ঢাকা : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:০৯:৩০আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:১০:৪২
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলে শিক্ষার্থীদের বাস সঙ্কট
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা


 


ছাত্রী-ছাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ। যাতায়াতে নেই কোন পরিবহন। পায়ে হেঁটে আসতে  থেকে ১০ কিলোমিটার। অনেক সময় প্রখর রোদে দাড়িয়ে থাকতে হয়। গরমে হিট ষ্টোকে আক্রান্ত হন অনেকে।সঠিক সময়ে অনেক ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না । দিনারপুর এলাকার দুটি কলেজ দুটি হাই স্কুল রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য কোন আলাদা বাস নেই।৯টি লোকাল বাস রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ১০/১২ জনের উপরে ছাত্র তারা তুলে না। অনেক সময় ইচ্ছা করে ছাত্র-ছাত্রীদের তারা নেয় না। এই জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।তাই ছাত্রদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হয়না। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রতি দিন দেখা যায় স্কুল/কলেজ পোশাক পড়–য়া একদল ছাত্র/ছাত্রী গাড়ির অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার প্রহরগুনে তারা। সময় মতো আসছেনা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলাচল গামী হবিগঞ্জ টু আউশকান্দি লোকাল মিনি বাস গুলো। বাসের জন্য যথাসময় ক্লাস ধরতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা। কারো হাতে কারো পিটে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাসের অপেক্ষায় স্কুলে/কলেজে যাওয়ার সময়টা পার করে মহাসড়কে।
জানা গেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাত্র ৯টি হবিগঞ্জ টু আউশকান্দি পরিবহণের  বাস চলাচল করে যা তুলনায় অনেকংশে কম । স্কুল কলেজ মাদ্রাসার পাশাপাশি চরম সংকটময় সময় এবং বন্দি দশায় জীবন যাপন করছেন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুর পরগণার তিনটি ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের অর্ধলক্ষাধিক লোকজন । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পর যখন বাস আসে তখন সল্প আসনের কারণে অনেকেই দাড়িঁয়ে দাড়িঁয়ে ঝুলে ঝুলে যেতে হয় প্রায় সময় দেখা যায় জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে বাসের উপরে উঠে  অনেক সময় যেতে দেখা গেছে ।ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুর পরগণা এই পরগণার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়,দিনারপুর কলেজদিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা,পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজে প্রতিদিন দেবপাড়া ইউনিয়নের,গোপলার বাজার, ভানুদেব, বিজনারপার,যিটকা,সদরঘাট, ইসলামপুর,দেবপাড়া, নলসুজা, মাঠ বনগাঁও,রুদ্রগ্রাম,আইনগাঁও, গজনাইপুর ইউনিয়নের, কায়স্থগ্রাম,লোগাঁও,মামদপুর, শিলালেরপুঞ্জি, শংঙ্করসেনা,শেখেরপাড়া, বনগাঁও,কান্দিগাঁও,টিলাপাড়া, দেওপাড়া, সাতাইহাল,কুড়াগাঁও, পানিউমদা ইউনিয়নের, ভরচড়,রুকনপুর,বরকান্দি,বড়গাঁও, পানিউমদা,কুড়াগাঁও, সহ প্রায় ৪০টি  গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার ছাত্র/ছাত্রী মহাসড়ক দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করে। অন্যদিকে সচেতন মহল দাবী করছে,প্রশাসনিক ভাবে যদি কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তা হলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবেনা । ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দ্রুত গতিতে কত বাস আসে যায় কিন্তু স্কুল/কলেজের ছাত্র/ছাত্রী দেখলে নিদিষ্ট ষ্ট্যান্ডে বাস থামেনা। এভাবে ঘন্টা দুই এক দাড়িয়ে থেকেও গাড়িতে উঠতে পারেনা অনেকেই। এসব সমস্যা এখন নিত্যদিনের। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থী সহ মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে অনেক সুনামধন্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্টানের নেই কোনো নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। পরিবহন সমস্যার কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সরকার কতৃক নিষিদ্ধ যানবাহন সিএনজি(অটোরিকশা) করে যাতায়াত করে। এতে করে অনেক সময় ঘটে দূর্ঘটনা। তাদের জন্য নেই কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে পুলিশের চেক পোষ্ট থাকায় সি.এন.জি সহ ছোট যানবাহন গুলো পুলিশের তাড়ায় অবিরত ঘটাচ্ছে দূর্ঘটনা। অনুসন্ধানে উঠে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিছুদিন ধরে দেখা যায় পুরাতন সড়ক দিয়ে সিএনজি চলাচল করলে এর পিছনেও ধাওয়া দেয় হাইওয়ে পুলিশ এতে করে সামাজিক মাধ্যম সহ সর্বত্র উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনা । অনেক সময় প্রাণের ভয়ে  সিএজিতে উঠছেনা ছাত্র/ছাত্রীরা। দিনারপুর কলেজের এইসএসসি পরীক্ষার্থী সৈরত আহমেদ জানান,প্রতিদিন আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়াইয়া থাকি কিন্তু বাসের দেখা মিলেনা কলেজে  যাইতে,আইতে গাড়ির জন্য আমরার অনেক কষ্ট করতে হয় ,পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শাহ রুবেল জানান, আমরা কলেজে যাওয়ার লাগি গাড়ির জন্য আমরা নিয়মিত ক্লাস ধরতে পাররাম না এ সমস্যা দূর না করলে অনেক কষ্ট করতে অইবো আমরার।  এ চরম অবস্থায়,মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কী না ? এমন প্রশ্নের জবাবে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, এই রকম কোনো প্রস্তাব আমাদের আসেনি । এই জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদ সদস্য,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যসহ সকল প্রশাসনিক কর্মর্কতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষরা ।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd