ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৭ মার্চ, ২০১৭ ১১:১২:৩১আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৭ ১২:০৭:০৯
স্বাধীনতার ৪৬ বছর
করীম রেজা


 


বাঙালির অতীত বরাবরই সমৃদ্ধ অহঙ্কারের আকর। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালি ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় নিরলস ও অকুতোভয় সংগ্রামী। অধুনাতন ১৯৭১ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করল। তাও আজ ৪৬ বছর আগের কথা। দীর্ঘ নয় মাসের কঠিন যুদ্ধজয় করে বাঙালি তার গৌরবের মুকুটে যুক্ত করে আরেকটি পালক।

 

যুদ্ধ কার বিরুদ্ধে? জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যাদের কাছে ছিল আধুনিক সমরাস্ত্রের বিপুল মজুদ। সর্বোচ্চ পেশাদারী প্রশিক্ষণ। বাঙালির কী ছিল? এক কথায় কিছুই না। শুধুমাত্র মনোবল ছাড়া কিছুই ছিল না। আর ছিল নেতার তথা জাতির পিতার দিক নির্দেশনা।

 

আবার সেই যুদ্ধের নয় মাস সেই নেতাও কাছে ছিল না। ছিল শত্রুর বন্দি শিবিরে। যে কোনো মুহূর্তে অবধারিত মৃত্যুর অপেক্ষায় খোদিত কবরের পাশে। নেতা সাহস বা মনোবল কোনোটাই হারাননি। ভেঙে পড়েননি, প্রলোভনে শত্রুর সাথে আপস করেননি। নেতার মতই ছিল এদেশের সকল মুক্তিকামী মানুষ লৌহ কঠিন মনোবলে দৃঢ়। সেই অনুপস্থিত নেতার দিক নির্দেশনা সম্বল করে, খেয়ে না খেয়ে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খালি পায়ে, উদোম গায়ে সে সময়কার পুলিশের থানা-ফাঁড়ি লুট করা আর পড়শি দেশের দেওয়া প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই যৎসামান্য কিছু অস্ত্র নিয়ে বাঙালি যুদ্ধ করেছে। ঘুরিয়ে দিয়েছে ইতিহাসের চাকা; রচনা করেছে নতুন  ইতিহাস। অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যে আত্মবলের চেয়ে আর বড় কোনো অস্ত্র নেই তা প্রমাণ করেছে।

 

২৫ মার্চ ১৯৭১ মধ্যরাতে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী সর্বশক্তি নিয়ে নিরীহ নিরপরাধ ঘুমন্ত দেশবাসীর ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নির্বিচারে মেশিনগান এবং কামান ব্যবহার করেছে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ হত্যা করতে। রাস্তার পাশে ফুটপাত ঘেঁষে রিকশা থামানো। খুব ভোর বেলার যাত্রী বহনের জন্য অপেক্ষা। রিকশার পাদানিতে বসে ঘুমিয়ে থাকা সেই রিকশাচালকও ২৫ মার্চ রাতে ঘাতক পাকিস্তানি সেনার হাতে রক্ষা পায়নি। রিকশার পাদানিতেই তার লাশ পড়েছিল কয়েকদিন। এমন অসংখ্য নির্মম হৃদয়বিদারক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনার সমষ্টিগত অর্জন আমাদের আজকের এই স্বাধীনতা।

 

৪৬ বছর আমরা পার করে এলাম। সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষা আমাদের অর্জনের শক্তি যুগিয়েছে। আমরা তো অনেক এগিয়েছি। একসময় তলাহীন ঝুড়ি হিসেবে আমাদের পরিচয় দেওয়া হতো বিশ্বে। আজ তার অভূতপূর্ব বদল ঘটেছে। বিশ্ব এখন আমাদের সমীহ করতে শিখেছে। এ বিজয় কিন্তু অতুলনীয়। পরাশক্তিগুলো আমাদের কথার গুরুত্ব দেয়, সম্মান মর্যাদায় আমরা কোনো অংশেই অপরাপর দেশের তুলনায় পিছিয়ে নেই। এর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হয়েছে। পরিশ্রমী জাতি হিসেবে আমাদের যোগ্য নেতৃত্বেরও দরকার ছিল। তা হয়তো আমরা সময়মত পাইনি। পেয়েও ধরে রাখতে পারিনি। ১৯৭৫ সালে জাতি নেতৃত্বশূন্য করার ভয়ঙ্কর দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে। সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে আমাদের দীর্ঘ সময় পার করতে হল।

 

পৃথিবীর অনেক দেশ আামদের পরে স্বাধীনতা লাভ করেও তুলনামূলকভাবে অগ্রগামী। সমসাময়িক অনেক দেশই আমাদের ছাড়িয়ে গেছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়। আবার এগিয়ে থাকা দেশও আমাদের তুলনায় উন্নয়নের অনেক সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, আমাদের কাজ আমরা নিজেরাই করতে সক্ষম, কারো সাহায্য ছাড়াই। বিশ্বব্যাংক, আইডিবি, জাইকা এরা আবার আস্তে আস্তে ফিরে আসছে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। একসময় এরাই ভেবেছিল কারো সাহায্য ছাড়া আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারব না। কিন্তু এখন তারা বুঝে গেছে আমরা সব সময় আর পরমুখাপেক্ষী নই। প্রতিবেশী ভারত এখন সমীহ আচরণ করে। সাহায্যের ডালা-কুলা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করে। কয়েক বছর আগেও তো পরিস্থিতি এমন ছিল না। একবাক্যে বলতে হবে সুযোগ্য নেতৃত্বের ফল এই সব দৃশ্যমান পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক পরিম-লে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজ স্বীকৃত। তিনি আজ কথায় কাজে পরিশীলিত এবং পরিণত। বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির পথে হাঁটছে।

 

চলার পথে পদে পদে বাধা আসেই, আসবেই। তা সঠিকভাবে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সার্থকতা। তারপরও আমরা দেখি সামান্য ছোটখাট কিছু ঘটনায় সাফল্যের বিরাট অর্জন কালিমালিপ্ত হতে। কঠোরহস্তে এসব দমন করতে না পারলে এই এগিয়ে চলা শ্লথ হয়ে পড়বে।

 

জঙ্গি দমনে সরকারের সফলতা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। তারপরও কিছু সন্দেহমূলক পরিবেশ তৈরি হয়, কারা করে, কেন করে তা খতিয়ে দেখে এর আশু সুরাহা করতে হবে। যোগাযোগ খাতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে জনদুর্ভোগ। কিন্তু প্রকল্প চলতেই থাকে। কবে শেষ হবে কেউ জানে না। কারো কোনো দায়িত্ব নেই জনদুর্ভোগ লাঘবের। যানজট নিয়ে মহা মহা সব পরিকল্পনার রূপরেখা দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার পরিবেশ বরং অবনতির দিকেই যাচ্ছে। সমন্বিত কোনো প্রচেষ্টা নেই। রেলের উন্নয়ন যতটা আশা করা গিয়েছিল তেমন দেখা যায় না।

 

স্বাধীনতার মাসে সমস্যার ফিরিস্তি তুলে ধরাই আসল উদ্দেশ্য নয়। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আশাতীত সফলতা পেয়েছি। তা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে গলদ কোথায়? তা না হলে রশি না খুলে সারা রাতভর নৌকা চালিয়ে আর যাই হোক গন্তব্যে পৌঁছা যাবে না।

 

সম্প্রতি শিক্ষা দফতরের মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকে ঐতিহাসিক ভুতের আছর দেখতে পাওয়া গেল। শিক্ষা যদি অপূর্ণ, ভেজাল ও গোঁজামিল দেওয়া হয় তা কোনোদিন সুফল বয়ে আনে না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক বছর পরপরই নীতির বদল ঘটে। তাতে করে শিক্ষার প্রভূত উন্নতি হয়েছে এমন কেউ বলে না। হ্যাঁ, বাণিজ্য হিসেবে শিক্ষা একটি বিশেষ অবস্থান লাভ করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এমনটা ঘটবে দেশবাসী তা আশা করেনি। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করে একটি প্রতারণাপূর্ণ শোষণমূলক কায়েমি ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা যায় কিন্তু তা করে আর যাই হোক দেশ-জাতির প্রকৃত উন্নয়ন করা যায় না। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে সরকার যেন উদ্ ুআর বুধু খেলায় নীরবতা প্রদর্শন করছে।   

 

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে অনেক। ঐতিহ্য সচেতনতার অভাবে শিক্ষা ত্রুটিপূর্ণ। তাই শিক্ষাবাণিজ্য হিসেবে কাগুজে সার্টিফিকেট উৎপাদনে  যত সার্থক, দেশপ্রেমিক নাগরিক সৃজনে ততই ব্যর্থ। উচ্চশিক্ষার তকমা নিয়ে যারা সরকারি উচ্চ উচ্চপদে সমাসীন হচ্ছেন, দেশের কল্যাণে তারা সামগ্রিক অবদানে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করছেন না। ব্যক্তিস্বার্থের গণ্ডি ছেড়ে তারা বৃহত্তর জাতি কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখছেন না।

 

আমরা স্বাধীন হলাম দুইবার। একবার ১৯৪৭-এ, আরেকবার ১৯৭১ সালে। ৪৭-এর স্বাধীনতা ছিল নামেমাত্র। শাসকের বদল হয়েছিল, শোষণের নয়। নতুন মানচিত্র রচিত হলেও কিন্তু বাঙালির আর্থসামাজিক কোনো স্বাধীনতা লাভ হয়নি। ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাই ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ৩০ লাখ শহীদ আর ৩/৪ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে।

 

স্বাধীনতা মানেই নিজের অধীনতা। নিজেদের মতো করে দেশগড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করার সুযোগ তৈরি ও বাস্তবায়নের অধিকার অর্জন করা। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে আমরা দেশ পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশকারী একটি পক্ষের পদানত হলাম। একটি চিহ্নিত পক্ষ দেশের কল্যাণের কথা বিবেচনা না করে দিনকে দিন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির করে তুলল। সপরিবারে জাতির পিতা নিহত হলেন। যে সময় জাতির পিতাকে সবরকম উদ্যোগে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার কথা, সেই সময় আমরা দেখলাম সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। যুব সমাজকে ভুল পথে ভুল দীক্ষায় পরিচালিত করা হল। লোকরঞ্জনবাদী কর্মসূচির দ্বারা স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ, সত্য ও আত্মত্যাগের মহান গৌরব মুছে ফেলার চেষ্টা করা হল। আবারো অনেক ত্যাগ, ধৈর্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসলাম। আমাদের সামনে এখন এগিয়ে যাবার অবারিত সুযোগ ও সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনা সুচিন্তিত পরিকল্পনার দ্বারা বাস্তবায়নে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।   

 

স্বাধীনতা লাভের পর পর দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা জাতীয়করণ করা হল। কিন্তু আমলাদের ব্যক্তিস্বার্থের ভেদবুদ্ধির কারণে তার সুফল লাভে জাতি ব্যর্থ হল। দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হল। আজকের বাংলাদেশ বৈশ্বিক উন্নয়ন সূচকের প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শীর্ষ অবস্থানে। যার নিয়ামক প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারিগণ নন বরং বেসরকারি উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠান। আমলাগণের ভূমিকা এই উন্নয়ন ধারায় নানারকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এখনও। শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রায়ই হয়রানির শিকার।

 

দেশে যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে তা পরিবেশবান্ধব নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। এসব দেখার দায়িত্ব যাদের তারা নানা অজুহাতে তাদের দায় এড়িয়ে চলেন। কখনও লোকবল সংকট, কখনও অর্থসংকট, পরিকল্পনার অভাব অথবা প্রকল্প বা প্রস্তাব বিচেনাধীন জাতীয় খোঁড়া যুক্তি দিয়ে আসল সত্য আড়াল করে রাখেন।
দেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হল দীর্ঘকাল। রাজনৈতিক সরকার বদল গণতান্ত্রিক দেশে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু আমলাগণের দায়িত্ব দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরকারকে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেয়া। কিন্তু তারা তা করেন না। করলে আমাদের দেশ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড বা কম্পুচিয়ার মত বা অন্যান্য দেশের তুলনায় আরো অনেক আগেই এগিয়ে যেতে পারত।

 

ভারতের সঙ্গে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আগের ও পরের অনেক বিষয় এখনো পাকিস্তানের সঙ্গে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিহারিদের প্রত্যাবাসনে এখনও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। তারা আমাদের সমাজে একটি অতিরিক্ত হুমকি হিসেবে রয়েছে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই পাকিস্তানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা জানি না কি কারণে এখনও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে রয়ে গেল। তৎকালীন বার্মা সরকার ৭১ সালে বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানের প্রতি অনুকূল মনোভাবপন্ন ছিল। এসবের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা এসব খতিয়ে দেখতে হবে। রাজনৈতিক সরকারের কার্যক্রমে বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপনের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব একটি দেশপ্রেমিক আমলা সমাজের। রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি আমলা সমাজ। দলীয় সরকারের সিদ্ধান্তে দলীয় সুবিধার বিষয়টি থাকতেই পারে।  আমলাগণ কোনো দলের হয়ে নয় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে জাতির বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন।

 

আমাদের সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষার অভাবে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রকৃত শিক্ষার পাঠ অনুপস্থিত। সাম্প্রতিকতম উদাহরণ টেক্সট বুক বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে অদৃশ্য হাতের কারসাজি। আমরা জানলাম এসবই হেফাজতের প্রস্তাব ছিল। পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যে হেফাজতি কা- ঘটল তার পেছনে কি কোনো অতি উৎসাহী আমলার জড়িত? নাকি শুধুই সরকারি কৌশলগত সুবিধালাভের জন্য আমলাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে ? সত্য যত দ্রুত উদঘাটিত হবে, ততই চলার পথ নির্ণয় ও নির্মাণ সহজতর হবে।

 

সঠিক শিক্ষায় নৈতিক শক্তি প্রবল হয়। নীতিহীন মানুষের কাছে দেশ-কাল-সমাজ-পরিবেশ সবই অর্থহীন। তাই আমলা সমাজ নিজের নয় দেশের স্বার্থ অধিকতর বিবেচনায় রাখুন। যাতে বিদ্যুতের প্রয়োজনে, রাস্তা নির্মাণে, শিল্প স্থাপনে, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে, পরিবহন ব্যবস্থাসহ সাধারণ মানুষের কথা, পরিবেশের কথা সর্বোপরি দেশের কল্যাণের কথা প্রধান বিবেচনায় থাকে। নিজের সুবিধা কিংবা ক্ষমতাসীন সরকারের লোকজনকে সুবিধা দেয়ার যুক্তিতে সাময়িক লাভলোভে কিংবা চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্তে সুদূরপ্রসারী কল্যাণ নিহিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনস্বার্থবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী দলের প্রভাব বা সমর্থন নয় ৭১-এর মূল চেতনা শক্তির ওপর নির্ভর করে দেশ-দশের মঙ্গল চিন্তায় উদ্যোগী হওয়া, তবেই প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা যাবে।
লেখক : কবি ও শিক্ষাবিদ, ই-মেইল : karimreza9@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd