ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:০১:৪৮
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, আশা অনেক
মাহমুদুল হক আনসারী


 


আগামী সাত এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী ভারত সরকারের আমন্ত্রণে সে দেশে যাচ্ছেন। ভারত বাংলাদেশের তিন দিক ঘীরে আছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা প্রশংসনীয়। স্বাধনীতার পর হতে দেশের রাজনীতির বিশাল একটা অংশ ছিল ভারত বিরোধীতা করা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত বিরোধী রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে। এর পিছনেও নানা কারণ ছিল। স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকায় দেশবাসী ভারত সরকারের নিকট চীর কৃতজ্ঞ থাকবে। স্বাধীন এর পর যারাই দেশ শাসন করেছে সকলেই কম বেশী ভারত সরকারের আনুকুল্য পাওয়ার চেষ্টায় ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যেভাবে ভারত সরকারের সমর্থন পেয়েছে সেভাবে সমর্থন অন্য কোন দল পায়নি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় আসীন এবং ক্ষমমতার বাইরে থাকা সব কিছুর মধ্যেই ভারতের একটা ভূমিকা লক্ষনীয়। দেশের সরকারী ও বেসরকারী যে সব দল আছে সকলেই ভারত প্রীতি ও বন্ধুত্ব চায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা ছিল এবং আছে। ভারতের ভূমিকাকে কখনো খাটো করে দেখে কোন দলের লাভ হবেনা। বাংলাদেশর উন্নয়ন, অগ্রগতি, লাভ, লোকসান, সংস্কৃতি অপসংস্কৃতি সব দিকেই ভারত জড়ীত। ভারতের সাথে বাংলাদেশর বিশাল বাণিজ্য রয়েছে। যদিও সে  বাণিজ্যে বাংলাদেশ লাভের ছেয়ে ক্ষতির সম্মুখিন বেশী। ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। ভারত বাংলাদেশ হতে ট্রানজিট সুবিধা পেয়েছে, বাংলাদেশের বাজারে ভারতের পণ্য অহরহ আসছে এবং যথেষ্ট আগ্রহ এবং চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের  জনগণ শিক্ষা, চিকিৎসায়, বাণিজ্যে নানা ভাবে ভারত নির্ভর হয়ে পড়েছে। ভারতের নানা ধরনের পণ্য যেমন, মরিচ, ডাল, পিঁয়াজ, শাড়ী, গহনা, চুরি, গার্মেন্টস আইটেমের নানা পারিবারিক ব্যবহার্য্য আসভাবপত্র ভারত থেকে বৈধ অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশর বাজার আশি ভাগ ভারতের দখলে বলা যায়। অনুরূপ ভাবে বাংলাদেশী পণ্য ভারতে প্রবেশের সুযোগ সে রকম নাই। ভারতের আকাশ সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় সব চ্যানেল ভারতের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বাংলাদেশর একটি চ্যানেল ও ভারতে দেখার সুযোগ নেই। ভারত তার সব ব্যবসা বাণিজ্য সংস্কৃতি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুরক্ষায় রাখছে তাদের দেশকে। কিন্তু সমস্যা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বন্ধু প্রতিম দেশ হিসেবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত থেকে তেমন কিছু আদায় করতে পারছেনা। বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিদিন পশুর সাথে মানুষকে গুলি করে মারছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী। কথায় কথায় ভারতীয় সৈন্য দেশের নিরীহ মানুষদের ধরে নিয়ে যায়। সীমান্তের মানুষগুলো প্রতিনিয়তঃ আতংকের মধ্যে জীবন কাটায়। কখন তাদের জীবনবাতি নিভে যায় সেই শংকায়। ভারতের মাঝখানেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রগতি সব কিছুই প্রায় ভারতের রাজনীতির উপর নির্ভর করছে। ভারত  বড় দেশে হিসেবে তাদের রাজননৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক হিসেবের বাইরে বাংলাদেশ চলা বা যাওয়ার কোন সুযোগ খুবই কম। বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্র, খামার উৎপাদন, বাণিজ্য সব কিছুর মধ্যেই ভারত জড়ীত। ফারাক্কাবাধ, তিস্তা চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্তিরতা, মাদক ও চোরা কারবারী সবকিছুতেই ভারতের সাহায্য সহযোগীতায় ভূমিকা আছে। ভাতের সাথে সু-সম্পর্ক ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, কোনটাই সফল করা যাবে বলে মনে হয় না। যে বিষয়গুলো  সামনে রেখে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় এমন বিষয়ের চুক্তি ভারতের সাথে করা দরকার। চুক্তির নামে চুক্তি করে লাভ নেই। চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কিছু পেতে হবে। বড় দেশের সাথে চুক্তি করলে ছোট দেশের বেশী লাভ দেখা যায়না। চুক্তি করে বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও বাণিজ্যকে ভারতের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেওয়া চুক্তির যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে বাংলাদেশ কি ফেল সেখান থেকে! মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সাহসীকতার সাথে বাংলাদেশের অমিমাংসিত বিষয় আলোচনা করে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকারের কথা বলবেন এবং দেশের মাটি মানুষের স্বার্থের উদ্দেশ্যে চুক্তি করবেন, সেটায় জাতি প্রত্যাশা করছে তাঁর ভারত ছফরে। এ কথা সত্য যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যা পারবে সেটা অন্য কোন দল ও সরকার কখনো বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস হয়না। তাই অত্যান্ত বিচক্ষনতার সাথে ভারত সরকারের সাথে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী অমিমাংসিত সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশা পূরণ করবে সেটাই জাতি চায়।
লেখক : মাহমুদুল হক আনসারী; সংগঠক, গবেষক ও কলামিষ্ট। E-mail : mh.hoqueansari@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd