ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৯:৫৪আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৬ ১৮:১২:২৪
জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য দেশে একটি স্বতন্ত্র মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় চাই
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী, সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট

 

অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী, সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এবং মহাসচিব, বিওএলডি (বাংলাদেশ অরগানাইজেশন ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) তে জতীয় পরামর্শক হিসেবে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। সম্প্রতি মানবসম্পদ উন্নয়নের কারিগর অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরীর মুখোমুখি হলে টাইমওয়াচকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ চিফ রিপোর্টার কাজল আরিফ
টাইমওয়াচ : সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এর যাত্রা শুরু কিভাবে জানতে চাই?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : সবসময় চিন্তা করতাম নেতৃত্ব ও এর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবো। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিবো এবং নেতৃত্বের পরবর্তী প্রজন্ম তৈরী করবো। যেই চিন্তা সেই কাজ। তরুণ বয়সী ছেলে মেয়ে সামনে পড়লে শুরু করতাম বক্তৃতা। বুঝতাম আমার কথায় এরা বেশ প্রভাবিত। ভাবলাম এর একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরী করা দরকার। আমি যখন আইএলও বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাতে জাতীয় পরামর্শক হিসেবে কাজ করছি, ঠিক তখনই টের পেলাম কর্মক্ষেত্রে এমন কি চাকুরীর বাজারে প্রবেশের আগেও কিছু বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গী থাকা অত্যন্ত জরুরী। আর সেই বিশেষ জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গী হল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বেশ কিছু শিল্পসংস্থার সাথে  পেশাগত যোগাযোগের কারণে এই বিষয়ের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের চাহিদাটা অনুধাবন করেছিলাম। প্রথমে আইএলও এবং পরে নিজের আগ্রহে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলাম সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এর।
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এর ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করবেন?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে শতাধিক স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, ছাত্র ও যুবকদের বিভিন্ন ফোরামে এবং বিসিএস কর্মকর্তাদেও অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ফলপ্রসু যোগাযোগ, ইংরেজী ভাষা জ্ঞান ও তার সঠিক ব্যবহার, টিম বিল্ডিং এবং অন্যান্য অনেক সফট স্কিলস এবং মটিভেষণাল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) একটি বিশ্বস্ত নামে পরিণত হয়েছে। এক সময় প্রশিক্ষণকে ব্যলেন্সশীটে খরচের খাত ধরা হতো। এখন তা পরিণত হয়েছে বিনিয়োগের খাতে। সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এর মতো আরো অনেক প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ খাতে একাগ্রতার সাথে কাজ করে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণকে একটি শিল্পে রুপান্তিরিত করেছে।  
 
টাইমওয়াচ : সোসাইটি ফর লীডারশীপ স্কীলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) এবং বিওএলডি (বাংলাদেশ অরগানাইজেশন ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কি একই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : অবশ্যই আমাদের সবার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। আমাদের প্রায় সবারই প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন-ফিউচার লিডার্স, কর্পোরেট কোচ, ফিউচারএড লি:, এসটিসি বাংলাদেশ, মাইন্ড ম্যাপার লি:, দৃক আইসিটি লি:, স্কিলস ১০০, অল্ড বেইলী চেম্বারস ইত্যাদি। মানবসম্পদ উন্নয়নে আমাদের সবার প্রচেষ্টা অবিরাম ও অবিরত আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বৃহত্তর যে কোন কাজে একার চেয়ে একত্রিত শক্তির প্রভাব অনেক বেশী। বিওএলডি (বাংলাদেশ অরগানাইজেশন ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন বা এর সাথে সংযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট যে কোন কর্মকান্ডকে উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়ে একই পেশাগত ও দেশপ্রেমের মানসিকতা নিয়ে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জনশক্তি উন্নয়নে নিজকে নিবেদিত করতে পারে।
 
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে মানব সম্পদ উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখতে পারে?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : একটি দেশের জনসংখ্যা সেই দেশে জন সম্পদ বা মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই কথা সমভাবে প্রযোজ্য। পপুলেশন কাউন্সিল নামক এক সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিবছর দুই মিলিয়ন বা বিশ লক্ষ যুবক বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। ইউএনএফপির মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৭ দশমিক ছয় মিলিয়ন হল যুব সমাজ যাদের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছর। ভাবুন পরিকল্পিতভাবে এই সংখ্যক যুবকদের আত্মউন্নয়ন ও দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত এবং উজ্জিবীত করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে এর কতবড় প্রভাব পড়বে। সত্তরের দশকে নাইজেরিয়া এই জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেয়েও ব্যর্থ হয়েছে। যদিও একই সময়ে কোরিয়া একই পরিস্থিতি ব্যবহার করে এখন অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী দেশ। সতরাং বাংলদেশের সার্বিক সমৃদ্ধিতে মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন এশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
 
টাইমওয়াচ : আমরা জানি যে, আপনি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজে ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত সবক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাবে তৈরী হয় সিদ্ধান্তহীনতার। আর তাতেই জটিলতা দেখা দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বাজেটের স্বল্পতা আর ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যেম, আত্ম-বিশ্বাস ও আত্ম-প্রত্যয়ের অভাব মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান বাধা।
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে সরকারের সহায়তার ধরণ কেমন হওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের প্রাণপ্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ এই মুহূর্তে জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনের স্বর্ণালী সময় পার করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই সূবর্ণ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ পাওয়া একটি দেশের সরকারের উচিৎ চারটি কাজ নিশ্চিত করা। যথা- ক) ক্রমবর্ধমান শ্রম যোগানের পরিবেশ তৈরী করা। খ) জনগণকে সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহে প্রদান করা। গ) মেয়াদভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঘ) আভ্যন্তরীন দক্ষ শ্রম ও শিল্পায়নের চাহিদা-যোগানের সমন্বয় সাধন করা। ইতমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর সরকার ব্যবস্থাপনা, জনসংযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অবকাঠামোর সঠিক উন্নয়ন এই সার্বিক পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই স্থাপনার উপর দাঁড়া করাবে। আমরা সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিটি অংশে সম্পৃক্ত। এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনপুঁজি বা জনশক্তিতে রুপান্তরিত করতে আমাদের পেশাগত সম্মিলিত শক্তি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করবে আমরা বাংলাদেশের এই সূবর্ণ সুযোগের সময়োচিত পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারী, বেসরকারী, ব্যক্তি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অংশীদার হতে চাই।
 
টাইমওয়াচ : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
অধ্যাপক মঈনুদ্দিন চৌধুরী : আমরা বিওএলডি (বাংলাদেশ অরগানাইজেশন ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারের কাছে দুইটি বিষয়ে সবিনয়ে দৃষ্টিগোচর করতে চাই- এক. এখনই সময় দেশের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করা, বিষয়টি সর্বপ্রথম সোসাইটি ফর লিডারশীপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (এসএলএসডি) উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১০ সালে এবং দুই সার্বিকভাবে দেশের আমলাতন্ত্রকে আরো আধুনিক, গতিশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভরভাবে শক্তিশালী করা। দুই. পাশাপাশি আমারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের আলোড়ন, অনুরনন এবং অনুপ্রেরণামূলক কর্মকা- চালিয়ে যাব উদ্যোক্তা এবং পেশাগতভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করার লক্ষ্যে। এছাড়া প্রতিমাসে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়েবনিয়ার, ফেইসবুক ইত্যাদির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে উৎসাহিত এবং  অনুপ্রাণিত রাখবো নিয়মিতভাবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd