ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১১ মে, ২০১৭ ১১:০৭:৪৫
হাওরে বিপর্যয় : দায় ও দীনতা
করীম রেজা


 


সুনামগঞ্জ, বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহের হাওর অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে উপদ্রুত এলাকায় যেতে হয়েছে। গণমাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ প্রচারিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতির উন্নতি অবনতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে আতঙ্কের বিষয় হলো- প্রতিদিনই কোনো না কোনো খবরে নানা রকম অবহেলা ও দুর্নীতির বিষয় প্রকাশ পাচ্ছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি লোকজনের পাশাপাশি বেসরকারি লোক এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত বলে জানা যাচ্ছে। তবে আশার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি হাওরবাসী জনগণের দুর্দশা দূর করার জন্য তার সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিজে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

 

আগামী ফসল ঘরে তোলার পূর্ব পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভুক্তভোগী মানুষের ঋণভার লাঘবে কৃষিঋণ আদায় স্থগিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রয়োজনের সময় বীজ, সার ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দুর্নীতি ও গাফিলতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনজন পদস্থ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

 

কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার বিস্তারিত প্রতিদিনই গণমাধ্যমের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংগ্রহ ও প্রচার করছেন। এখানে তা বিস্তারিত উল্লেখ বাহুল্য মাত্র। সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের ফারাকের কথা বিশ্লেষণ না করেও বলা যায় ক্ষয়ক্ষতি সীমাহীন। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সর্বোপরি জীবনযাপনে বিরাট হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। যা মোকাবিলা করা একা জনগণের পক্ষে এক কথায় অসম্ভব। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের বাইরে স্থানীয় এনজিও এবং মহাজনের ঋণের দেনা শোধের চাপে ও আতঙ্কে অনেকেই ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দিষ্ট। এই সংকট মোকাবিলা করার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। এ বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই।

 

বলা হচ্ছে, এই বিপর্যয়ের মূল প্রধানত প্রাকৃতিক। অকাল বন্যা, অসময়ে অতিবৃষ্টি, পরিবেশ ও জলবায়ুর বৈশ্বিক পরিবর্তন, স্থানীয়ভাবে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং দুর্নীতি, বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এর জন্য দায়ী। এই অবস্থায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কানাডা সফরের ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের অমানবিক আচরণের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ পর্যন্ত দেশের পানিসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে যে কোনোই ভূমিকা পালন করেনি, তা প্রমাণের জন্য কোনো গবেষণার দরকার নেই। দেশের বিভিন্ন নদীর দূষিত ও অব্যবহারযোগ্য পানি যেমন বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা বা তুরাগ নদের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট। নদীর নাব্যতাও এ প্রসঙ্গে বিবেচনা করা যায়। নদী খনন না করেই প্রকল্পের টাকা পরিশোধ অথবা ভাগাভাগি করা হয়। সুবিধা হলো পানির নিচে কেউ কিছু যাচাই বা দেখতে পারবে না।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো একটি কায়েমি স্বার্থবাদী চক্রের করায়ত্ত। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে তা আরও সুবিধাজনক। হাওর অঞ্চলে সাংবৎসরিক বন্যা একটি সাধারণ ঘটনা। এখানে বাঁধ দিলেও পানি আসে, না দিলেও আসে। পানিতে তলিয়ে গিয়ে বাঁধ ভাঙে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমীকরণ হচ্ছে কাজ করলেও যা কাজ না করলেও তা। কাজ না করেও বলা সহজ যে বাঁধ বন্যায় নষ্ট হয়েছে। তাই আবার বাঁধ নির্মাণ বা মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয় এবং তা যথাসময়ে পাওয়াও যায়। নান রকম অজুহাতে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকল্পের কাজে বিলম্ব করা হয়। যাতে বন্যার পানিতে তাদের লোক দেখানো কাজের সবটাই পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
কিন্তু এবার প্রকৃতি এই কায়েমি গোষ্ঠীর হিসাবে গ-গোল বাঁধিয়ে দিয়েছে; অসময়ের বৃষ্টি ও অকালে বন্যায় ফসল ডুবিয়ে দিয়ে। গোপন আঁতাতের বিষয়টি অবশেষে বন্যার জলে ভেসে সবার নজরে এসেছে। সে কারণেই আমরা দেখতে পাই একের পর এক হাওর প্লাবিত হলেও, হাওরের লোকজন টানা ২৫ দিন নিজেদের চেষ্টায় বাঁধ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাদের পাশে, তাদের মাঝে যেতে সাহস পায়নি। তাদের অপরাধবোধের কারণে তারা জনগণের সামনে যেতে ভীত।  জনরোষের আতঙ্ক তাদের ভিতরে ছিল। অপরাধী সবসময়ই সত্যের মুখোমুখি হতে আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। তাদের জবাবদিহিতার দায় নেই বলেই তারা এলাকায় না গিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ম্যানেজ করার কাজে নিয়োজিত থাকে। অন্যান্যবারের মতোই হাওর প্রকল্প তাদের পকেট ভারী করত। কিন্তু প্রকৃতি বিরূপ, তাই দেখতে পাই তাদের অপরাধ, যা বছরের পর বছর একইভাবে করেছে, তা এবারে করতে পারেনি। তারপরও ক্ষীণ একটু আশা জেগেছিল পানিতে মরা মাছ ভেসে ওঠায়, হাঁস মারা যাওয়ায়। আনবিক তেজস্ক্রিতার ধূ¤্রজালে সব আটকে গেলে তারাও পার পেয়ে যেত, অকাল বন্যা ও অসময়ের অতিবৃষ্টির বিবরণ উপরওয়ালাদের কাছে পাঠিয়ে।

 

দুর্যোগের শুরুতেই সরকারপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল একটি তদন্ত কমিটির। ১৫ দিনের মধ্যে সেই কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও মাসখানেক অতিবাহিত হলেও আমরা রিপোর্টেও কোনো হদিস পাই না। সম্প্রতি আরও চমকপ্রদ সংবাদ পাওয়া গেল একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে। দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৈঠক করার সময় জানা গেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই আজ পর্যন্ত দুর্গত এলাকা স্বচক্ষে দেখতে যাননি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য জোগাড় করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিয়েছেন। বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া যায়। মাননীয় মন্ত্রী এ নিয়ে বিরক্তি ও উষ্মা প্রকাশে দ্বিধা করেননি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্য সাহায্য অব্যাহত থাকবে। বিপর্যস্ত পরিবারগুলো যাতে সাহায্য ঠিকমতো পায় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে যত সাহায্যই দেওয়া হোক, তার সুফল পাওয়া যাবে না। কেননা দুর্নীতির আগ্রাসী থাবা কোনো মানবিকতা মানে না। দুর্গত পরিবারের সংখ্যা নিয়েও আছে অনেক রকম বিভ্রান্তি। লিখিতভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায় এড়াতে চেয়েছেন। মোবাইল, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেটের ব্যবস্থা থাকার পরেও এই কথা মেনে নিলে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা পরিহাসের মতো হয়ে যায়।

 

বাংলাদেশটি জনগণের। দেশে যা কিছু হয় সবই জনগণের নামে, জনগণের জন্য, জনগণের টাকায়। কিন্তু জনগণের তাতে কোনো লাভ হয় না। জনগণের উন্নতি হয় না। বেতন দ্বিগুণ হয় সরকারি কর্মচারীর, জনগণের নয়। জনগণ ছিন্নমূল হয়, বস্তিবাসী হয়, সব দায় জনগণের। আইনের অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে নিজেদের সুবিধাই বৃদ্ধি করে। খাদ্য বিতরণ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা কথা প্রচার হচ্ছে। হাওরে বা বিলে স্থানীয় জেলে কৃষকদের মাছ ধরা নিয়েও চলছে নানা রকম আলোচনা। এখানেও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য। হাওর জলাধার ইজারার বিনিময়ে সরকারের কোষাগারে যে সামান্য কিছু টাকা যোগ হয় তার কয়েকগুণ টাকা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকা লোপাটে কেউ কারো চেয়ে কম নয়।
‘ভাটি শার্দূল’ মহামান্য প্রেসিডেন্ট হাওরের দুর্গতি শুরুর প্রাক্কালেই সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সারাজীবনে তিনি এমন পরিস্থিতি দেখেননি এমন মন্তব্যও আমাদের সরকারের উচ্চপদে আসীন কর্তাদের কানে ওঠেনি। প্রেসিডেন্টের কথায় যথাযথ গুরুত্ব দিলে অনুমান করা যায় হয়তো পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হতো না।

 

বিপদে-আপদে দুর্যোগে সামাজিকভাবে আর্তমানবতার সেবায় ন্যূনতম সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ছিল আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ, অংশ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক বিভেদ সেখানে কখনই বিবেচ্য ছিল না। কিন্তু হাওর তথা ভাটি অঞ্চলের মানুষের এই সীমাহীন আপদের কালে আমরা দেখলাম কেউ তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো না। স্থানীয় বা দেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের অঙ্গ সংগঠন, সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কোনো নেতাকর্মী বা প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি আমরা দেখলাম না। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, দু’একজন ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা ২৫-৩০ জন এমপির কাউকে আমরা দেখলাম না দুর্গতদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। এই দীনতার কি কোনো ক্ষমা আছে?   

 

পত্রিকান্তরে খবরে জানা গেল, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট সাহায্য সংগ্রহের জন্য রাস্তায় বেরিয়েছে। তারা গান গেয়ে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দান সংগ্রহ করছে আজ প্রায় ৫-৬ দিন যাবৎ। তাদের উদ্যোগ এই দুঃসময়ে, সংস্কৃতি-মানবতাহীন সময়ে এক অনুসরণেয়, অনুকরণেয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার প্রমাণ বেশ কিছু রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানও  ইতোমধ্যে দান সংগ্রহে মাঠে নেমেছে।

 

সাধারণ মানুষ পারে না এমন কিছু নেই। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে কা-ারির দরকার। প্রশাসনের সর্বস্তরে ঘুষ-দুর্নীতি নানা আকারে-প্রকারে ব্যাপ্ত। এর সমূল উৎপাটন না হলে উন্নয়ন প্রচষ্টা ব্যাহত হবে প্রতি পদে। অপরাধীদের দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। লোক দেখানো সাময়িক বরখাস্ত কোনো প্রতিকার নয়। আমরা জানি, পানিসম্পদমন্ত্রীও হাওর বিপর্যয়ের প্রাথমিক দায় চাপাতে চেষ্টা করেছিলেন সাধারণ কৃষকদের উপর। হাওরকেন্দ্রিক দুর্নীতি কেবলমাত্র জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে সীমিত নয়, সরকারের উচ্চপদে সমাসীন কর্তাব্যক্তিরাও জড়িত।

 

বছরের পর বছর একই কায়দায় একই জায়গায় প্রকল্প গ্রহণ, অর্থছাড় কিংবা কতিপয় মুখচেনা ঠিকাদারই কেন বার বার কাজের দায়িত্ব পায়, এর সবকিছুতেই আছে দীর্ঘ সময় নিয়ে গড়ে তোলা একটি লুটেরা চক্র এবং চক্রের কারসাজি। এমনকি এসব বিষয় সাধারণ মানুষ যেমন জানে তেমনি উঁচু পদের আমলাগণও ভালো করেই জানে। তাই একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, এই চক্র ভাঙার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সাময়িক চাকরিচ্যুতি তাদের গায়ে আঁচড়ও কাটবে না। যেখানে লাখ লাখ লোক বিপদগ্রস্ত, ২৫-৩০ লাখ লোকের সারা বছরের ফসল নষ্ট হলো কতিপয় ব্যক্তির অবিমৃষ্যকারিতায়, যেখান থেকে সারাদেশের এক পঞ্চমাংশ খাদ্যের জোগান পাওয়া যেত, সেখানে মানবসৃষ্ট এই দুর্যোগের হোতাদের জেলবন্দি করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। মাত্র তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত কোনো কঠিন সরকারি ব্যবস্থার পরিচায়ক নয়। এই রকম স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির লঘুদ- ব্যবস্থায়  অন্যেরা নিরুৎসাহী না হয়ে বরং উৎসাহ বোধ করবে আবারও লুটের ভাগীদার হতে। হাওর, পানি, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ সবক্ষেত্রেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আমরা মালিক, শ্রমিক, আমলা চক্রের সর্বশেষ সিটিং সার্ভিস নাটক থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা নিতে পারি। হাওর বিপর্যয় আমাদের চোখের পর্দা সরিয়ে দিয়েছে।

 

অনতিবিলম্বে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা তৈরি করে সাহায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে সরকার প্রতিশ্রুত সকল সুবিধা যেন জনগণের দোরগোড়ায় সহজেই পৌঁছানো যায় তার কার্যকরী পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করলে আশা করা যায় সুফল বয়ে আনবে। সেইসঙ্গে তথাকথিত ইজারা বাতিল করে স্থানীয় লোকজনের জন্য হাওর-বিলে বিনা বাধায় মাছ ধরা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা বিধান করাও আশু কর্তব্য। রাত পোহালে যাদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু নেই, তাছাড়া সারা বৎসর যাদের শুধু এই একমাত্র বোরো ফসলই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন তাদের কথা উন্নয়নের প্রথম ধাপেই বিবেচনা ও পরিকল্পনায় থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। এই বাস্তবতার বাইরে আসতে আর কত দিন লাগবে? আর কতবার হাওর বিপর্যয় ও ফসলহানি ঘটলে আমাদের বাস্তববোধ জেগে উঠবে?
লেখক : কবি ও শিক্ষাবিদ, ই-মেইল : karimreza9@gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd