম. জুলফিকার হায়াত ও ডেইলি নিউ এ্যাজ এর একজন প্রতিনিধি। সেখানে আমি মুঠোফোনে অপব্যবহার ও গাড়ী চালানোর সময় এর ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটার চিত্র তুলে ধরি। এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা একটি প্রস্তাবনা মুল কমিটিকে প্রদান করি। এরপর এ নিয়ে ব্র্যাকের এ্যাডভোকেসি কমিটিতে বেশ কয়েকটি কর্মশালায় মুল ভাবনাটি তুলে ধরি। এছাড়াও ডাঃ হোসেন জিল্লুর রহমানের পিপিআরসি-তেও এ নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর এর সুফল সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে মটর যান আইন-এ একটি ধারা সংযোজন করেছে। তাতে বলা আছে মটর যান আইন এর ১১৫(বি) ধারায় বলা হয়েছে গাড়ী চালানোর সময় মুঠোফোনে কথা বলা নিষেধ। এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কোন চালক এ আইন অমান্য করে থাকে তাহলে তার ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা কারাদন্ড বা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডীত হবার শাস্তির বিধান দেওয়া আছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ কয়েকটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন-অতিরিক্ত গতি, বেপোরোয়াভাবে যানবাহন চালানো, অন্য যানবাহনকে বিপদজনকভাবে অতিক্রম করা। এছাড়াও রয়েছে সড়ক এবং মহাসড়ক সম্পর্কে জনগণের ধারণা না থাকা। এর অপব্যবহার করা। ধীর গতি এবং জোর গতির গাড়ি একই রাস্তায় চলাচল করা। কিন্তু আমাদের সংগঠন এর পর্যবেক্ষণে লক্ষ করি যে, মুঠোফোন এর অপব্যবহার এ সেক্টরকে একটি বিপদজনক অবস্থায় নিয়ে এসেছে। যেমন- গাড়ী চালানোর সময় হর হামেশাই মুঠোফোনে কথা বলা, হেড ফোন ব্যবহার করা, পথচারীদের কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া। গাড়ীতে উঠানামার সময় মুঠোফোনে কথা বলা। রেল লাইন অতিক্রম করার সময় মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেল লাইন অতিক্রম করার ফলে প্রতিনিয়তই রেল-এর নিচে কাটা পড়ছে জনতা। অথচ যে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী, অপারেটর এদের দায়িত্ব ছিল তাদের পণ্য বিক্রি করার সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনগণকে সচেতন করা। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো বাংলাদেশ রেলওয়ের ফাইবার অপটিক বিনা পয়সায় গ্রামীন ফোন ব্যবহার করছে। কিন্তু তারা রেলওয়েকে কোন সেবা দেওয়াতো দূরোস্তান উল্টো রেল এর নীচে মুঠোফোন এ কথা বলতে বলতে জীবন দিচ্ছে অনেক প্রাণ। এর দায়-দায়িত্ব অবশ্যই মুঠোফোন অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের উপর পড়ে। এ নিয়ে আমরা বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা রিচার্স ইনষ্টিটিউট-এর অধ্যাপক ডাঃ মাহাবুব তালুকদার এর সাথে কথা বললে তিনিও আমাদের সংগঠনের মতামতের সাথে একমত পোষণ করেন এবং এ খাতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ব্যাপারে জোর তাগিত প্রদান করেন।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন, ই-মেইল : mohiuddin73ahmed@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd