ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০১৭ ১৩:৪০:২৭
গণহত্যা দিবস ২৫ মার্চ
করীম রেজা


 


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিলম্বে হলেও প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সমগ্র জাতি বিষয়টিকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করে।
আমরা সব রকম গণহত্যার বিরুদ্ধে, তা যে নামে বা যে যুক্তিতেই করা হোক না কেন। অর্থাৎ কোনও কারণেই গণহত্যা মেনে নেওয়া যায় না। ১৯৭১ সালের পর আরও অনেক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। হয়েছে ১৯৭১ সালের আগেও। তবে সময় ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক কারিগরি সুবিধার কারণে ১৯৭১ সালের চেয়েও কম মাত্রার কম গুরুত্বের হত্যাযজ্ঞ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, প্রচার পেয়েছে। তাই বলে কোনও গণহত্যাই গুরুত্বের দিক থেকে কম বিবেচ্য নয়।
তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক এবং বেসামরিক রাজনীতির নিষ্ঠুর বর্বরতার শিকার হতে হয়েছে নিরস্ত্র সাধারণ বাংলাদেশি জনগণকে। ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস নামক ইতিহাসের কুখ্যাত হত্যাকারীদের হাতে। প্রায় ৩/৪ লাখ নারীর মর্যাদা লুন্ঠিত হয়েছে। বর্বরতার হাত থেকে নারী-শিশু-বৃদ্ধ কেউ নিস্তার পায়নি। বাড়িঘর জ্বালিয়ে গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ণ করা হয়েছে। সেই দিনক্ষণ ইতিহাসে অমর করে রাখার জন্য এই উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
আধুনিক সমরাস্ত্র সংবলিত একটি সুসজ্জিত সেনাবাহিনী দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সারা বাংলাদেশে। তাদের এই অপারেশনের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। নিষ্ঠুরতার ভয়ঙ্কর বিবরণ পাওয়া যায় ওই সময়ের পাকিস্তানি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বইতেও। যে সব বই তারা সামরিক পেশা থেকে অবসর গ্রহণের পর স্মৃতিচারণ করে  গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তারা এই হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। নিরস্ত্র বাঙালি অন্তরের নৈতিক শক্তি দিয়ে দীর্ঘ নয় মাস শত্রুর মোকাবিলা করে। হানাদার বাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি চিরকালের জন্য হানাদার মুক্ত হয়।
ইউনেস্কো কর্তৃক ২০০০ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরই গণহত্যা দিবস প্রসঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত হয়। কিন্তু সময়োপযোগী  পদক্ষেপের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য আমরা বাংলাদেশিরা কাকে দায়ী করব জানি না। হয়তো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অবশ্যই ছিল। কারণ ইতিহাসে দেখতে পাই, আমাদের অধিকাংশ আমলাই জাতির নির্দিষ্ট প্রয়োজনে দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছা কিংবা অদূরদর্শিতা অথবা উদাসীনতা। ফলস্বরূপ আমরা আজ দেখতে পারছি ২৫ মার্চ ‘বিশ্ব গণহত্যা দিবস’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সমস্যার সম্মুখীন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ থেকে জাতিসংঘ কর্তৃক ওহঃবৎহধঃরড়হধষ উধু ড়ভ ঈড়সসবসড়ৎধঃরড়হ ধহফ উরমহরঃু ড়ভ ঃযব ঠরপঃরসং ড়ভ ঃযব ঈৎরসব ড়ভ এবহড়পরফব  বা আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসটি পালন করা শুরু হয়।
মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালের ভয়াবহ নিয়মতান্ত্রিক হত্যাযজ্ঞের তুল্য ঘটনা পৃথিবীতে বিরলতম না হলেও অবশ্যই বিরল। সেই সময় যদি আজকের মতো উন্নত টেলিভিশন এবং গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকতো তাহলে তুলনা করা সহজ হতো। আজ কারিগরি সুবিধার অভাবে অধিকাংশ প্রমাণই লুপ্ত হতে বসেছে। যা আছে তাও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। যা রয়েছে তাও আমরা সংরক্ষণের বিষয়ে খুব উদ্যোগী এবং সচেতন নই। সময়মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে আজ আমারা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তারপরও আশা করা যায়, সক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিশ্ববাসী ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করবে।
রুয়ান্ডা, ভিয়েতনাম, বসনিয়া, ফিলিস্তিন, কিংবা অতি সম্প্রতি ইরাক, ইরান, সিরিয়ার নাগরিকগণ নানা নামে নানা অজুহাতে বর্বর গণহত্যার শিকার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের ৩০ লাখ নিরীহ নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ হত্যা করে।  
তারপরও আমরা অনেক সমস্যা পার করে ২৫ মার্চ জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের বিকট রূঢ় সত্যকে বিশ্ববাসী তথা আমাদের ইতিহাস বঞ্চিত প্রজন্মের কাছে দৃষ্টিগ্রাহ্য করে তুলতে সক্ষম হচ্ছি এটাও কম সার্থকতা নয়।
লেখক : কবি ও শিক্ষাবিদ, ই-মেইল : karimreza9@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd