ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৮ মে, ২০১৭ ১৪:৫২:৪২
‘আমি বন্ধুর প্রেম আগুনে পোড়া’
লোককবি রমেশ শীলের ১৪০তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই


 


স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির প্রেম। সৃষ্টির সাথে সৃষ্টির প্রেমযোগ। মনের সাথে দেহের প্রেম। স্বর্গীয় এক অপরূপ শব্দ ‘প্রেম’ নিয়ে লোককবি রমেশের লেখনিতে আজকের শব্দ চয়ন “আমি বন্ধুর প্রেম আগুনে পোড়া।”
প্রেম নিয়ে লোককবি রমেশ লিখেছেন, “প্রেম করে যেই জানে, দেখলে তারে যায় গো চিনা হাসি রেখা নয়ন কোণে,/ প্রেম করে প্রেমিকেরা, বিচ্ছেদ ভয় করে না তারা, প্রেমে থাকে মাতোয়ারা আর কিছু না চিনে/ খাইতে শুইতে নিত্য বন্ধু পরে মনে/ নয়নে নয়নে সাদা কথা বলে মাশুক সনে।/ একযোগে নীরে ক্ষীরে, হংস যেন পরখ করে, ভেসে বেড়ায় প্রেম সাগরে,/ কাম থাকে পিছনে। প্রেম রসে সাঁতারে সদা প্রেম উদ্দীপনে-/ সমজ্ঞান তার জয় পরাজয়,/ সুখ দুখ নাই লাভ লোকসানে,/ প্রেমিকের প্রেম ইশারা, বুঝে কে সেই দৃষ্টি ছাড়া/ ভংগিতে কিছু যায় ধরা শুদ্ধ প্রেমিক জনে/ যখন দেখে এই জগতে মাশুক বলে যানে-/ প্রেমালাপ টের করতে পারে কেরামন আর কাতেবিনে।/ প্রেমিকে প্রেমিক মিলে, চৌখের কোণে আলাপ চলে,/ মেওয়া মিশ্রি মিষ্টি আদান প্রদানে।/ এক পলকে ছায়ের করে সারাজাহানে-/ রমেশ বলে প্রেমের বিষে উজান ভাটি নাহি মানে।”
“মানববন্ধু” বইতে এইভাবে প্রেমিকের বর্ণনা দিয়েছেন লোককবি রমেশ শীল। একজন প্রেমিক মানুষকে প্রেমের স্বর্গীয় শব্দের সাথে মিলমিশ করতে লেখনির ভাবাবেগ দিয়ে ইহ আর পরকালের চৈতন্যকে জাগিয়ে তুলতে এ যেন একটি পর্যায়। প্রেম না থাকলে আবেগ নেই, বিবেক শাণিত হয় না। আপন চেনা যায় না, সবকিছু যেন রাতের আঁধারের মতো অজানা ও অচেনা হয়ে যায়। তাই প্রেমের আবেগকে উজ্জ্বীবিত করতে একই বইতে রমেশ আরো লিখেছেন, “প্রেম করা কি মুখের কথা হয়,/ দরবারি ভাই।/ সত্য প্রেম যে করেছে প্রথম ঘুচে মরণ ভয়।/ এব্রাহিম করিল প্রেম জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ পাই,/ প্রাণের পুত্র জবাই দিতে একবিন্দু তার দ্বিধা নাই,/ জ্বলন্ত আগুনে পরে প্রেমে অটল অচল রয়।/ মনছুরে কাজির হুকুমে শুলেতে দিল চড়াই,/ শুলি নাকি মসার (মশা) কামড় প্রেমে তার চৈতন্য নই,/ শুলে বসি হাসি মুখে আনাল হক আনাল হক কয়।/ জকরিয়া পয়গম্বরের করাতে চিড়ে মাথা,/ উহু করে ডাক ছাড়ে না দেখ প্রেমের ক্ষমতা,/ সত্য প্রেম যার হৃদে গাঁথা তাহার এই অবস্থা হয়।/ ইউসুপ প্রেমে জোলেখা কেন্দে অন্ধ দু-নয়ন,/ লায়লা প্রেমে কায়েস মজনু সত্য প্রেমের নিদর্শন/ প্রেমিকের নাই জন্ম মরণ রমেশ কয় এই পরিচয়।”
এই প্রেমের মাধ্যমে রমেশের সত্তা প্রেমিক বন্ধু বানিয়েছেন সৃষ্টির স্রষ্টাকে। আর এমন স্রষ্টাকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন স্রষ্টার সৃষ্টি মানব সন্তানকে। প্রেমিক মানুষকে যেমন আত্মা ও রক্তের সাথে মিশিয়ে আপন করে নেয়, তেমনি রমেশ তার আপন স্রষ্টাকে বন্ধু বানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সনাতনী ধর্মীয় পরিচয়ে ছিল বলে তিনি লিখে গেছেন, “আমি বন্ধুর প্রেম আগুনে পোড়া। প্রাণ সইগো/ আমি মরলে পুরিস না তোরা।/ সই গে সই/ আমি মরলে না পুড়িও যমনুাতে না ভাসাইও তমাল ডালে বেঁধে রাখিস তোরা/ বন্ধু যেদিন আসে দেশে/ বলিস তোরা বন্ধুর কাছে/ তমাল ডালে তোমার প্রেমের মরা/ প্রাণ সইগো/ বন পোড়া যায় সবাই দেখে/ মনের আগুন কেউ না দেখে/ দিকে দিকে চলছে একি ধারা/ আমি জ্বলে পুড়ে হলাম ছাই/ পুড়িবার আর অঙ্গ নাই/ পোড়া দেহ কি পুড়াবি তোরা/ প্রাণ সই গো/ যেদিন বন্ধু ছাইড়া গেছে/ সেদিন পোড়া দিয়া গেছে/ সে পোড়া হয়েছি আঙ্গারা/ শুন বলি সই প্রাণ সখি,/ পুড়িবার আছে কি বাকী/ পোড়া ছালি কখন যায় না পোড়া/ প্রাণ সই গো।”
প্রেমের মর্ম বুঝানোর এ মানুষের ১৪০তম জন্মদিন ২৬ বৈশাখ মোতাবেক ৯ মে। এই দিনে তাঁর প্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিনোদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd