ঢাকা : সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী          রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান যে মিয়ানমারকেই করতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী          উচ্চ শিক্ষা বিশ্বমানে উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী          একটির বেশি বাড়ি নয়, গ্রামেও বাড়ি করতে অনুমতি লাগবে          আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা পারি : প্রধানমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১৯:১৭:১৬
১২ বছরের নিচে কোন শিশুকে গৃহকর্মীতে নিয়োগ নয়
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ১২ বছরের নিচে গৃহকর্মী হিসেবে কোনো শিশুকে নিয়োজিত করবেন না। আর গৃহকর্মে নিয়োজিতদের গায়ে হাত তুলবেন না।
 
২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস’ ও ১ মে ‘মহান মে দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এ সামাজিক সংলাপের আয়োজন করে ওশি ফাউন্ডেশন এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
 
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির আগেই বাংলাদেশে আর কোনো শ্রমিক অসহায় থাকবে না। শ্রমিকের কল্যাণে সরকার কল্যাণমুখী নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিকের প্রাণহানির পরে আমাদের একটা শিক্ষা হয়েছে। ওই ঘটনার পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
 
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, দেশের ৮৩ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিটে পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ২০ হাজার শ্রম পরিদর্শক। কিন্তু কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে রয়েছে ৫৭৫ জন শ্রম পরিদর্শক।
 
কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আইনের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
 
এছাড়া শ্রমিক হতাহতের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে দেশীয় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ এবং টঙ্গীতে পেশাগত রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহত অক্ষম শ্রমিকদের জন্য অ্যাক্সিডেন্টাল ইন্সুরেন্স আলাদাভাবে একটি বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে পাইলট ভিত্তিতে স্কিমটি চালু করা হবে।
 
মূল আলোচনায় ওশি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ আর চৌধুরী রিপন বলেছেন, ওশি পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী বছরের প্রথম ৩ মাসে পেশাগত দুর্ঘটনায় ২৯৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০১ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন প্রাতিষ্ঠানিক এবং ২২৬ জন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ছিলেন। আর আহতদের মধ্যে ৪৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক এবং ৫৬ জন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করতেন।
 
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র হিসাবে কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও পেশাগত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে ২৩ লাখ শ্রমিক মারা যায়। অর্থাৎ প্রতিদিন মারা যায় গড়ে ৬ হাজার ৩০০ শ্রমিক। এসব দুর্ঘটনায় বৈশ্বিক জিডিপির ৪ শতাংশ অপচয় হয়, তবে বাংলাদেশে পেশাগত দুর্ঘটনায় জিডিপির কত শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিসংখ্যান অনুপস্থিত।
 
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে এবং ওশি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপারসন ড. এস এম মোর্শেদের সঞ্চালনায় সংলাপে ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সাকি রিজওয়ানা, জাতীয় শিল্প, স্বাস্থ্য ও সেইফটি কাউন্সিলের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রি. জে (অব.) আবু নাইম মো. শহীদুল্লাহ, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সিনিয়র লেবার ইন্সপেক্টর এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আলবার্তো সারডা উপস্থিত ছিলেন।
 
এদিকে সেফটি দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি র্যা লি বের হবে। র্যা লিটি শেষ হবে জাতীয় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গিয়ে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd