ঢাকা : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:০৮:৫৬
মেছতার কারণ এবং চিকিৎসা
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 

মেছতা মুখের কালো বা বাদামি রঙের দাগ। এর মেডিকেল নাম মেলাজমা। মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ ত্বকের রং সৃষ্টির জন্য দায়ী। এটি কখনও অতিরিক্ত কর্মক্ষম হয়ে অতিরিক্ত রং তৈরি করে যা ত্বকের একজায়গায় জমাট বেঁধে মেছেতা তৈরি করে। মেছেতা ৩ ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-
১. এপিডারমাল : এটি সাধারণত চামড়ার উপরের স্তরে থাকে।
২. ডারমাল : এটি চামড়ার বেশ গভীরের স্তরে থাকে।
৩. মিশ্রিত : ত্বকের ওপর ও নিচে সব স্তরেই থাকে মেলানিনের বিস্তার। উডস ল্যম্প নামক এক ধরনের বাতির সাহায্যে আলো ফেলে ত্বকের কোন স্তরে মেছতা হয়েছে তা নির্ণয় করা হয়।
 
 
কেন হয়?
মেছেতা নারীদের বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় হরমোন পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় দেখা যায়। তাছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, সূর্যরশ্মি, ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, কিছু ওষুধ যেমন- Psoralen, Arsenic, Antiepileptic, Phenothiazine ও কিছু হরমন গ্রন্থির রোগ যেমন- adison's disease, Hyperthroidism মেছতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
 
সাবধাণতা
সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলার জন্য সবসময় ছাতা কিংবা সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন।
ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন।
তাজা শাকসবজি, কাঁচা ও পাকা ফল খেতে চেষ্টা করুন।
মুখমণ্ডল ছাড়াও কারও যদি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে মেছতার প্রকোপ বেশি থাকে তবে তার আঠাল জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো।
 
 
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
ক্লিগমেন ফর্মুলা : এ ফর্মুলায় তিন ধরনের ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয় যা ব্লিচ হিসেবে কাজ করে এবং মেলানসাইট সৃষ্টিকারী কোষের কার্যকরিতা থামিয়ে রাখে।
লেজার চিকিৎসা : লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে মেছতা সরানো যায়।
এমসিডি : ঘূর্ণামাইক্রোমান যন্ত্রের সাহায্যে দাগযুক্ত স্থানের ত্বকের সবচেয়ে উপরের স্তর ব্যথাহীন ও রক্তপাতহীনভাবে তুলে নেয়া হয়। এরপর ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে এটি শুধু এপিডারমাল যা চামড়ার একদম ওপরের স্তরের মেছতার জন্য কার্যকরী।
মধু ও দই-এর মিশ্রণ মেছতার অংশে ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
 
মেছতা কোন স্থানে হয় : সাধারণত গালের ওপরের অংশেই এটা বেশি হয়ে থাকে। তবে চোয়ালে, নাকের ওপরে ও কপালেও হতে দেখা যায়। মেছতা ত্বকের কোন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা Woods Lamp-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে ধারণা পাওয়া যায়।
 
একধরনের মেছতা চিকিৎসায় সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যায়।
আর একধরনের মেছতা আছে যা চিকিৎসা দিলে প্রায়ই সেরে যায় তবে কিছুটা কালো ভাব থেকে যায়।
আর একধরনের মেছতা আছে যার সংখ্যা খুবই কম, তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় তেমন ফলাফল আসে না।
মেছতার গতানুগতিক চিকিৎসা : এত দিন ধরে প্রায় সব চর্মরোগ বিশেষজ্ঞই হাইড্রোকুইননকেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে মনে করতেন এবং যে কেউই মেছতার ক্ষেত্রে এটিকেই লিখে থাকতেন। এর সাথে ট্রেটিনয়েন এবং মৃদু স্টেরয়েডের সংযুক্ত ব্যবহারে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়।
তবে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর সাধারণ চিকিৎসক এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা নিজেরাই মেছতার জন্য বেটনোভেট মলম মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ব্যবহার করেন এমন রোগীর সংখ্যাও অনেক। এটি একটি দারুণ অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর কাজ। মুখে বেটনোভেট দীর্ঘ দিন মাখলে মুখের ত্বকের জন্য যে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু একটি কথাই বলা যায় যে, দয়া করে এই কাজটি কেউ করবেন না।
বর্তমান ও আধুনিক চিকিৎসা : হাইড্রোকুইনন বর্তমানেও ব্যবহার করা হয় এবং এর সাথে স্টেরয়েড মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়। ক্ষেত্রবিশেষে ট্রেটিনয়েনও খুবই উপকারী। তবে বর্তমানে Kojic acid I Azelic acid-এর ব্যবহারও শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এতে বেশ সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।
তবে একটি ব্যাপার খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার। এসব ওষুধ ত্বকের রঞ্জক পদার্থ ধ্বংস করে। কিন্তু ত্বকের কালো দাগ যদি সূর্যের আলোক রশ্মির সংস্পর্শে আসে তবে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা করেও তেমন সন্তোষজনক ফলাফল আনা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি, অর্থাৎ চিকিৎসা চলাকালীন অবশ্যই দিনের বেলায় বাইরে চলাচলের সময় সানব্লক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে বাইরে যাওয়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগে এই সানব্লক মুখে মেখে নিতে হবে। মেছতার চিকিৎসায় সর্বশেষ ও কার্যকর সংযোজন হচ্ছে মাইক্রোডার্মোঅ্যাব্রেশন। একটি যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকের সূক্ষ্ম ও সর্বোপরি স্তরটি তুলে ফেলা হয়। এটি একটি যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় এবং এতে কোনো রকম ব্যথা পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় মেছতার ওষুধ প্রয়োগ করলে ওষুধের কার্যকারিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং মেছতার ক্ষেত্রে আরো দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়। কেমিক্যাল পিলিং, অর্থাৎ কিছু কেমিক্যালস প্রয়োগ করেও মেছতার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে দাগ হতে পারে বিধায় যারা এ বিষয়ে সিদ্ধহস্তের নয়, তাদের দিয়ে এটি না করানোই ভালো।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd