ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১২:৩২:৪৪
মিয়ানমারের রাখাইন পল্লীতে রোহিঙ্গাদের মানবতা বিপন্ন
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা


 


মিয়ানমারে আরকান রাজ্যে মংডুর রাখাইন পল্লীতে চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও গণগ্রেফতার। যার ফলে আরকানের বসবাসরত ১২ লাখ রোহিঙ্গা চরম আতংকে জীবন কাটাচ্ছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নরনারী শিশু পালিয়েছে গ্রাম ছেড়ে। তারা এ হত্যাকা- ধর্ষণ, নির্যাতন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছে এ দেশে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা।

 

রাখাইন পল্লীতে গত ৯ অক্টোবর গুপ্ত হামলা চালিয়ে ৩টি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ করে ৯ জন সেনাবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে। এর পর থেকে মংডু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হাতিরপাড়া, খিয়ারীপাড়া, মগনামা, নাফপুরা, সিননাই, খাওয়ারবিল, হাদঘরিয়ার পাড়া, নাইচাপ্রু, উত্তর গজুগৌজবিল ও বড় গৌজবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তরক্ষী পুলিশ তা-ব চালিয়ে আরাকান রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনের লক্ষ্যে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নারীদের মা-বাবা ছেলেমেয়েদের সামনে গণধর্ষণ করেছে। ১০ বছরের উপরের পুরুষদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ন্যক্কারজনক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ না করলে অচিরেই আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমশূন্য হয়ে পড়বে বলে কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান।
ওই ক্যাম্পের সেক্রেটারি মো. নুর জানান, রাখাইন পল্লীতে পাখির মতো গুলি করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গা নারী পুরুষ শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে ১০ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা তাদের আত্মীয়স্বজনের ঝুপরিতে আশ্রয় নিয়েছে। ওইসব রোহিঙ্গা অনাহার-অর্ধহারে জীবনযাপন করছে কনকনে শীতের মধ্যে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে না গেলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের নির্মম নির্যাতনের কথা বোঝা যাবে না।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী তারেকুল্লাহ জানান, রোহিঙ্গারা রাখাইন প্রদেশে নির্যাতিত হওয়ার পর এক কাপড়ে নিজের দেশত্যাগ করে ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। একই ক্যাম্পে অবস্থানকারী ৬০ বছর বয়সের রোকিয়া বেগম জানান, তার দুই ছেলে ৪ নাতিকে ফেলে একাই কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের রোপণকৃত ১০ কানি অর্থাৎ ৪ একর জমিনের ধান মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ মগের মাধ্যমে নিয়ে  গেছে। সে জানে না তার ছেলে ও নাতি-নাতনিরা  কোথায় আছে। জীবন বাঁচাতে কোনরকম এ দেশে ১০ দিন পায়ে হেঁটে চলে আসি। তার মতো অসহায় হাজারো রোহিঙ্গা রাখাইন পল্লী ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

 

তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা ফয়সাল আনোয়ার জানান, সে মিয়ানমারের ওপার থেকে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছে তা বলতে গেলে রাখাইন পল্লীর অবস্থা দিনের পর দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা, মহিলাদের ইজ্জত লুন্ঠন, গণ গ্রেফতার, বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং পুরুষদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে মনে হয় মিয়ানমার সরকার রাখাইন পল্লীতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধনের শামিল।

 

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গা যাতে ক্যাম্পে অবস্থান নিতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd