ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:১৯:৪৩
হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, ডিম সংগ্রহকারীরা আনন্দিত
ফটিকছড়ি সংবাদদাতা


 


দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র  প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন  ক্ষেত্র হালদা নদীতে শুক্রবার রাত ১২ টার পর জাতীয় "মা মাছ" ডিম ছেড়েছে। হালদা নদী বিশেষজ্ঞ ও চবি'র প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মন্জুরুল কিবরিয়া জানান,গেল বছরের মোট পরিমানের চেয়ে চলিত মৌসুমের প্রথম পর্যায়ে আশামত ডিম ছাড়ায় মৎস্য অধিদপ্তর ও ডিম সংগ্রহকারীরা সন্তুষ্ট।
মধ্যরাত থেকে শত শত জেলে মিহি সূতার জাল নিয়ে নৌকা ও সাম্পানে চড়ে ডিম সংগ্রহ করছে। এ সময় রুই, কাতাল, মৃগেল, কালবাউশ মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের উৎসবে মেতে উঠেন অভিজ্ঞ সংগ্রহকারীরা। হাটহাজারী উপজেলার মদুনা ঘাটের উত্তর দিকে আজিমের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্পটে ডিম পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরো নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার এক মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, গেল কয়েকদিন পাহাড়ি এলাকাসহ নিম্মাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় মা মাছ উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে। তিনি আরো বলেন সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে পাহাড়ী ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মা মাছ হালদায় ডিম ছাড়ে।
জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা আরো জানান, সংগৃহিত ডিম প্রক্রিয়াজাতকরণে
হাটহাজারী এবং রাউজানে প্রচুর সংখ্যক হ্যাচারী রয়েছে। ডিম সংগ্রহকারীরা শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সংগৃহিত ডিম প্রক্রিয়াজাতকরণে উল্লেখিত হ্যাচারীগুলোতে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদিকে, দূর্বল হয়ে পড়া মা মাছ গুলো যাতে কেউ শিকার করতে না পারে সেই জন্য জেলা মৎস্য বিভাগ, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসন থেকে হালদার ২০ কি.মি এলাকায় নিরাপত্তামূলক সব ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এশিয়ার একটি মাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি দূষণ ও নদীর বাঁক পরিবর্তন হওয়ায় ২০১৬ সালে মা মাছ পর্যাপ্ত ডিম ছাড়েনি। ফলে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে গেল এক বছর ধরে পরিবেশ দূষণরোধে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমের শুরুতেই জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ায় শঙ্কা অনেকটা কেটে গেছে। মৎস্য বিজ্ঞানীরা জানান, বর্তমান আবহওয়ার এ পরিবেশ অব্যাহত থাকলে আগামী অমবস্যা ও পূর্ণিমায় আরো কয়েক দফা মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd