ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:১৫:৫৬আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২৫:১৬
জলাভূমিকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প বিকাশের হাতছানি
অরূপ হাসান


 


দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের নৌ-ভ্রমণও হতে পারে পর্যটনশিল্প বিকাশের অন্যতম উপকরণ। বিশ্বের অনেক দেশে জলাভূমিকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হলেও অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়টি গুরুত্বহীন।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, দেশের অনেক নদী ও জলাভূমি অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করে সেগুলি সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাহমান করা গেলে এবং আধুনিক আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে তাতে পর্যটনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল লিমিটেড (পিএটিএল) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে বিশেষ করে ইউরোপের যেসব পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন তাদের বেশির ভাগই নদী পথে সুন্দরবন ভ্রমণে যান। সে সময় যাত্রাপথেই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোয় বিরতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সরকারি পর্যায় থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা গেলে নদী তীরবর্তী লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে নদীকেন্দ্রিক যে ইকো-ট্যুরিজম পরিচালিত হচ্ছে তা মূলত সুন্দরবনকেন্দ্রিক ফরেস্ট সাফারি ট্রিপ। পাশাপাশি অল্প পরিসরে ঢাকাকেন্দ্রিক নৌ ট্রিপ ও চট্টগ্রাম এবং খুলনায় কিছু অনিয়মিত রকেট স্টিমার ট্রিপ রয়েছে। তবে সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। মূলত নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়া, পর্যটন জাহাজের স্বল্পতা ও নদী পথে নিরাপত্তার অভাবেই এটা সেভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। তবে রাজধানীর হাতিরঝিলে চালু করা স্বল্প দূরত্বের নৌ-ভ্রমণ ইতিমধ্যেই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পর্যটন ও অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এম মোরশেদুল ইসলাম বলেন, গোটা বিশ্বই এখন নদীকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যটনশিল্প বিকাশে এটি অন্যতম নিয়ামক। অথচ নদীমাতৃক দেশ হয়েও বাংলাদেশে বিকাশ হচ্ছে না সম্ভাবনাময় এই খাতটির। বরং অবৈধ দখল ও পরিকল্পনাহীনতায় নৌপথগুলো ছোট হয়ে আসছে। নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সর্বোপরি দূষণের কারণেও পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জিয়াউল কবির বলেন, জলাভূমিকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা না গেলে দেশের নদী ও জলাভূমিগুলো অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা পাবে না। এসব রক্ষা করা গেলে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের বাহন নৌকা ভ্রমণও শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান নদীগুলো সংস্কার করে আনুষঙ্গিক অতিপ্রয়োজনীয় কিছু অবকাঠামো তৈরি করা গেলে শুধুমাত্র নদীকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম দিয়েই মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে এ খাতে সৃষ্টি হবে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দেশে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ থাকলেও বর্তমানে তা ছয় হাজার কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় মিলে বাংলাদেশে নদ-নদীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এর অন্যতম। এসব নদীর পাড় ঘেঁষে আছে অসংখ্য গ্রাম, হাট-বাজার, কৃষি জমি ও লোকজ ঐতিহ্য, যা দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সক্ষম।  তাই এ খাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, ঐতিহ্যের এই নৌকাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে ইকো-ট্যুরিজমের দুয়ার খুলবে না।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd