ঢাকা : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০৮ মে, ২০১৭ ১০:৫৭:২১আপডেট : ০৮ মে, ২০১৭ ১১:০১:৪৭
বিশ্বজনীন এক মানবজাতি ও সুফিবাদ
প্রকৌশলী পুলক কান্তি বডুয়া


 

ভূমিকা : ধর্মবিশ্বাস নিয়ে মতভেদ ও মতান্তর এর পরিণামে ঘটেছে অসংখ্য ঈশ্বরতত্ব, ধর্মমত, ধর্মদর্শন, দল-উপদল, ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বিভক্ত ছাউনীতে অবস্হান নিয়েছে মানুষ। সব পক্ষেরই দাবী তাঁরাই সত্য, তাদের ধর্মমতই শান্তি ও মুক্তির জন্যে অপরিহার্য, অবিকল্প। এই পরস্পর প্রাধান্যবোধ থেকে উদ্ভূত বিভেদ, বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে বিভাজিত হয়েছে মানব জাতি। একই রক্ত বর্ণ গোত্র হয়েও পরস্পর লিপ্ত হয়েছে ভাতৃঘাতি সংঘাতে, মানবজাতির ইতিহাস বলছে ধর্মে ধর্মে একই ধর্মে বিভিন্ন উপদলে বিভাজিত মতনৈক্যের খরগে যত খুন খারাবী হয়েছে মহামারীতে মৃত মানুষের সংখ্যা তার সমান নয়। ধর্মের নামে যুদ্ধ, ক্রুসেড, জেহাদ, আক্রমণ, আগ্রাসন, জবরদখল, লুণ্ঠন, বহুমাত্রিক জোরজুলুম অথচ যে বিশ্বাস আর ধর্মের জন্যে মানুষ পরস্পর বিভক্ত হয়েছে তার প্রত্যেকটির সারকথা একই অর্থাৎ ধর্ম মানবতার বানীবাহক, শান্তির আশ্রয়স্হল, মুক্তির অবলম্বন, অন্ধকারে আলোর দিশারী, ধর্মে কোনো জোরজুলুম নেই, প্রত্যেকটি ধর্মের অন্ত্রনিহিত বক্তব্য এক ও অভিন্ন, শুধু ভাষা ভিন্ন, স্হান কাল পাত্রের সংস্কৃতি ধারন করেছে বানী বহনের পাত্র হিসেবে। মানুষ যেমন ভিতরে সকলেই একরকম, শুধু স্হান অনুসারে নানা প্রান্তে নানা রং ও বৈচিত্র ধারণ করে ধর্মও ঠিক তাই। এই মানবিক পৃথিবীর এক জাতি হলো মানব জাতি এক বিশ্বাস হলো এক ঈশ্বর যা প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্যেই ধর্মে ধর্মে সম্বন্বয় সাধন করার প্রয়াস এর কারণেই মানুষ আত্ন অনুসন্ধান এর মধ্যদিয়ে পরম সত্ত্বার সংগে মিলনের প্রত্যাশা থেকে মরমীবাদ বা ভাববাদের উদ্ভব ঘটে। বিভিন্ন ধর্মানুসারীদের মধ্যে এ ভাববাদের অনুশীলন হতো প্রাচীনকাল থেকে। মুসলিম দর্শনের ইতিহাসে মরমাবাদ তাসাউফ বা সুফিবাদ নামে পরিচিত। সুফিবাদী সাধকদের সুফি বলা হয়।
 
 
সুফি শব্দের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে বিস্তর মতভেদ। এরমধ্যে চারটি উল্লেখযোগ্য মত হলো - ১) মোহাম্মদ (স: ) এর জীবেদদশায় মসজীদে নব্বীতে ধ্যান তন্ময় কতিপয় সাহাবিকে বলা হতো "আসহাবে সুফ্ফা " (বারান্দার সংগী বা অধিবাসী ) এই সুফ্ফা থেকে সুফী শব্দের উৎপত্তি। ২) সুফ শব্দের অর্থ পশম। যারা অনারম্বড জীবন যাপন করে এবং পশম এর পরিচ্ছদ করেন তারা সুফি। ৩) শব্দটির বুৎপত্তি সাফা (পরিস্কার, পবিত্র ) থেকে। সুফি এখানে পুতচরিত্রের প্রতীক। ৪) পশ্চিমা পন্ডিত ড. আর এ নিকলসনসহ অনেকের সিদ্ধান্তে  সুফি শব্দটি গ্রীক সফিস্ট (shophist- জ্ঞান) থেকে উদ্ভূদ। ড. নিকলসন, ভনক্রেমার, ইজি হেরাইন সহ বহু পন্ডিতের মতে ইসলামের মরমীবাদ তথা সুফিবাদে বেদান্ত দর্শন, বৌদ্ধ দর্শন, ঋ্রিস্ট এ নিও - প্লেটনিক দর্শন এবং পারসিক দর্শনের ব্যপক প্রভাব রয়েছে। সুফি দর্শনের উদ্ভব বিভিন্ন ভাববাদী মরমী চিন্তার সংস্পর্শে বা সম্বন্বয়ে। কোন কোন মুসলিম চিন্তাবিদ সুফিদর্শনের উৎস হিসাবে কোরান হাদিস কে নির্দেশ করেছেন। তবে পটভূমি বিশ্লেষন করে দেখা যায় পারসিক মরমিবাদের সংগে সুফিবাদের সাদৃশ্য ঘনিষ্ঠতর।পারসিকরাই ইসলামী মরমীবাদের স্রস্টা, এমন ধারণা পোষন করেন ই জি ব্রাউনসহ অনেকে। মতান্তরে ইরানী শিয়া সম্প্রদায় এর মরমী সাধকরা সুফিবাদের প্রবর্তক । লক্ষ্যণীয় বেশীরভাগ খ্যাতনামা সুফির জন্ম পারস্যে। সুফিবাদ প্রধানত সর্ব ঈশ্বর বাদে বিশ্বাসী। সৃস্টি ও স্রস্টার মাঝখানে কোন তৃতীয় শক্তিকে স্বীকার করে না। অর্থাৎ স্রস্টার সান্নিধ্য পেতে কোন প্রতিনিধি বা মধ্যস্থতার নিষ্প্রয়োজন। বস্তুত সুফিরা বিশ্বাসের প্রশ্নে আত্নজিজ্ঞাসার উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। ধর্মের অন্তর্গত দর্শন ও ভাবগত শক্তির জাগরণে বিশ্বাসী সাধকরা ধর্মানুসারী তথা মুসলমানের সংখ্যাগরিস্টতা চান না। চান গুণগত পরিবর্তন। আনুষ্ঠানিক ধর্মাচারণের চেয়ে মনুষত্বের চিরায়ত মূল্যবোধকে ধর্মের সংগে একাকার করে দেখানোর প্রয়াস পেয়েছেন তারা। ধর্মাচারণের দৃশ্যমান খোলস বর্জন করে এর বীজশক্তিকে বপন করতে চেয়েছেন মানুষের চেতনায়। সুফি দর্শনের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রেম। প্রেমই ধর্ম। ঈশ্বর প্রেমে সম্পূর্ন নিবেদিত হওয়াই সুফি সাধনার মূল লক্ষ্য। অন্য অর্থে মানুষের প্রতি প্রেমই ঈশ্বর প্রেমের স্হাপক। প্রেম ভালোবাসা ছাড়া বিশ্বাস স্হিত হতে পারে না। কাজেই সুফিরা ধর্মের কতিপয় আনুষ্ঠানিক নিয়ম কানুন এবং নির্দেশনার ছকে আটকে ফেলার পক্ষপাতি নন। বরং ব্যক্তিগত সাধনার মধ্য দিয়ে মানসিকভাব ঈশ্বরের সংগে সংযোগ স্হাপনের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে তারা এও মনে করেন এ সাধনায় সফল হতে হলে গুরুর শরনাপন্ন বা মুর্শিদ হবার বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষক এবং পথপ্রদর্শক। সুতরাং বিশ্বজনীন এক মানবজাতির জন্যে, হিংসা মুক্ত, হানাহানি মুক্ত, এক সৃষ্টিকর্তার মানবিক পৃথিবীর জন্যেই সুফিবাদ।
 
 
মূল কথা : আসুন ভূমিকার সত্য প্রমানে আমি যে ধর্ম বিশ্বাসী পরিবারে জন্মেছি সেই বৌদ্ধধর্ম ও এর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের বিষয়ে একটি বিশ্লেষন "বিশ্বাসের বিবর্তন ----" তুলে ধরছি। তাহলে সুফিবাদ কেন একটি সার্বজনীন বিষয় তা বুঝতে সুবেধে হবে।
 
 
ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম বৌদ্ধ ধর্মে আদিতে কোন দেবতা ছিলনা। বুদ্ধ কোন দেবতার কথা বলেননি। কিন্তু শেষতক বৌদ্ধ মহাযানী সম্প্রদায় সেই বুদ্ধকেই দেবতা তথা অবতার বানিয়ে ছেড়েছেন। পরে এ সম্প্রদায় হিন্দু ধর্মীয় দেবতাদের অনেক কে মেনে নিয়েছে। এমন কী কয়েকজন বিদেশী দেবতাদেরও নমস্য হিসেবে গ্রহন করেছে। বস্তুত স্হানীয়ভাবে নমস্য কোন দেবতাকেই বাদ দেয় নি মহাযানীরা । ক্রমে কল্পিত হলো হাজার খানেক বুদ্ধ , চালু হলো বেধিসত্বের পূজা।
 
 
বৌদ্ধ দেবদেবীর সমারোহ দেখা যায় ৩০০ অব্দে গুহ্যসমাজ নামের বৌদ্ধ শাস্ত্র গ্রন্হ রচনার পর। এ যুগে গড়ে উঠে বৌদ্ধ দেব সমাজ। আনুমানিক ১১৩০ ঋস্টাব্দে রচিত নিস্পন্ন যোগাবলী গ্রন্হে অভযাকবগুপ্ত উল্লেখ করেছেন অসংখ্য দেবদেবীর কথা। পরবর্তীকালে বৌদ্ধসমাজে মঠ এ আচার্য দের চাহিদা মাফিক আবির্ভাব ঘটে নতুন নতুন দেবদেবীর। বৌদ্ধ দেবীদের তালিকায় রয়েছেন আলোকদেবী চারজন, গৌরদেবী আটজন। এছাড়াও আছে ডাকিনী দেবী, দার্শনিক দেবী, বাসিতা দেবী, ভূমি দেবী, ধরিনী দেবী, প্রতিসম্বিত দেবী, দেবী দ্বারপালিকা, দেবী নৃত্য, পন্চরক্ষা দেবী, দেবী পশুমূখী প্রমুখ। মূলত নাস্তিক ধর্ম হলেও একপর্যায়ে জৈনধর্মের অংশবিশেষ দেবদেবীর কল্পনা গড়ে উঠে। চব্বিশ জন তীর্থন্কর বাদে জৈনদেবতাদের মধ্যে রয়েছে চারটি ভাগজ্যোতিষী, বিমানবাসী, ভবনপতি ও ব্যন্তর। বিদ্যাদেবীর সংখ্যা ষোল, স্বরস্বতি এদের প্রধান।
 
 
বিশ্বাসের বিবর্তনের মাধ্যমে পারসিক- গ্রীক দেবতাদের দু’একজন উপাস্য হিসাবে গৃহীত হয়েছিল বৈদিক ভারতে। এখানে বদলে গেছে তাদের নাম এমনকী বৈশিষ্ট্যও। পন্ডিতদের ধারনা ঋগবেদে বর্ণিত অন্যতম দেবতা বরুন প্রাচীন গ্রীক দেবতা উরানাস এর প্রতিকল্প। আবার ঋগবেদে বরুন অসুর নামেও অভিহিত। যাকে অহুর নামে অভিহিত করতো পারসিকরা। অহুর ছিলেন তাদের একমাত্র দেবতা যিনি সব ভালো জিনিষের সৃস্টিকর্তা। আলো ও দয়ার দেবতার বলা হতো তাকে। পরে তিনি রুপান্তরিত হন অহুরা মাজদায় (ঈশ্বর )। পারসিক জরথুস্ত্রবাদিদের অন্ধকার ও পাপের দেবতা দীব ভারতে স্বীকৃতি পায়। পারসিকদের আন্দ্রা দেবতাই  নাকি বৈদিক দেবতা ইন্দ্র। পারসিক সূর্য দেবতা মিথেরার পূজা এখনো প্রচলিত আছে ভারতে। উল্লেখ্য, প্রাসংগীক পারস্যের একটি জনগোষ্ঠীর আনুমানিক ২০০০ খ্রীস্টপূর্বে ভারতে আসে, সংগে নিয়ে আসে তাদের দেব বিশ্বাস। তবে তাদের অহুর অসুর বা অপদেবতা হিসেবে প্রযুক্ত হতে থাকে। সামাজিক, রাজনৈতিক, ও ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে গ্রহন বর্জন চলেছে বদলে গেছে উপাস্য দেবতার গুণাগুণ।
 
 
প্রাচীনকালে ধর্মান্তরিত হবার প্রধান লক্ষণ ছিল যুগ যুগ ধরে উপাস্য দেবতাদের বর্জন করে নতুন উপাস্য দেবতার কাছে মাথানত করা। ধর্ম বদল মানে বিশ্বাস বদল। এই বিশ্বাস বদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন একটি শ্রেণি , যাদের বলা হতো মুনি ঋষি আর শ্রেনীটির নাম ধর্মগুরু। এখান থেকেই গুরু শ্রেনীর সাথে ভারতবাসীর পরিচয় ঘটে। প্রাচীন কালে এরা নিজেরাই নিজেদের মুনি ঋষি সন্যাসী তপস্বী নামে পরিচিত করাতেন। প্রয়শই মুনি ঋষিরা ছিলেন ব্রাহ্মণ সন্তান। সম্ভবত মুনি ঋষিরাই প্রথম আশীর্বাদ- অভিশাপের ধারণা জন্ম দেন। তাঁরাই প্রচার করেন তপস্যার মাধ্যমে তিনি ঈশ্বর বা অতিপ্রাকৃত শক্তির অনুগ্রহ ভাজন হয়েছেন কাজেই ঈশ্বর তার কথা রাখতে বাধ্য। সাধারন মানুষের মধ্যে এই ধারনা বদ্ধমূল করার পর কথিত ধর্মগুরু রা বরপ্রদান এ শাপান্ত করার প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজের মতের অনুকূলে আনতেন। এমন কী প্রতাপশালী রাজরাজরাও তাদের সমীহ করে চলতেন। বিশ্বাসের এ ধারনাটি এখনো বিদ্যমান। বিজ্ঞানের এ যুগেও সর্বস্তরের মানুষ মুনি ঋষি, সাধু সন্যাসী, বুজরুগীতে সিদ্ধহস্ত ভেকধারীদের শরনাপন্ন হন। তাদের বর বা আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। কোন কোন পণ্ডিতের মতে এই সব গুরুরা ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রথম পর্যায়ের ভূ- স্বামী বা জমিদার সম্প্রদায়। এরা সংসার জীবন যাপন করতেন কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে আরালে, অর্থ সম্পদ আর বৈভব অর্জনের জন্যে খুলে বসতেন নানা আশ্রম। ধর্ম শিক্ষা আর বিদ্যাদানের নামে অবিভাবক থেকে মোটা দক্ষিনা ও শীক্ষার্থী দের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করতেন। পেতেন রাজগৃহে পৌরহিত্য  করার সুযোগ। এই পুরোহিতরা রাজ শক্তিকে ব্যবহার করতেন বিরোদ্ধবাদীদের শায়াস্তা করতে। শাস্ত্র পঠন পাঠন যজ্ঞ পূজা মন্ত্রদান এর মধ্যমনি হয়ে উঠেন গুরুরা। এদের দাপট ও ক্ষমতা রাজাকেও অনেক খেত্রে ছাড়িয়ে যেত। এই দেবতা ও গুরু প্রথার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার ও প্রতিবাদী কন্ঠের নাম মহামতি গৌতম বুদ্ধ ও তার অবিসংম্বাদিত কালাম সূত্র।এসো দেখো, নিজের বুদ্ধি, জ্ঞান এর মাধ্যমে সত্য গ্রহন করো।  গোটা ভারতবর্ষ তখন ব্রাম্মন্যবাদ, গুরুবাদকে ত্যাগ করে যে মানবিক বোধের বিশ্বাস সৃস্টি করেছিল, তারই ফলে বুদ্ধের মৃত্যূর পর প্রতিশোধ নিতে এই ব্রাহ্মণ আর গুরুরাই বুদ্ধ কে ও তার প্রচারিত ধর্মকে কলুষিত ও আবরন ঝুলিয়ে নিয়ে গেছে সেই প্রাচীন বিশ্বাসের পদমূলে। বুদ্ধ নাম ও দর্শনে আছে, আচরণে নাই। সকলেই সেই প্রাচীনকালের মতোই দেবতা অনুগ্রহে ব্যাস্ত। গুরুরা বিজ্ঞানের এই চরম যুগেও ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের জ্ঞান সল্পতা আর অলসতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বাসের পৌনপুনিক বিবর্তন ঘটিয়ে চলছে। আমরা অনেকেই নীরব দর্শক। বিপর্যস্ত প্রাচীন কাল থেকে আজো অবধি নারী। নারী তাই নিষিদ্ধ বস্তু বটে কিন্তু বিশ্বাস ও শ্রোতা দর্শক হিসেবে ঐ নারীই ভরসা, এই গুরুদের প্রতিপত্তি প্রদর্শনের সমাবেশে । আধুনিক গুরুরা সেই প্রাচীন পদ্ধতির আধুনিক সংস্করন ঘটিয়ে নতুন নতুন দেবতা ও বুদ্ধের প্রতিরূপ তৈরী করে এক নতুন রাজ্য ও জমিদারি বিনির্মান করে চলেছেন এবং প্রত্যেকেই কোন না অলৌকিক শক্তির মীথ ছডিযে দিচ্ছে । ফলে একই উদ্দেশ্যের গুরুরা পরস্পর কে আক্রমণ করছে, একে অপর কে ভণ্ড বলছেন, মূলত গ্রাহক ও দাতা হাতছাডা হবার ভয়ে। নতুন নতুন বিশ্বাস আর বিবর্তনের ফাঁকেই জন্ম হচ্ছে ধর্ম বিরুপ শক্তিশালী যুক্তিবাদী তরুণ সমাজ । ফলে সমাজের সব শক্তি সোচ্চার এদের ধর্ম দ্রোহী ও বিপদগামী আখ্যা দিতে। কেউ বুদ্ধের মৌলিক শিক্ষায় ফিরে যেতে আর চায় না। কারণ চারপাশের অন্যসকল ধর্ম বিশ্বাসের সাথে টিকে থাকতে বিশ্বাসের অন্ধ বিবর্তন অন্ধ সমাজে বসবাস কারী বৌদ্ধ নাম ধারী হয়ে থাকাটা বডুয়া বৌদ্ধ সমাজের টিকে থাকার কৌশল হয়তো কিন্তু তা আদৌ কোন প্রজ্ঞাবান মানুষের বিশ্বাস নয়। বুদ্ধ মানুষের। কোন একক সম্পরদাযের নয় । কোন বিজ্ঞানী যেমন কোন সম্রদাযের নয়, তেমনি বুদ্ধ দু: খ মুক্তির পথের আবিষ্কারক হিসেবে কোন সম্প্রদায় এর সম্পত্তি নয়। পৃথিবীর মানুষ তাকে সক্রেটিস গ্যালিলিওর মতোই এক দূর্লভ মানব হিসেবে মানবিক পৃথিবীর সম্পদ মনে করে। জাতিসংঘ তার জন্ম দিন উদযাপনের মধ্যদিয়ে বুদ্ধ কে মন্দির আর গুরুদেব কারাগার থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেছেন। বিশ্বের সব মানুষের কাছে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর কার্যকরণ থিউরী অনুসরনের মাধ্যমে বিশ্বাসের বিবর্তন ঘটাতে আহ্বান জানায় এর মাধ্যমে।  এক জাতি, এক সম্রদায়, এক বিশ্ব ও মানুষের পৃথিবীর একটি ঠিকানা রচনার মধ্যদিয়ে সাম্যের পৃথিবী বুদ্ধের আলোকিত সত্য ধারনেই  সম্ভব। এখানে বুদ্ধ একজন প্রাচীন সুফী। যিনি নির্দিষ্ট সম্পরদায়ের নয়। যিনি মানবিক। যিনি শিক্ষক। সুতরাং আজকের পৃথিবীর সব ধর্মমতকে ধারণ করতে পারে একমাত্র সুফিবাদের বিকাশের মধ্য দিয়ে। আজকের আধুনিক যুগে তাই মাইজভাণ্ডার তরিকা এমন একটি সুফিবাদ লালন ও চর্চা করে যা সার্বজনীন মানবিক পৃথিবীর ঠিকানা।
লেখক : আহ্বায়ক, বাংলাদেশ বাঙালি আদিবাসী ইউনিয়ন। মুক্ত আলোচক, লেখক, গবেষক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রকৌশলী ।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd