ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ২২:১৭:২৯
কর্মসংস্থান বেড়েছে নারায়ণগঞ্জে
অরূপ হাসান


 


মানুষের জীবিকা অর্জনের পথ খুঁজে দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। গত দুই দশকে এ তালিকায় সবাইকে পেছনে ফেলে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জ।
কাজের তাগিদে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে যুক্ত হচ্ছেন কয়েকশ মানুষ। তারা কেন এখানে আসছেন? পরিসংখ্যান বলছে, স্বাভাবিকভাবেই দেশের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে এমন পাঁচটি জেলার মধ্যে অন্যতম হলো নারায়ণগঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে কেন্দ্রীভূত। শিল্পায়নের কারণে এসব জেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর শিল্পের এই কাছাকাছি অবস্থান উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তারা কাছাকাছি অবস্থানের কারণে নানাভাবে সুবিধা পায়।
‘সাউথ এশিয়াজ টার্ন : পলিসিজ টু বুস্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ক্রিয়েট দ্য নেক্সট এক্সপোর্ট পাওয়ার হাউস’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ পায়। প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিশ্বের শ্রমঘন শিল্পের ঠিকানা হওয়ার সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে। কারণ ২০৩০ সালে বিশ্বের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪ ভাগের ১ ভাগ বাস করবে এই অঞ্চলে। তবে চীনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিতে এ অঞ্চলের শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এজন্য শিল্প খাত কাছাকাছি অবস্থানের সুযোগ নিতে পারে।
শিল্পের এই কাছাকাছি অবস্থানকে বিশ্বব্যাংক বলছে ‘অ্যাগলোমারেশন ইকোনমি’। নগরে শিল্প ও মানুষ কাছাকাছি অবস্থান করে। গুচ্ছ শিল্প এলাকায়ও এ চিত্র দেখা যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বেশিরভাগ কর্মসংস্থান নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত। ভারতে সাড়ে ১৮ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রধান পাঁচ জেলায় কেন্দ্রীভূত। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় শিল্পগুলো কেন্দ্রীভূত হয়েছে নগরায়ণের কারণে গুচ্ছভিত্তিক শিল্পের কারণে নয়।
বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের এই কেন্দ্রীভূত অবস্থান নতুন নয়। দুই দশক আগে ১৯৯৫ সালে দেশের ৭০ শতাংশ কর্মসংস্থান পাঁচটি জেলায় সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১২ সালে তা বেড়ে ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান পাঁচ জেলায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
১৯৯৫ সালেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ছিল তিন নম্বরে। এ জেলায় দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কেন্দ্রীভূত ছিল। বর্তমান ২০১২ সালেও অবস্থান তিন নম্বরেই আছে। তবে মোট কর্মসংস্থানের অংশ কিছুটা কমেছে। ১৯৯৫ সালে কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে শীর্ষ পাঁচ জেলার তালিকায় গাজীপুর ছিল না। এখন এ তালিকায় গাজীপুর উঠে এসেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে এক সময়কার শিল্প এলাকা খুলনা তালিকার শীর্ষ পাঁচে নেই।
তৈরি পোশাকসহ নানা ধরনের শিল্পকারখানা রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। শিল্পের এ কেন্দ্রীভূত অবস্থান কীভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে, জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ধরেন- একই খাতে দুটি কারখানা আছে একটি রংপুরে, অন্যটি ঢাকায়। ঢাকার কারখানাটির একজন কারিগরি লোক দরকার, যিনি রংপুরের কারখানায় কাজ করেন। দুটি কারখানা ঢাকার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জে থাকলে ওই কর্মীকে দিয়ে সহজে কাজ করিয়ে নেয়া যেত।
শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণের সঙ্গে এ ধারণা সাংঘর্ষিক কিনা জানতে চাইলে আহসান এইচ মনসুর বলেন, আদর্শিক চিন্তা ও বাস্তবতা ভিন্ন। সারা পৃথিবীতে মানুষ মহানগরগুলোতে বসবাস করে। আমি যদি মনে করি, মানুষকে গ্রামেই রাখব, তারা থাকবে। সেটা বাস্তবতার পরিপন্থী।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd