ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৪২:৫৩
আখেরি মোনাজাতে শান্তি ও কল্যাণ কামনা
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রবিবার সকাল ১১টায় আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ১১টা ৩৫ মিনিটে। মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভি। এ সময় তার সঙ্গে কয়েক লাখ মুসল্লি হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদ থেকে হেফাজতের জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা করেন তারা। মুসল্লিদের আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে তুরাগ তীর এলাকায় অন্যরকম ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
 
মোনাজাতের আগে মাওলানা সাদ ছয় উসুলের পাশাপাশি ঈমান ও আমলের ওপর হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। এছাড়া ইসলামের পথে চলার জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। উপস্থিত লোকজন আগ্রহ ভরে তার বক্তব্য শোনেন। বয়ান শেষে শুরু হয় মোনাজাত। মোনাজাত শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই লাখো মুসল্লির কলরব থেমে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।
 
এর আগে শীতকে উপেক্ষা করে মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে থাকে লাখ লাখ মুসল্লি। মানুষের ভিড়ে রেডিসন, কুড়িল ফ্লাইওভার, খিলক্ষেত, উত্তরা, জসিমউদ্দীন, আবদুল্লাহপুর, চৌরাস্তা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল শিথিলতা করা হয়েছে। যানবাহন না পেয়ে অধিকাংশ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই রওনা হন।
 
সকাল সাড়ে নয়টার আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ময়দানে জায়গা না পেয়ে লাখ লাখ মুসল্লি অবস্থান নেয় উত্তরা, আজমপুরসহ আশপাশের সড়কগুলোতে। মাঠ, পথ, বাড়ির ছাদ, তুরাগের দুই তীর, নৌকা, যানবাহনসহ যে যেখানে পেরেছেন মোনাজাতে শরিক হয়েছেন।
 
আরবি ও উর্দুতে মাওলানা সাদের মোনাজাতের সঙ্গে মুসল্লিরা হাত তুলে ‘আমিন’, ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনি তোলেন। তাদের কান্নায় ‘কহরদরিয়া’ হিসেবে পরিচিত তুরাগ তীরসহ আশপাশের এলাকায় অন্যরকম ধর্মীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ধ্বনি।প্রায় আধা ঘণ্টার মোনাজাতে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি কামনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি, সংহতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। কয়েক হাজার বিদেশিসহ প্রায় ৩০ লাখ মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি মোনাজাত সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে মোনাজাতে শরিক হন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত সুবিধার জন্য শাটল বাস ও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা।
 
গত শুক্রবার শুরু হয় এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব। ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের কয়েক হাজার মানুষ ইজতেমায় অংশ নেন। আগামী ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে। শেষ হবে ২২ জানুয়ারি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd