ঢাকা : বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৫৫:৫০
হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস ঐতিহ্যের দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা
এম এ রহিম (বেনাপোল) যশোর


 


কালের বিবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস ঐতিহ্যের স্বারক বেনাপোলের অনেক দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা। বেদখল হচ্ছে দেবত্তর সম্পত্তি সহ সরকারি অনেক ভবন। সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে ও বেদখল হচ্ছে বেনাপোল দীঘির পাড় পাচপুকুর, ছোটআচড়া দীঘি,জিউ মন্দির,বেনাপোল পাঠবাড়ী আশ্রমের সম্পত্তি। জমিদার সূর্যকান্ত রায় চৌধুরীর স্ত্রী অম্বোজ বাসিনী চৌধুরীর নামে দেওয়া বেনাপোলের দেবত্তর অধিকাংশ সম্পত্তি-বেদখল হয়ে গেছে। নিরব রয়েছেন প্রশাসন। দেবত্তর সম্পত্তি দখলে নিয়ে উপকৃত হচ্ছে প্রভাবশালীরা। নির্মান করছেন অট্টালিকা। হারাচ্ছে শ্যামাপতি জিউ মহাদেব মন্দিরের ইতিহাস ঔতিহ্য ও সাংস্কৃতি। বেদখল হয়ে যাচ্ছে বিশাল দিঘীটি। দীঘির চারিপাশে সু উচ্ছ অট্টালিকা ভবন নির্মানের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সম্পত্তি রক্ষায় আতংকেও উৎকন্ঠায় রয়েছেন সম্পত্তির বর্তমান সেবায়েত শান্তিপদ গাঙ্গুলী সহ পরিবারের সদস্যরা। প্রতিকার চান এলাকাবাসি সহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বেনাপোলের সন্তশ কুমার শীল বলেন, এক সময়ে মন্দিরটি দেখতে দেশ বিদেশ থেকে আসত পর্যটক সহ দর্শনার্থী। সুনাম ছিল জমিদার সূর্যকান্তরায় চৌধুরীর শাষনামলের কৃষ্টি কালচারের-আজ অনেক কিছুই দখলদারদের কবলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বিলিন হযে গেছে কাচারী,বসতবাড়ী সহ অনেক স্থাপনা। প্রতিকার চান তারা।         
স্থানীয়রা বলেন-নামে বেনামে চলছে দখল। সেবায়েতের কারসাজি সহ প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে সম্মত্তি বেহাত হচ্ছে বলে জানান তারা।  
মন্দিরের পরিচার্য্যাকারী নারী-জ্যোৎ¯œা চক্রবর্তী-ও তমালিকা চক্রবর্তী বলেন, বহিরাগতদের ভয়ে সব সময় আতংকে থাকত ব্রান্মনরা-বাহিরে যেতে ভয় ছিল তাদের-হুমকিস ধুমকীতে থেকেছেন তারা। তবে এখন কিছুটা কমেছে আতংক।           
বর্তমান সেবায়েত শান্তিপদ গাঙ্গুলী জানান, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর লর্ডক্লাইভের শাষনামলের সময়ে দেশ বিভাগের পর ভারতের টাকি হাসনাবাদ বশিরহাট থেকে আসা জমিদার সূর্য্যকান্ত রায় চৌধুরী যশোরের শার্শার ডিহি,বেনাপোল কাগজপুকুর, ভবেরবেড়, ছোটআচড়া এবং সাতক্ষিরার দেবহাটা কলারোয়ার এলাকায় প্রায় ৫ হাজার একর সম্পত্তির দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ১৯২৬ সালে তার স্ত্রী অম্বোজ বাসিনী চৌধুরীর নামে ২৮৫ একর সম্পত্তি পাট্টামূলে হস্তান্তর করেন। স্ত্রী বেনাপোল ছোটআচড়া গ্রামে ৩১ একর ৬৮ শতাংশ সম্পত্তির উপর শ্যামাপতি জিউ মহাদেব মন্দির, পাশে ১০ একর সম্পত্তিকে দিঘি,বেনাপোল ভবেরবের মৌজায় পাঠবাড়ী আশ্রম, বেনাপোল বাজার, শিক্ষা স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতি সহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলেন এবং  ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন তিনি। পাক সরকারের শাষনামলে১৯৫৮সালে৩১.৬৮একর সম্পত্তি সহ শিববিগ্রহটি (শ্যামাপতি জিউ মহাদেব) মন্দিরটি ঈশ্বর গিরীন্দ্র গাঙ্গলীর নামে হস্তান্তর করেন। বংশ পরম পরায় বর্তমানে তার পুত্র শান্তিপদ গাঙ্গলী সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বেদখল হয়ে গেছে অধিকাংশ দেবত্তর সম্মত্তি। খুড়িয়ে ও কষ্টে চলছে সেবায়েত পরিবারের জীবন জিবিকা-মন্দিরটির চারিপাশ নষ্ট হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
বেনাপোল ছোট আচড়া-শ্যামাপতি জিউ মহাদেব মন্দির-সেবায়েত  শ্রী শান্তিপদ গাঙ্গলী বলেন, বেনাপোল ছোট আচড়া মৌজায় দেবউত্তর সম্মত্তি বেদখল হচ্ছে। অনেক সম্মত্তি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে বেনাপোল বাজারের খাজনা পেত তারা। ১৯৮৩সালে যশোর হাইকোটে বেনাপোল বাজার খাস খতিয়নে অন্তভুক্তির করে প্রতিষ্টানের অনুকুলে ক্ষতিপূরনের নির্দেশনা দেয়। আজও কোন ক্ষতিপূরন পায়নি তারা। ক্ষতিপূরন পেলে মন্দিরটি পূন নির্মান সহ দৃষ্টি নন্দন অনেক স্থাপনা করে এলাকার ঐতহ্য আরো অনেক উজ্বল করতেন বলে জানান তিনি। বছরের অনেক উৎসব কষ্ট করে করেন স্থানীয়রা।
বেনাপোল সহকারি ভুমি কর্মকর্তা-আবু সাইদ মোল্লা বলেন, বেনাপোল এলাকায় ১৭৮.৫৪একর খাস সম্পত্তি রয়েছে। তবে ১৫৪.৫৭ একর সম্পত্তি বন্দবস্ত দেওয়া হয়েছে। বেনাপোল পৌর এলাকার ছোট আচড়া মৌজায় দেবত্তর সম্পত্তি বেদখলের কথা স্বিকার করে বলেন-বাস্তবতার নিরিখে কেহ অভিযোগ দিলে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনাপোলের এক বৃদ্ধা বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে সব। বেনাপোল পাঠবাড়ী দেশের মধ্যে একটি অন্যতম স্থাপনায় রুপ নিলেও চারি পাশের সম্পত্তি বেদখলে রয়েছে। বার বার উদ্যোগ গ্রহন করা হলেও বিশেষ ইশারায় থমকে যায়। ভ’য়া ডিসিয়ারে অধিকাংশ বেদখল হয়ে গেছে দিঘিরপাড় পাচপুকুর। সরকারি সম্পত্তি দখল মুক্ত করে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা সহ ভুমিহীনদের মধ্যে বন্ধবস্ত সহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd