ঢাকা : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১২ মার্চ, ২০১৭ ১৩:৫৩:৩১আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৭ ১১:৪৭:৪২
সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর

 

ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর; সার্কভুক্ত দেশসমূহে পণ্যের অভিন্ন মান নির্ণয়কারী সংস্থা সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন- সারসো’র ডিরেক্টর জেনারেল। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে জনাব হুমায়ুন কবীর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮০ সালে সরকারি কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের (পরবর্তীতে বিএসটিআিই) একজন রসায়নবিদ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বিএসটিআই’র বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরই আলোকে সবশেষে তিনি ২০০৬ সালে বিএসটিআই’র ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে সারসোর ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত; স্ত্রী, দু’কন্যা ও এক পুত্র সন্তান নিয়ে সুখি পরিবার। তিনি নরসিংদী জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সার্কভুক্ত ৮টি দেশ  (বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান) নিয়ে গঠিত সারসো’র প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে গড়ে তোলাসহ এর সামগ্রিক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ব্যাপক। সারসোর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং এর সম্ভাবনা  প্রসঙ্গে  ড. সৈয়দ হুমায়ুন  কবীর সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধি’র  কাছে অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ  মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা  হলো।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কে নাহিদ
 
টাইমওয়াচ : শুরুতেই আপনার কাছে জানতে চাইবোÑ সারসোর শুরুর প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে।
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সার্কভুক্ত আটটি দেশে অভিন্ন মানে পণ্য রপ্তানির বিষয়টি ২০০৬ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সার্ক স্ট্যান্ডার্ডস কো-অর্ডিনেটর বোর্ডের সভায় পণ্যের মান, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিমাপ বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে অভিন্ন মানের বিষয়টি উঠে আসে। এতে সার্কভুক্ত দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সার্কভুক্ত আটটি দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি আঞ্চলিক মান সংস্থা তৈরির বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। পরে ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সার্কের ১৫ তম শীর্ষ সম্মেলনে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (সারসো) সংস্থাটি আত্মপ্রকাশ করে। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হওয়ার সিন্ধান্ত হয়। এরপর ৮টি দেশ কর্তৃক চুক্তিটি অনুমোদন হওয়ার পর ২০১১ সালে ২৫ অঅগস্ট সব দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর
আর ২০১২ সালে সংস্থার সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালের অক্টোবরে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। সারসো গঠনের মূল উদ্দেশ্য- ৮টি দেশের জন্য একটি অভিন্ন মান তৈরির মাধ্যমে বাণিজ্যে সৃষ্ট অশুল্ক বাধা দূর করা। কারণ এক দেশের পণ্য আরেক দেশে প্রবেশে অনেক কারিগরি ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এতে পণ্য ওই দেশে রপ্তানি করতে সমস্যা তৈরি হয়। দেশের অভিজ্ঞমহল আশা করছেন, সারসোর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো সহজ হবে; একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নিজস্ব ভবনে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৪ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু করে। তবে অভিন্ন মান চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে। তৎকালীন সার্ক মান সমন্বয় বোর্ডের মাধ্যমে শুরুতে ৩৫টি পণ্যের প্রাথমিক তালিকা করে কাজ শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন খাতভিত্তিক কারিগরি কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর পণ্যের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ১শ’র অধিক হয়েছে। জানা গেছে, পণ্যের তালিকা বাড়াতে গত বছরের অক্টোবরে সদস্য দেশগুলোর কাছে প্রধান ১০টি আমদানি ও ১০টি রপ্তানিজাত পণ্যের তালিকা চেয়েছে সারসো। ওই তালিকা পর্যালোচনার পর নতুন একটি তালিকা তৈরির পরিকল্পনা আছে।
টাইমওয়াচ : সারসো’র অর্থসংস্থান কিভাবে হলো?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সার্কের আওতায় অনেক অর্গানাইজেশন আছে। অন্যান্য অর্গানাইজেশনের মতো সারসোকে ৮টি দেশ কন্ট্রিবিউশন করে। বাংলাদেশে সারসো’র এই অফিসের ভবন এবং অন্যান্য অফিস যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র হোস্ট কান্টি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন বাজেট হতে সমুদয় অর্থ বহন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বাৎসরিক পরিচালনার সম্পূর্ণ ব্যয় মেটানো হয় ৮টি দেশের এসেসড কন্টিবিউশনের মাধ্যমে। প্রধান খরচের ৪৬ ভাগ দেয় বাংলাদেশ। ৫৪ ভাগ খরচ দেয় অন্য ৭টি দেশ। ইন্ডিয়ার ১৮ ভাগ, পাকিস্তানের ১৩ ভাগ, নেপালের ৬ ভাগ, শ্রীলংকার ৬ ভাগ, আফগানিস্তানের ৩ ভাগ, ভুটানের ৩ ভাগ ও মালদ্বীপের ৩ ভাগ।সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর
টাইমওয়াচ : সারসো গঠিত হওয়ায় আমাদের অর্থনীতি বা দেশীয় বেনিফিট কি?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : আমাদের দেশের উৎপাদিত পণ্যের এক্সপোর্ট বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সকল কারিগরি বাধা হয়ে থাকে ওই সকল বাধা দূরিভূত হয়ে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। কেবলমাত্র সার্কভূক্ত দেশসমূহেই রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে না বরং সারা বিশ্বেই রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে। এখন পণ্যের মাত্র ৫ ভাগ ট্রেড হয় সার্কের আটটি দেশের মধ্যে; আর বাকি ৯৫ ভাগ ট্রেড হয় বাইরের দেশসমূহে। এই পাঁচ ভাগকে আমরা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। আমাদের ইন্টারনাল ক্যাপাসিটি যখন শক্তিশালী হবে তখন আমাদের গ্লোবাল একসেসও বেড়ে যাবে। ট্রেড প্রমোশন হবে। ট্রেড প্রমোশন হলে ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট হবে। সার্কভুক্ত আটটি দেশের সমন্বয়ে সারসো গঠিত হয়েছে। এসব দেশে যেসব পণ্য সরবরাহের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো অভিন্ন মানে রপ্তানি হবে। রপ্তানিকারকরা সারসো থেকে প্রণীত মানের ভিত্তিতে প্রদত্ত সনদ নিয়ে সহজে সার্কভুক্ত যেকোনো দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবেন। যদিও বর্তমানে এক দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি করার পর সে দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদিত হওয়ার পরই কেবল তা প্রবেশের সুযোগ পায়। কিন্তু সারসো থেকে প্রণীত মানের ভিত্তিতে প্রদত্ত সনদ নেওয়ার পর পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধা দূর হবে। কারণ সে পণ্যের সার্ক মান নির্ধারণের সময় সব দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে থাকেন।
ঢাকায় স্থাপিত দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের আঞ্চলিক মান সংস্থা সারসো ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মান সংস্থার (আইএসও) স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে আইএসও’র সহযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আঞ্চলিক মান নির্ধারণের সুযোগ পাবে সারসো। তেমনি সারসোর স্বীকৃত মান অনুসরণ করবে এমন সব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার পথ সুগম হবে। আইএসও’র সঙ্গে ইতোমধ্যে সারসোর এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অভিন্ন মান চূড়ান্ত করতে সারসো প্রাথমিকভাবে পাঁচটি খাতে ১শ’র অধিক পণ্য বেছে নিয়েছে। পাঁচটি খাত হচ্ছে খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্য, পাট, সুতা এবং চামড়া, আবাসন ও নির্মাণশিল্পের পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, বৈদ্যুতিক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পণ্য। পাঁচটি খাতের কারিগরি কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে পণ্যের অভিন্ন মান চূড়ান্ত হয়। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যের স্বাস্থ্যসম্মত মান, দুই ধরনের পাটের তৈরি বস্তা, পাটের সুতা ও কার্পেটসহ পাঁচটি পণ্যের মান চূড়ান্ত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। গভার্নিং বোর্ডের সভা বিলম্ব হওয়ায় এটিও বিলম্বিত হচ্ছে।সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর
টাইমওয়াচ : আপনাদের ২০১৪-২০১৬ সাল পর্যন্ত সারসোর কার্যক্রম কী?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : বিগত দুই বছরে আমরা ৭টি স্ট্যান্ডার্ড করেছি। একই সঙ্গে আমরা দু’টি আন্তর্জাতিক বডির সঙ্গে অর্থাৎ আইএসও এবং আইইসি’র সাথে কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছি। আন্তর্জাতিক ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন সমস্ত ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স এবং আইটি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে আইএসও এবং আইসি-এর সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা সৃষ্টি হবে। তাদের কারিগরি সহযোহিতা আমরা পাবো। তাদের স্ট্যান্ডার্ডসগুলো আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবো। আমাদের জন্যে যে স্ট্যান্ডার্ডস সুইটেবল হবে সে স্ট্যান্ডার্ডস আমরা সরাসরি অ্যাডপ্ট করবো।
টাইমওয়াচ : স্ট্যান্ডার্ডস বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কী?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সবেমাত্র আমরা স্ট্যান্ডার্ডস তৈরি করছি। এই স্ট্যান্ডার্ডস পাবলিশ করে আমরা যখন মেম্বার কান্ট্রিগুলোতে দেব তখন থেকে স্ট্যান্ডার্ডয়ের উপরে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। স্ট্যান্ডার্ডসগুলো পাবলিশ করলেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
টাইমওয়াচ : স্ট্যান্ডার্ডস বাস্তবায়ন করার জন্য প্রযুক্তিগত ব্যাপারগুলো আপনারা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : এটার দায়িত্ব মেম্বার বডির অর্থাৎ প্রতিটি দেশের মান সংস্থার উপর অর্পিত রয়েছে। আমরা ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, কো-অর্ডিনেশন, স্ট্যান্ডার্ডস ডেভেলপ করে যাব।
টাইমওয়াচ : ৫টি সেক্টর বাদে আমাদের দেশে আরো অনেক সেক্টর আছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : ৫টি সেক্টরেই অনেক পণ্য অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। যেমন- ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের মধ্যে যাবতীয় ফুড এবং এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট আসছে। কেমিক্যালের মধ্যে অল ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্ট চলে আসে। জুট, টেক্সটাইল ও লেদারের মধ্যে এই শ্রেণীর সব পণ্য আছে। পাঁচটি সেক্টরেই সব প্রোডাক্ট অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।
টাইমওয়াচ : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : ৮টি দেশের বিদ্যমান জাতীয় মানসমূহের যেগুলো ৮টি দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে রপ্তানির বাজার রয়েছে সেসকল পণ্যের অভিন্ন মান প্রণয়ন করে রপ্তানিতে সৃষ্ট কারিগরি বাধা দূরীকরণের মাধ্যমে বানিজ্যের সম্প্রসারণ করবো। ৮টি দেশের কোয়ালিটি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন- সার্টিফিকেশন, টেস্টিং, অ্যাক্রিডিটেশন ও মেট্রালজি এই সকল ক্ষেত্রে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবো। দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সিঙ্গেল মার্কেট তৈরি করার পরিকল্পনা আছে।
টাইমওয়াচ : সারসো’র কার্যক্রমে ৮টি দেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সার্কভুক্ত আটটি দেশের (বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা) পণ্য আরেক দেশে প্রবেশে যাতে অশুল্ক বাধায় পড়তে না হয় সে জন্য পণ্যের অভিন্ন মান নির্ধারণ করে দেবে সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন- সারসো। সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চূড়ান্ত করেছে, যেগুলো সার্কভুক্ত সব দেশেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহৃত। ৭টি পণ্যের মধ্যে পরিশোধিত চিনি ও বিস্কুটের মান এরই মধ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছে সারসো’র টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বোর্ড (টিএমবি)। এ সকল কমিটিতে আট দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি রয়েছেন। সারসো থেকে প্রণীত মানের পণ্য সার্কভুক্ত আটটি দেশেই বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবে। পণ্যের অভিন্ন মান নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক ও কারিগরি বাধা দূর হবে। সারসো’র প্রণীত মানের ভিত্তিতে প্রদত্ত সনদ সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর
থাকলেই তা সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বিনা বাধায় রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে যেসব দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা কমে আসবে। অন্যদিকে সার্কের দেশগুলোর মধ্যে রপ্তানি বাড়বে। সারসো কর্তৃক প্রণীত স্ট্যান্ডার্ডগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হলেই ৮টি দেশই উপকৃত হবে। ৮টি দেশের কোয়ালিটি অবকাঠামো ডেভেলপ হবে। টেস্টিং, সার্টিফিকেশন, মেট্রোলজি অবকাঠামো শক্তিশালী হবে এবং উন্নত মানের পণ্য উৎপাদিত হবে। এই চারটি বিষয় কোয়ালিটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ডেভেলপমেন্ট হলে ৮টি দেশের অবকাঠামো ডেভেলপ হবে। আর তখনই আন্তর্জাতিক ট্রেডে পার্টিসিপেশন বেড়ে যাবে। তার মানে এক্সপোর্ট বাড়বে। এক্সপোর্ট বাড়া মানেই ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট।
টাইমওয়াচ : সারসোর প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে হওয়াতে বাংলাদেশ বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে কি?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সারসোর হেড অফিস যেহেতু বাংলাদেশে সেহেতু বাংলাদেশ এর বেনিফিট একটু বেশিই পাবে। যেমন- সারসোর লোকাল স্টাফগুলো বাংলাদেশের। এটা ছোট্ট একটা বেনিফিট। আর যে কোনো জয়েন্ট অর্গাইজেশন যে দেশে স্থাপিত হয়, সে দেশের একটা ফ্যাসালিটিতো থাকেই।
টাইমওয়াচ : সারসো’র কার্যক্রমে আমাদের দেশের ব্যবসায়ী এবং শ্রেণী পেশার লোকজনের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সারসো’র সঙ্গে ব্যবসায়ীদের যতো বেশি ইন্টারএকশন হবে তত বেশি উভয়পক্ষই লাভবান হবে। যখন স্ট্যান্ডার্ড এর ডেভেলপমেন্ট হবে তাতে বাংলাদেশের একজন মেম্বার থাকবে। এই মেম্বার বিজনেস লিডারও হতে পারে আবার টেকনিকেল এক্সপার্টও হতে পারে। তারা যদি আগে থেকে টেকনিক্যাল হোমওয়ার্ক করে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে সভায় অংশ নেয়, তাহলে তারাই উপকৃত হবেন। বাংলাদেশে এসব বিষয়ে আমরা মিটিং করলে আমি ৪/৫ জন লোক মিটিংয়ে রাখতে পারব। কোন কস্ট পরবে না। আর দেশের বাইরে থেকে এক্ষেত্রে একজন বা দুইজন লোক থাকতে পারবে।
টাইমওয়াচ : সারসো’র মাধ্যমে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কীভাবে উপকৃত হবে?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : যখন কমন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হবে তখন কারিগরি বাধা দূর হবে। তখন আমাদের দেশের এক্সপোর্ট বৃদ্ধি পাবে। আটটি দেশসহ দেশের বাইরেও ট্রেড বৃদ্ধি পাবে। শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। উদ্যোক্তারা নতুন নতুন শিল্প গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে। সার্ক অঞ্চলে ১৭০ কোটি মানুষ বাস করলেও বর্তমানে দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ সম্মিলিত রপ্তাানির মাত্র ৫ শতাংশ। পণ্য ও সেবার গুণগত মান বাড়িয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানির প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্ক অঞ্চলের দেশগুলো আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। ফলে দেশগুলোতে দারিদ্র্যের হার কমার পাশাপাশি মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।সারসো’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে : ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর
টাইমওয়াচ : দেশের ব্যবসায়ীরা সারসোর সঙ্গে কখন থেকে কিভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবে?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সারসোর সঙ্গে ব্যবসায়ীরা সম্পৃক্ত আছে। স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়নের মিটিংয়ে সার্ক দেশ থেকে যে একজন বা দুইজন ব্যক্তি পার্টিসিপেট করে। এখানে যে খসড়া মানটি হয় উহা ন্যাশনাল লেভেলে কনসালট করে। ন্যাশনাল লেভেলের টেকনিক্যাল কমিটিতে এটা নিয়ে আলোচনার সময় উৎপাদনকারীগণই প্রধান মতামত প্রদান করে। এই মতামত আবার সারসোর কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। যাদের যতো বেশি টেকনিক্যাল এক্সপার্টিজ থাকবে তাদের পার্টিসিপেশন তত বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। ইন্ডিয়ার কারিগরি বিশেষজ্ঞের টেকনিক্যাল এক্সপার্টিজ বেশি হওয়াতে দেশটি কারিগরি দিক থেকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।
টাইমওয়াচ : ব্যবসায়ীরা সারসোর সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : প্রকৃতপক্ষে মান প্রণয়নে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান। তাদের অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। কারণ তারা পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে মানের প্রথম প্রয়োগ তাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সারসো এর মান প্রণয়ন কার্যক্রমের সাথে তারা সম্পৃক্ত রয়েছেন। সারসো এর কারিগরি কমিটির মান প্রণয়নের প্রতিবেদন এবং খসড়া মানটি ন্যাশনাল লেভেলের কমিটিতে আলোচিত হয়। সেই ন্যাশনাল কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এজন্য টেকনিক্যালি জ্ঞানসম্পন্ন হওয়াও খুব প্রয়োজন।
টাইমওয়াচ : পণ্যের গুণগত মান নির্ণয়ে বাংলাদেশে বেশকিছু অর্গানাইজেন রয়েছে। যেমন- বিএসটিআই। তারপরও দেশে ভেজাল পণ্য নামক শব্দটি জড়িত হচ্ছে। এতে সারসো’র ভূমিকা কী?
ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর : সারসো’র ভূমিকা অবশ্যই থাকবে। সারসো কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন করবে। উহার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভালো এবং নিরাপদ পণ্য উৎপাদিত এবং বাজারজাত হবে। ইউরোপ কান্ট্রিতে যিনি ম্যানুফ্যাকচার করেন তিনি নিজেই তার প্রোডাক্টের কোয়ালিটি এবং সেফটি সম্পর্কে ডিকলারেশন দিচ্ছেন; অনুরূপভাবে আমাদের দেশের ম্যানুফ্যাকচারাররা রেসপনসিবিলিটি নিয়ে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের মান সম্পর্কে সার্টিফাই করতে পারে। এই অনুশীলন করতে আরো কিছু সময় লাগবে। ম্যানুফ্যাকচারারগণকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তীক্ষè নজরদারি করতে হবে। জনগণকেও আরো সচেতন হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে এখন বিভিন্ন পণ্যের মান তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। সার্কভুক্ত দেশে যে সকল পণ্যের বাজার রয়েছে সেসকল পণ্যের মান সারসো প্রণয়ন করবে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে বিস্কুট, নুডুলস, চা, ঘি, বনস্পতি, ননিবিহীন গুঁড়োদুধ, পরিশোধিত চিনি, ভোজ্য তেল, পাট ও পাটজাত দ্রব্যের মধ্যে চটের ব্যাগ, কার্পেট, স্টিলের টিউব, সিমেন্ট, রড, সিরামিকস, টাইলস, ফেব্রিক, চামড়া, তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে সারসো পরিশোধিত চিনি ও বিস্কুটের মান চুড়ান্ত করেছে।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd