ঢাকা : বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত : প্রধানমন্ত্রী          ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে
printer
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৩৯:০৩আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৮:১১:০৪
বিশ্ব শান্তি কামনা ও জঙ্গীদের সুপথে ফিরে আসার আহ্বান
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
টঙ্গী সংবাদদাতা


 


আখেরি মোনাজাতে সারা দুনিয়ার কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি এবং বিপদগামী অর্থাৎ মুসলিম সম্প্রদায়ের জঙ্গীদের সুপথে ফিরে আসা ও গোনা মাফ চাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্ব তাবলীগ জামায়াত আয়োজিত এটি ছিল ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা। এতে সারা দুনিয়ার তাবলীগ ভক্ত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীসহ বাংলাদেশের লাখো লাখো মুসল্লী অংশ নেন। ১১টা ১৫মিনি থেকে ১১টা ৪৭মিনিট পর্যন্ত ৩২মিনি দ্বিতীয় ধাপে মোনাজাতও পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলীগ জামায়াত দিল্লীর মারকাজের সর্বোচ্চ মুরুব্বী হযরত মাওলানা সা’দ। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুণাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করতে আল্লাহর দরবারে রহমত চেয়ে প্রার্থনা করেন ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তাদের অশ্র“ভেজা কান্না আর আমিন, আমিন ধ্বনিতে কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ তীরসহ আশপাশ এলাকায় বিরাজ করে পুণ্যভূমির আদলে এক অভূতপূর্ণ ধর্মীয় আমেজ।
মোনাজাতে দিল্লীর হযরত মাওলানা সা’দ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে দ্বীনের ওপর সবাই যেন মেহনত করে চলতে পারে সে দোয়া করেন। এছাড়া দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে মানুষকে হেফাজত করতে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রহমত কামনা করেন। তার সঙ্গে দুহাত তুলে আমিন আল্লাহুমা আমিন ধ্বনি তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা ও শিশুসহ লাখো লাখো মুসল্লিরা। অশ্র“সিক্ত মুসল্লিরা নিজের গুণাহ মাফ চেয়ে মহান আল্লার কাছে কান্নাকাটি করে দু’হাত তুলে দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি কামনা করেন।
এর আগে গতকাল রবিবার ভোর থেকে শুরু হয় দিক-নির্দেশনামূলক হেদায়েতী বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ ইসলামের পথে বের হয়ে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশিত সঠিক পথে চলার জন্য মুসল্লিদের উদ্দেশ্য পর্যায়ক্রমে বয়ান করেন। ২০ জানুয়ারী শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব। তিনদিনব্যাপী এ পর্বেও ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে বুজুর্গ আলেমগণ পালাক্রমে নিজ নিজ ভাষায় বয়ান করেন। উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে করা এসব বয়ান বাংলা, ইংরেজী, উর্দু ও হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানো হয়। লাখো লাখো মুসল্লী টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে সুবিশাল চটের তীরে সামিয়ানার নিচে বসে বয়ান শুনেন এবং একমাত্র রাব্বুল আল আমিন দুনিয়া ও আখেরাতের মালিক ও শান্তি ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভে মনোনিবেশে মনোযোগি থাকেন।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে হেদায়েতি বয়ান শুরু করেন মাওলানা সাদ। বয়ান শেষে সকাল ১১টা ১৫মিনিট থেকে ১১টা ৪৭মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের সময় বিশাল জনসমুদ্রে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা পরিলক্ষীত হয়। যে যেখানে ছিলেন, সেখানেই দাঁড়িয়েই কিংবা বসে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। দু’হাত তুলে এসময় কান্নায় বুক ভাসান মুসল্লিরা।
মোনাজাতে মাওলানা সাদ প্রথম কয়েক মিনিট পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষের দিকে দোয়া করেন উর্দু ভাষায়। মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ একসঙ্গে হাত তোলে ইজতেমা ময়দানের লাখো মুসল্লীর সাথে দোয়ায় শরীক হতে দেখা যায়।
এদিকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আয়োজনে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় এই বৃহত্তম মহাসমাবেশের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। আর রবিবার ভোরে শীতকে উপেক্ষা করে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার লোকজন রওনা হন ইজতেমা ময়দানের দিকে। সকাল সাড়ে আটটার আগেই ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকার সড়ক-মহাসড়ক, অলি-গলি ও খালি জায়গায় মুসল্লিদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ইজতেমা এলাকা। মূল ইজতেমা ময়দান ছাপিয়ে পুরো টঙ্গী শিল্প এলাকাসহ চারদিকে ৫/৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা এসময় এক মানব বলয়ে পরিণত হয়।
ইজতেমাস্থলে পৌঁছতে না পেরে অনেক মুসল্লি আখেরি মোনাজাতের জন্য খবরের কাগজ, পাটি, বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে কামাড়পাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং অলি-গলিসহ বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেন। নানা বয়সী বিভিন্ন পেশার মানুষের পাশাপাশি নারীদেরও মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়। এমনকি বাসা-বাড়ি ও কারখানার ছাদ, নৌকা, বাসের ছাদ, ফুটওভার ব্রিজসহ যে যেখানে পেরেছেন সেখানে বসেই দুই হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
আখেরী মোনাজাতে দিল্লীর মাওলানা সা’দ বাংলাদেশসহ বিশ্ব ও বিশ্ব মুসলীম উম্মার ঐক্য, শান্তি, কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। তিনি ইসলাম ধর্মের নামে যারা জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত তাদেরকে বিপদগামী উল্লেখ করে ভুল পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও সুহার্ধের ধর্ম। এতে মানুষ হত্যা ও জঙ্গী তৎপরতার স্থান নেই। ইসলাম ওইসব তৎপরতা সমর্থন করে না। তিনি এসব অপতৎপরতা পরিত্যাগ করে ইবাদত বন্দেগী, দাওয়াত ও ভ্রাতিত্ব বন্ধনের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার, প্রসার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম কায়েম করার আহ্বান জানান।
গতকাল আখেরী মোনাজাতে উপস্থিত তাবলীগ বক্ত লাখো লাখো মুসল্লী ছাড়াও ঢাকা, টঙ্গী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্লী অংশ নেন। তারা দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে ট্রেনে ও নৌপথে ইজতেমাস্থলে পৌঁছান। ভোর থেকে মোনাজাত পর্যন্ত এ আশা অব্যাহত ছিল। এছাড়া শনিবার রাত পর্যন্ত ও দেশি বিদেশী মুসল্লীদের তুরাগ তীরে আসা অব্যাহত ছিল। আখেরী মোনাজাতে অংশ নেয়ার জন্য গতকাল সকাল থেকে মুসল্লীরা সামিয়ানার নিচে ঠাই না পেয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক, আব্দুল্লাহপুর আশুলিয়া সড়ক, ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের সবকটি পথ দখল করে বসতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে এপথ উপচে মুসল্লীরা দখল করে নেন আশপাশের অলিগলি, আঙ্গিনা, বিভিন্ন দালানের ছাঁদ, মিলকারখানার অভ্যন্তরে এবং খোলা মাঠ পরিণত হয় এক পুণ্য নগরীতে এ যেন এক অভূতপূর্ব শান্তির দৃশ্য। নদী পথেও বিভিন্ন নৌজান, সড়ক পথে ট্রেন এবং বিভিন্ন যানবাহনে বসেও মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা।
মুসল্লীদের বাড়ি ফেরায় চরম দুর্ভোগ ঃ
মোনাজাত শেষে লাখো মুসল্লী তাদের নিজস্ব গন্তব্যে যেতে যানবাহন সংঙ্কটে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। মোনাজাত শেষে লাখ লাখ মুসল্লী ইজতেমা ময়দান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে স্রোতের মতো এক সাথে ফিরতে শুরু করলে এক পর্যায়ে ময়দানের চতুর দিকে ৬/৭ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকায় মানব বলয় সৃষ্টি হয়। এসব এলাকার সকল রাস্তায় এক পর্যায়ে মুসল্লীদের বাড়ি ফেরার কাফেলায় পরিণত হতে দেখা যায়। রাস্তায় মুসল্লীর বাড়ি ফেরার স্রোতে কোন যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় মুসল্লীরা পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়।
ঘর ফিরতি মুসল্লীরা ইজতেমা ময়দানের চারদিকে ৫/৬বর্গ কিলোমিটার এলাকা সমূহের সড়ক-মহাসড়কে যানচলাচল না থাকায় মুসল্লীরা চরম যানবাহন সঙ্কটে পড়েন। নিরুপায় হয়ে মুসল্লীরা স্থানীয় ট্রাক ট্রার্মিনাল থেকে ট্রাক ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে যার যার গন্তব্যে ফিরতে দেখা যায়।
মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ ঃ
দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্ল¬ীও আগের দিন রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশেপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসা-বাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ইজতেমায় মহিলাদের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকায় যে যেখানে পেড়েছেন সেখানে বসেই লাখো মুসল্লীর সাথে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
টিভি চ্যানেল ও মোবাইলের মাধ্যমে মোনাজাত ঃ
আখেরী মোনাজাতের সময় বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও মোবাইলের মাধ্যমে লাখ লাখ নারী-পুরুষ, ও শিশু টিভির সামনে বসে এক কাতারে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়।
মানব বলয় ঃ
দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ইজতেমার তিন দিনব্যাপী ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন রোববার ভোর থেকেই আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জীপ, কার এবং নৌকাসহ নানা ধরনের যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটেই ইজতেমা ময়দানে পৌঁছেন। এছাড়া ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানের দক্ষিণে খিলক্ষেত, ঢাকার বিশ্বরোড থেকে উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে পূবাইল, পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত রিকসাসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ইজতেমা অভিমুখে ছুটতে থাকে মুসল্লীদের কাফেলা। এতে তুরাগের তীরকে কেন্দ্র করে কয়েক বর্গকিলোমিটার জুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল মানব বলয় সৃষ্টি হয়। এতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঃ
এবারের দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুই ভাগে প্রায় ১২ হাজারের অধিক পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন সাদা পোষাকী গোয়েন্দা পুলিশ। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল, নৌ-পথে স্পীড বোটে সতর্ক টহল ও নজরদারীও ছিল। আকাশ ও নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথগুলোতে খালি চোখ ছাড়াও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনোকুলার দিয়ে মুসল্লীসহ সকলের চলার পথ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থাপিত র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আল্লাহর বিশেষ রহমতে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সফল ও সুন্দর ভাবে সুসম্পন্ন হওয়ায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বিদেশী মুসল্লীদের জন্য তাশকিল কামরা ঃ
ইজতেমা ময়দানের উত্তর পশ্চিম কর্ণারে করা হয়েছে বিদেশী মুসল্লীদের অবস্থানের জন্য তাশকিলের কামরা। ময়দানের খিত্তাগুলো থেকে চিল্ল¬ায় নাম লেখানো ধর্মপ্রাণ মুসল্ল¬ীদের জামাতবন্দী করে তাশকিলের কামরায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। আখেরী মোনাজাত শেষে এসব মুসল্ল¬ীগণ জামাতবন্দী হয়ে ৩তিন ময়দানেই অবস্থান করবেন। পরে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে গিয়ে রিপোর্ট করে তাবলীগের মুরুব্বীদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী জামাতবন্দী হয়ে দ্বীনের দাওয়াতী মেহনতে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বেন। এসব জামাতবন্দী মুসল্লীদের মধ্যে ৪০দিন, ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও আজীবন চিল্লাধারী মুসল্ল¬ীগণ রয়েছেন। তারা বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাওয়াতি কাজে দ্বীন ও ইসলামের মেহনত করবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম ঢাকার কাকরাইলে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৬সালে টঙ্গীর পাগাড় নামকস্থানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে বর্তমান টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরের ১৬০ একর এলাকা বিস্তৃত বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে স্থায়ীভাবে এই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসভে।
তাবলিক জামাতের আয়োজনে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১৩ জানুয়ারী থেকে ১৫ জানুয়ারী ও চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারী দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়। প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা দেশের ১৬টি জেলার মুসল্লীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ১৭টি জেলার মুসল্লীরা অংশ নেন। এছাড়াও দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় সহস্রাধিক বিদেশী মুসল্লী অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার ২২ জানুয়ারী দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd