ঢাকা : সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩৫:২০
ধরলার ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষজন
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা


 


কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নে অসময়ে ধরলার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। ইতিমধ্যে ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২শ মিটার তীর রক্ষা বাধ। শুকনো মৌসুমে আকস্মিক ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ী হারানো দুই শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় দ্রুত ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ সহ সরকারী সহায়তা কামনা করছেন অসহায় পরিবার গুলো।
গত এক সপ্তাহে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মোগলবাসা গ্রামের বাজার সংলগ্ন প্রায় ২শ মিটার তীর রক্ষা বাধ, দুই শতাধিক ঘর-বাড়ী ও কয়েক একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকীর মুখে পড়েছে ইউনিয়নের সাথে জেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়ক, ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নিধিরাম, বাঞ্চারাম ও কিসামত গ্রামসহ দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামী এক মাসের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাটসহ তিনটি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে মোগলবাসা ইউনিয়নের সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
শেষ আশ্রয় টুকু হারিয়ে মাথা গোজার ঠাই খুঁজে পাচ্ছেন না নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবার গুলো। হাতে টাকা ও খাবার না থাকায় দু’চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছেন তারা।
বারবার যোগাযোগের পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়া না পাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষজনকে ঘর-বাড়ী হারাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের।
ধরলার ভাঙ্গনের শিকার আবুল কবিরাজ জানান, হঠাৎ ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে ভিটে-মাটি সব নদী গর্ভে চলে গেছে। কোন রকমে ঘরের চাল রক্ষা করতে পারছি। তাও আবার রাস্তার একদিকে রেখেছি। এখন কোথায় যাবো তার কোন উপায় নাই। কেউ এমনিতে বাড়ি করার জায়গা দেয় না।
ভাঙ্গনের শিকার দুদু মিয়া জানান, বাড়ী-ঘর কোন রকমে সড়িয়ে নিয়েছি। বউ-বাচ্চা নিয়া আজ ৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করতেছি। খাবারও নাই, হাতে টাকাও নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বার এখন পর্যন্ত কোন সাহায্যও দেয় নাই। এ অবস্থায় আছি। সামনে কি হবে আল্লাহই ভালো জানেন।
দুদু মিয়া ও আবুল কবিরাজের মতো একই অবস্থা এখন মোসলেম উদ্দিন, নুরুল্ল্যা ও মুন্নিসহ ২ শতাধিক পরিবারের।
মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবলু জানান, নদী ভাঙ্গন শুরুর আগে থেকেই আমরা এলাকাবাসীসহ স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। মানব বন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোন ভুরুক্ষেপই করেনি। এজন্য এ এলাকার ২ শতাধিক পরিবারকে ঘর-বাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের নাম তালিকা করে সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়েছি। ধরলার ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তানাহলে দু-একদিনে মধ্যেই মোগলবাসার একমাত্র পাকা সড়কটি নদী গর্ভে চলে যাবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমান, জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধরলার ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে বাঁশের বান্ডাল দেয়ার কাজ শুরু করেছি। আমরা মোগলবাসা এলাকার ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বন্দবস্ত নেয়ার জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বরাদ্দ পেলে পরবর্তীতে স্থায়ী বন্দবস্ত নেয়া হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd