ঢাকা : রোববার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে, নতুন ঐক্যের দরকার নেই : নাসিম          ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৭ ১১:২৮:১৭
পর্যটকের পদভারে মুখরিত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ
ঝিনাইগাতী সংবাদদাতা

 

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও পর্যটকের পদভারে মুখরিত শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী-অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। নগর জীবনের যান্ত্রিকতাকে ছুটি জানিয়ে একটু মুক্তির আশায় প্রতিদিনই ভীড় করেছে হাজারও ভ্রমণ পিপাসু মানুষ।
দেশের পশ্চিম-উত্তর সীর্মান্তের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দিত বিনোদন কেন্দ্র এটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই গজনীর মূল আকর্ষণ। চারদিকে উঁচু পাহাড় আর গাছ আপনাকে স্বাগত জানাবে প্রাকৃতিক নির্মলতায়। উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড়ে সবুজ গাছ দেখে চোখ জুড়াতেই যেন গজনীতে আসেন ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা।পর্যটকের পদভারে মুখরিত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ
১৯৯৫ সালে তৎকালীন শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর জেলা সদর থেকে ২৮ এবং ঝিনাইগাতি উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে কাংশা ইউনিয়নের গজনী পাহাড়ের প্রায় ৯০একর পাহাড়ি টিলায় ‘গজনী অবকাশ কেন্দ্র’ নামে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়। এখানে দেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলা থেকেই ভ্রমণপিপাসুরা প্রতি বছর ভীড় জমায়। তবে গজনী অবকাশের প্রধান আর্কষণ লেক পাড় তথা কৃত্রিম দ্বীপটি পাহাড়ী ঢলে বিধ্বস্ত হওয়ায় এর আগে যারা এসেছে তাদের মন কিছুটা খারাপ হলেও পর্যটকের পদভারে মুখরিত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ
অন্যান্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ঘুরে আনন্দিত। এছাড়া গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটে আছে ড্রাগন, ঝুলন্ত ব্রিজ, ময়ুরপঙ্খী নৌকা, পাহাড়, টিলা, পদ্মসিঁড়ি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, শিশুপার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, মৎস্যকুমারী, শত বছরের বটগাছ। এখানে পাতালপুরী নামে একটা গুহা আছে। গুহাটা খুবই আকর্ষণীয়। আর পুরা গজনীর রূপ একবারে দেখতে হলে অবশ্য উঠতে হবে সাইটভিট টাওয়ারে। মাত্র ১০টাকার বিনিময়ে একসঙ্গে দেখা যাবে গজনীর রূপ। ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরে আসা যায় বাংলাদেশ-ভারতের সীমানা। অবকাশের উত্তর এবং পশ্চিম পাশেই রয়েছে বিচিত্র জীবন-জীবিকার মানুষ আদিবাসী গারো-কোচ-হাজংসহ ৬সম্প্রদায়ের লোকজন। সরেজমিনে ঘুরে কথা হয় ময়মনসিংহ মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এ.কে.এম. সাজেদুল হকের সাথে। তিনি বলেন, কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝে এমন একটি জায়গা ঘুরে খুব ভাল লাগল। কিন্তু এর আগে এসে কৃত্রিম দ্বীপটি দেখে ভাল লেগেছিল। এবার না থাকায় আনন্দ থেকে অনেকটা বঞ্চিত হয়েছি। তবে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে অন্যান্য দিক গুলোতে ।পর্যটকের পদভারে মুখরিত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ
গজনী-অবকাশের সাইট ভিউ টাওয়ারের ইজারাদার মো.নাজমুল হাসান বলেন, গত বছরের চেয়ে তুলনায় এবার পর্যটক বেশি আসছে। তবে আবাসিক হোটেল, খাবারের ভাল মানের হোটেল, বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করলে আরো অনেক পর্যটকের ভীড় হতো। আমাদের ব্যাবসা আরো ভাল হতো। ঝিনাইগাতী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, গজনী-অবকাশ পিকনিক র্স্পটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভাল। প্রতিদিনই পোশাকে ও সাদা পোশাকে  পুলিশ, বিজিবি, গ্রাম পুলিশ টহলে থাকে। ইতিমধ্যে আমরা পর্যটকের পদভারে মুখরিত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ
বেশ কয়েকজন দূবৃত্তকে গ্রেফতার করেছি। আমরা আশ্বস্থ করতে পারি এখানে পর্যটকরা নিরাপদ থাকবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.জেড.এম শরীফ হোসেন বলেন, গজনী অবকাশ কেন্দ্রটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি সুন্দর স্থান। এই স্পটের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে। পর্যটকরা গজনীতে এসে যেন পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে পারেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd