ঢাকা : শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর চিন্তা চলছে : শিক্ষামন্ত্রী          কোরোনায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০৪ জন          যুক্তরাষ্ট্র আর লকডাউন হবে না : ট্রাম্প          করোনাভাইরাস সারাবিশ্বটাকে স্থবির করে দিয়েছে : হাসিনা          স্ত্রীসহ হাসপাতালে ভর্তি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী          করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাংক ঋণের ২ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ ঘোষণা
printer
প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ১৫:৩৪:০১
মানবেতর জীবন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকদের
রংপুর সংবাদদাতা


 


শিক্ষার্থী আছে, নিয়মিত পাঠ্যদান হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীর উপবৃত্তির ব্যবস্থা সবই আছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বই প্রদান করা হয়। শুধু নেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা। এ অবস্থায় চলছে রংপুরের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোসহ সারাদেশে ৬ হাজার ৮৬৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা। এসব মাদ্রাসায় দীর্ঘ ৩৪ বছর চাকরি করেও কেউ এক টাকা বেতন পাননি। হাজার হাজার শিক্ষক শুন্য হাতে অবসরে গেছেন। অনেকেই মারা গেছেন। আবার অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিভিন্ন সরকার বেতনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করেনি কেউ।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি সূত্রে প্রকাশ, ১৯৮৪ সালে সারা দেশে ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে রেজিস্ট্রেশন দেয় সরকার। বর্তমানে সারাদেশে ৬ হাজার ৮৪৮টি মাদরাসা চালু আছে। যেখানে ৩২ হাজার ২৪০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা পাঠদান করে আসছেন। এরমধ্যে ১৯৯৪ সালে ১ হাজার ৫১৯টি মাদরাসাকে এমপিওভুক্ত করে সারা দেশে ৬ হাজার ৭৬ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে সরকারিভাবে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করে আসছে। মাসিক ৫০০ টাকা উলে¬খ থাকলেও তা আবার তিন মাস পর পর দেয়া হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারি হতে তা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। সেই টাকা তুলতেও ভুগতে হয়। টাকা পান আর না পান তবুও শিক্ষকরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঠদান করে আসছেন। খেয়ে না খেয়ে। প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন।সমিতি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক-শিক্ষিকারা জাতীয় স্কেলে বেতন ভাতা প্রদান, প্রথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কেউই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যকে শিক্ষা দিলেও তারা সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়েছেন। তারা সামাজিকভাবে বিপন্ন।
এদিকে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি রংপুর জেলা শাখার সভাপতি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মাওলানা নুরুল আফসার দুলাল জানান, সারা দেশের মতো রংপুর জেলায় ৩৯৬টি মাদরাসা রয়েছে। যার মধ্যে রংপুর জেলায় ২৯টি মাদরাসা অনুদানভুক্ত। তিনি আরও জানান, তারা বৈষম্যের শিকার, কারণ তাদের মতো সংযুক্ত দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামীল মাদরাসাগুলোতে ও ইবতেদায়ী রয়েছে। শুধু আমরা প্রাইমারি স্কুলের মতো প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি হতে পড়াই বলে আমাদের মাদরাসাগুলোতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা বলে। কিন্তু উভয় মাদরাসায় একই রকম বই ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হয়। মান ও একই পরীক্ষার পদ্ধতি সকল নিয়ম কানুন একই। শুধু বেতন ভাতার ক্ষেত্রে পার্থক্য। কারণ তারা পায় জাতীয় স্কেলে বেতন আর আমরা পাই মাসিক ১২০০ টাকা বেতন। একই মাদরাসা কিন্তু বেতনের ক্ষেত্রে নিয়ম দুই প্রকার এটা অমানবিবক। অবিলম্বে এসব মাদরাসা প্রাইমারি স্কুলের মতো জাতীয়করণে দাবি জানান তিনি।
রংপুরের পীরগাছার মোহাম্মদীয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আলী জানান, ‘ছয়জনের সংসার। প্রায় ৩০ বছর চাকরি করছি। সরকারীভাবে মাসে ১২০০ টাকা পাই। তাও আবার তিন মাস পর পর। তবে ১ বছর ধরে সে বেতনও বন্ধ রয়েছে।রংপুর সদরের কেরানীরহাট শরিফিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, আমারা শিক্ষিত জাতি গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকার পালন করছি। অথচ আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত। কোন সরকারই আমাদের দিকে তাকায়নি। খেয়ে না খেয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যদান করাচ্ছি। একই অবস্থার কথা জানান পীরগাছার শিক্ষক সৈয়দ আলী, শহিদুল ইসলাম, সদরের একরামুল ও আব্দুল লতিফ, মিঠাপুকুরের আবু সালিম, মমিন জেহাদি,শাহাদৎ হোসেন, পীরগঞ্জের ফজলুল হক, সৈয়দপুরের নুর হোসেন,নীলফামারীর আজিুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের গোলাম আজমসহ শতাধিক শিক্ষক। অনেকেই আরো জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি হালচাষ, রিকসা চালিয়ে, দোকান, ইমামতি, প্রাইভেটসহ অন্যপেশার মাধ্যমে কোনো মতে জীবনযাপন করছি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষা পাতার আরো খবর

Developed by orangebd