ঢাকা : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৩০:২৮
গ্যাসের দাম, ভর্তুকি এবং সৌদি আরব
করীম রেজা


 


বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। জনবাহুল্যের কারণে অনিবার্যরূপেই ঘটনাবহুল। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটে আরেকটি ঘটনা। গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১৫-এর পর মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে দাম বাড়লো। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দাম কম ছিল তাই বেড়েছে। কীভাবে, কেন দাম কম ছিল তিনি নিশ্চয়ই তা খোলাসা করবেন। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সাফাই গাইতে গিয়ে আগাম ভয় দেখালেন বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন। দুই মন্ত্রীই সোজা কথা বলার মানুষ। অনুমান করি, এ ঘটনাও খুব দ্রুতই জনচক্ষুর আড়াল হয়ে যাবে অন্য আরেকটি ঘটনার চমক ও গুরুত্বে।

 

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের জন-আকাংক্ষার কথা মনে রাখলে বুঝতে হবে বাঙালির মননে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা ছিল। রাষ্ট্রের ব্যবধান-সৃজনমূলক কর্মকান্ড থেকে পরিস্কার হয় যে, রাষ্ট্র পরিচালকেরা সে ধারণা পোষণ-ধারণ মোটেই করেন না। কল্যাণমূলক সমাজব্যবস্থার বিষয় বাংলাদেশে শুধু কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ। জনকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় না রেখেই আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হল। দাম দুদফায় অল্প অল্প করে বাড়বে। যাতে জনগণের পেটে ও পিঠে সয়ে যায়। খুব বেশিদিন হয়নি একবার দাম বাড়ানো হয়েছে। সিপিবি এবং বাসদ বিক্ষোভ করে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আপত্তি জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও। বিএনপিও এতে সায় জানিয়েছে।

 

তবে এখানে কথা আছে, গ্যাসের দাম সরকার বাড়ায়নি। সরকার নির্দোষ, নিরীহ এবং জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে নিরূপায়। বাড়িয়েছে বিইআরসি বা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন  (এই ভাষার মাসে জনান্তিকে বলে রাখা ভাল যে, এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম বিদেশি ভাষায়। তবে নাম বাংলা হলেও কাজে কোন অসুবিধা হতো না। যেহেতু তাদের কাজ জনসাধারণের অসুবিধা করে সুবিধাবাদীদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। এখানে বিদেশিদের উপর তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ, খবরদারি বা কর্তৃত্ব নেই। তবুও তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলা ভাষায় নয়)।

 

কথা আরও আছে, তারা আবার নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায় না। তাদের কিছু কঠিন এবং বিশ্বমানের আইনকানুন আছে। সেগুলো তারা কঠোরভাবে মেনেই জ্বালানির দাম বাড়ায়। এখানে সরকারের কিছু করণীয় নেই, সরকারের হাত-পা বাঁধা। তাহলে মন্ত্রীবাহাদুরগণ কেন এ বিষয়ে কথা বলেন? বিইআরসির ড. সেলিম মাহমুদ এবং অন্যরাতো আছেনই কথা বলার জন্য।

 

বিইআরসির পক্ষে যখন কথা বলা হয়, বিশেষ করে সেলিম মাহমুদ, তিনি বিস্তর তথ্য-উপাত্ত, দেশ-বিদেশের নানারকম আইনকানুনের ফিরিস্তি দিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি নিজেদের সাংবিধানিক অবস্থানও পরিস্কার করে বুঝিয়ে দিতে কসুর করেন না। আইনি বাধ্যবাধকতার জন্য তারা গণশুনানি করেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের যুক্তিতর্ক শোনেন। এরপর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। বলাই বাহুল্য, ওই সিদ্ধান্ত কখনো জনস্বার্থের পক্ষে গিয়েছে এমন কথা কোনো নিন্দুকও বলবেন না। তাদের কাছে সরকার বা জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির আবদার জানানো হয়। তারা ভোক্তাদের কথাও শোনেন। মজার বিষয় হলো আবেদনকারী কখনই তাদের পক্ষে কোনও জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছেন, এমন জানা না গেলেও বিইআরসি সবসময়েই আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে। পরে গণমাধ্যমে  সাফাই গাইতে গিয়ে গোলমেলে কথাবার্তা বলে বিষয়টি আরও ঘোলা করে ছেড়েছে। জনগণের ঘাড়ে মূল্যের বোঝা আরও শক্ত করেই চাপিয়েছে। এবারও তাই হবে। তারা আবার জনসাধারণকে খুব বোকা ভাবে, আছে সমবেদনাও। বোকা না ভাবলে তারা কী করে বলেন, সামান্য দাম বাড়িয়েছেন এবং তা যাতে জনগণের উপর খুব চাপ সৃষ্টি না করে সেজন্য দুই স্তরে তা কার্যকর হবে। কতদিনের ব্যবধান এই দুই স্তরে? মাত্র তিন মাসের। তারা জানেন এই তিন মাসের মধ্যে এই দাম বৃদ্ধি গা সওয়া হয়ে যাবে। কদিন সামান্য হই-চই হবে, একসময় তা থেমেও যাবে। ভোক্তা হিসাবে বিইআরসির কাছে দাম কমানোর আবেদন করা যাবে কিনা জানি না। করলে তার  আবদেন গ্রহণ ও গণশুনানি তারা করবেন কিনা! কিংবা অতীতে এমন নজির আছে কিনা বা বিইআরসির আইন তা সমর্থন করে কিনা, সবই অজ্ঞাত।

 

রাজনৈতিক দলগুলো কিছুদিন গরম গরম বক্তৃতা বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবে। তারপর বোঝাখানি জনগণকেই বয়ে বেড়াতে হবে। বাম জোটসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল মঙ্গলবার অর্ধবেলা হরতাল পালন করবে ঢাকা শহরে; আর সারা দেশে বিক্ষোভ দেখাবে। বিরোধীদল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, জানাতে হবে তাই। অন্যদিকে বিএনপি তাদের মতামত দিয়েছে যেমন সবসময় তারা দিয়ে থাকে, সেই ভঙ্গিতেই। অনুমান করা যায়, এসব বক্তৃতা-বিবৃতিতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাস্তায় নেমে জনগণের দুর্দশার কথা সরকারকে জানানোর, বোঝানোর মত কোন প্রতিষ্ঠান  নেই। সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে কারণ রাষ্ট্রের পক্ষে আইন আছে। সরকারকে বোঝাবার জন্য তার চারপাশে লোকের অভাব নেই। অভাব যেটুকু তা হচ্ছে সেই বলতে পারার দলে জনগণের দুর্ভোগের প্রকৃত কথা বলার কেউ নেই। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কম থাকলেও দেশবাসী অধিক দামে তেল এবং বিদ্যুৎ কিনেছেন এবং এখনও কিনছেন, কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একপর্যায়ে বলা হলো, এই অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ সমন্বয় করা হবে। কোথায় কিভাবে কখন সমন্বয় করা হবে বা আদৌ হয়েছে কিনা সে তথ্য আজও গোপন নথিভুক্ত। জনতার টাকার শ্রাদ্ধ কে করল তা জনতার অজানাই রয়ে গেল। মাঝখানে পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে গেল জনগণের।

 

২৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারের গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। কারণ দিন দিন তৈরি পোশাকের বাজারদর নিম্নমুখী হচ্ছে। এখন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে; ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে। মোট উৎপাদিত গ্যাসের শতকরা ৪০ ভাগ ববহৃত হয় বিদ্যুৎ উদপাদনে। এ খাতে ৩৪ ভাগ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক গুণ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার মাত্র ১৩ শতাংশ গ্যাস, পরিবহন খাতে শতকরা ৬ ভাগ আর সার কারখানায় যায় মোট গ্যাসের ৬.৫ এবং শিল্পখাতে ১৭ ভাগ। সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম বাড়বে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে পরিবহনসহ নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম। নাভিশ্বাস উঠবে সাধারণ মানুষের। এই সাধারণ মানুষ একবারেই সাধারণ। তার না আছে বাড়ি, না আছে গাড়ি বা শিল্প বা কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাকে প্রতিদিন বাসে উঠতে হবে, অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে পকেট হালকা হবে। তার নিজের বাড়ি নেই, ভাড়া বাড়ির মালিক বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের বাড়তি বিল ধরিয়ে দেবেন। এই সুযোগে বাড়িভাড়া বেড়ে বাড়িওয়ালার পকেট ভারি হলেও ভাড়াটিয়ার পকেট শূন্যতর হবে।
বলা হয়ে থাকে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এটা আনন্দ ও গৌরবের। তলাহীন ঝুড়ি যদি উপচে ওঠে তাতে কার না খুশি লাগবে! তাই বলে কি বার বার ক্রয় সামর্থ বেড়েছে এই দোহাই পেড়ে দাম বাড়িয়ে মানুষের সামর্থ কমিয়ে দিতে হবে? ভর্তুকি দেওয়ার দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের। জনগণের সুবিধার জন্য রাষ্ট্র ভর্তুকি দেবে, এটাই বাস্তবতা। এই ব্যবস্থা রহিত করতে হবে, এই কথাতো বাংলাদেশ তথা মাননীয় শেখ হাসিনার সরকারের হতে পারে না। বিশ্বব্যাংক বা অপরাপর বহুজাতিক কোম্পানির গলার আওয়াজ আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মুখে কেন থাকবে? ভর্তুকি দেওয়া যাবে না কোন দেশের আইনে এমন কথা লেখা নেই।

 

সৌদি আরব একটি অতি ধনী রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের জনগণও ধনী। আমাদের দেশের প্রচুর লোকজন সেদেশে আছেন কর্মজীবী হিসেবে। সেই দেশের জনগণকে সরকার কোনও রকম ভর্তুকি দেবে এ যে একবারে অবাস্তব ও অকল্পনীয়। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ উল্টো। সে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য রুটি। এই রুটি তৈরির উপাদান গম। গমের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য যাই থাক- সৌদি আরবের সর্বত্র এক রিয়েল মূল্যে চারটি লাল আটার রুটি কেনা যায়। অন্যদিকে ময়দা বা সাদা আটার রুটি তুলনামূলক কম দামে ক্ষেত্রবিশেষে ৫/৬টি কেনা যায় এক সৌদি রিয়েলে। সেখানে লাল আটার দাম বেশি। তো আমরা কেন আমাদের জনগণকে ভর্তুকি দিতে পারব না? অন্যের চোখ রাঙানির ভয়ে আমার দেশের মানুষ কেন কষ্ট পাবে? যারা এ বিষয়ে জোর গলায় কথা বলে, খতিয়ে দেখা দরকার বর্ষার ব্যাঙের মত তাদের গলায় সময়ে সময়ে এত জোর কোত্থেকে কিভাবে আসে?

 

বাঙালি সাত চড়ে রা কাড়ে না। বোঝার উপর শাকের আটি দিলেও ভারবাহী গাধার মতই তা প্রাণপণ বয়ে নিতে চেষ্টা করে। যে গ্যাসের জন্য তাকে অধিক মূল্য দিতে হবে, তার সঠিক সরবরাহ পাওয়ার অধিকার তার আছে, এটা নিশ্চয়ই সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন। তাহলে যেখানে গ্যাস নিয়মিত পাওয়া যায় না, অথবা গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় এতই কম যা কোন কাজেই লাগে না, তার জন্য গ্রাহক কেন মূল্য দেবেন? তারপর আবার মূল্যবৃদ্ধি, কোন নীতির আওতায় এসব বিবেচনা করা হবে? ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব কিংবা বনানী-বারিধারা-উত্তরা আবাসিক এলাকার মত জায়গায়ই গ্যাসের চাপ অপ্রতুল সেখানে আমরা দেশের অন্যান্য জায়গার অবস্থার কথা সহজেই ভাবতে পারি। বোতলজাত গ্যাস কিনে অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ দৈনন্দিন বেঁচে থাকার জন্য। নিকট অতীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার গৃহিণীরা রাস্তায় নেমে গ্যাসের সুষ্ঠু সরবরাহের দাবিতে মিছিল পর্যন্ত করেছেন। বাস্তবে অবস্থার কোন উন্নতি না ঘটিয়ে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো মড়ার উপর খাড়ার ঘা-এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও সারের দাম বাড়বে। অর্থাৎ কৃষির উৎপাদন ব্যয় ও খরচ দুটোই বাড়বে, সাথে যোগ হবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পরিবহন খরচ। এমনিতেই কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য উৎপাদন খরচের চেয়েও কম মূল্যে বিক্রি করছে। কৃষকের দুরবস্থা আরও করুণতর হবে।

 

গ্যাস ১০০% দেশি সম্পদ। দেশীয় পণ্য সাশ্রয়ীমূল্যে দেশের মানুষ ব্যবহার করবে। ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এইটুকু অধিকার আছে। কিন্তু বার বার নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে বিদেশি জিনিসের মত আক্রা বানিয়ে দেশের মানুষকে দুর্দশাগ্রস্ত করা হচ্ছে। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন, সঞ্চালন এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ২২ হাজার কোটি টাকার অলস তহবিল অব্যবহৃত, তারপরও গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে কেন? আসলে বহুজাতিক কোম্পানির ভবিষ্যৎ বাজার স্বার্থের ১০০ ভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এরকম জনবান্ধব-বিরোধী সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে অদূর ভবিষ্যতে আমদানিকৃত তরল গ্যাস উচ্চমূল্যে বিক্রির বাজার তৈরি করাই এই দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। এক শ্রেণীর দেশীয় কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার শুরুতে আমরা দেখেছি দলীয় ও সরকারের লোকজন প্রায়ই বলতেন যে, প্রশাসনের সর্বত্র ঘাপটি মেরে আত্মগোপন করে আছে জামায়াত বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির লোকজন। যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার নিরন্তর চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করছে। এমনকি তারা ভোল পাল্টে দলের ভিতরে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগের  সমর্থক সেজে সরকারের ও দলের কর্মসূচি বানচাল করার প্রয়াস পাচ্ছে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে এইসব কথার সত্যতা ও প্রমাণও দেখেছি। আজকের এই রকম সব জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পিছনে সেই অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে কিনা, এমন সন্দেহ অমূলক নয়। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত-সরকার এবং জনগণকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না, বিশেষ করে এই কল্যাণকামী রাষ্ট্রে। দেশের মানুষ আশা করে অন্তত বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মানুষের দুঃখকষ্ট কমবে বৈ বাড়বে না।
লেখক : কবি ও শিক্ষাবিদ, karimreza9@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd