ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে, নতুন ঐক্যের দরকার নেই : নাসিম          ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১৩ মে, ২০১৭ ১৪:০৫:৩৭আপডেট : ১৩ মে, ২০১৭ ১৪:৫৩:১৭
মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দার্জিলিং ভ্রমণ
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 

পাহাড়, মেঘ, সবুজের সমাহরহ দার্জিলিং। পাহাড়ের মাঝে মাঝে ছোট খাটো লেক। লেকের পানি অনেক স্বচ্ছ। আর ঐ পানিতে গাছের ছায়া অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। মেঘগুলো অনেক নিচে। মেঘেরও উপরে একটি শহর। মাঝে মাঝে মেঘ পৌঁছে যায়।
 
 
অনেক মানুষ। সুন্দর জায়গা। দার্জিলিং এর মানুষ এক সাথে অনেক গুলো ভাষায় কথা বলে। ওদের প্রধান ভাষা হচ্ছে নেপালি। দার্জিলিং পশ্চিম বাংলায় অবস্থিত। পশ্চিম বাংলার আন্ডারে ওদের প্রশাসন। বাংলাও জানে। হিন্দি তো জানেই। সারা বিশ্ব থেকে অনেক  ট্যুরিস্ট আসার কারণে ইংরেজিও জানে বা জানতে হয়।
 
 
দার্জিলিংয়ে পাহাড় আর পাহাড়। যেন পাহাড়গুলো আমাদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। পাহাড়গুলোর উপরেই দার্জিলিং। অনেক উপরে। পাহাড়ের মাঝে মাঝে বসতি। নিচ থেকে যেমন পাহাড়ের উপরের বাড়িগুলো খুব ক্ষুদ্র দেখায়। আবার উপর থেকেও নিচের বসত বাড়িগুলো খুব ক্ষুদ্র দেখায়।  বিমানের উপর থেকে যেমন সব কিছু ক্ষুদ্র দেখায়, তেমনি পাহাড়ের উপর থেকে নিচের সমতল ঘরবাড়িগুলো তেমন দেখায়। অনেক উপড়ে ওঠার পর মেঘের জন্য আর নিচের সব কিছু দেখা যায় না। কেমন ঝাপসা দেখায় সব।
মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দার্জিলিং ভ্রমণ
 
পাহাড়ি রাস্তার মোড়গুলো কেমন যেন ভয়ঙ্কর। মাঝে মাঝে ১৮০ ডিগ্রি টার্ন। পাশে তাকালেই পাহাড়ের পাদদেশ। কোন ভাবে পড়লে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেউ মনে হয় না খুঁজতেও আসবে।
 
 
দার্জিলিং এর মূল শহরে অনেক মানুষ জন। অনেক ভিড়। অনেক দোকান পাট। এমনকি এই পাহাড়ের উপরও ও জ্যাম লাগে। এখানে খুব সন্ধ্যায়ই সব বন্ধ হয়ে যায়, দোকান পার্ট সব কিছু।
 
 
 
 
টাইগার হিল
আগের দিন রাতেই টাইগার হিলে যাওয়ার জন্য গাড়ি ঠিক করে রাখতে হয়। টাইগার হিলে সবাই যায় সূর্যদয় দেখতে। আর তা দেখা জন্য বের হতে হয় ভোর চারটায়। টাইগার হিল দার্জিলিং এর সবচেয়ে উঁচু যায়গা। মূল টাউন থেকে  প্রায় ১১ কিলো.দূর। আর জীপে করে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিটের মত লাগে।মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দার্জিলিং ভ্রমণ
ঐখানে টিকেট কাটতে হয়। টিকেট কেটে আরো অনেক দূর যেতে হয়। পাহাড়ে হাঁটা যথেষ্ট কষ্টকর, তারপরও সূর্যদয় দেখার জন্য সবাই টাইগার হিলে জড়ো হয়। আসলেই সুন্দর দেখায় সূর্যদয় টাইগার হিল থেকে। টাইগার হিল থেকে ফেরার পথে আরো দুইটা স্পট পড়ে। একটা মন্দির। আরেকটা হচ্ছে বাতাসিয়া লুপ।
 
 
বাতাসিয়া লুপ
বাতাসিয়া লুপে কিছু ফুল গাছ সুন্দর করে সাজানো আছে। এটা ছোট রেইল লাইনের একটা রাস্তা বা লুপ।  যেটা সুন্দর, তা হচ্ছে বাতাসিয়া  লুপ থেকে দার্জিলিং শহরের ভিউ। এখান থেকে দার্জিলিং এর অনেক অংশের অসাধারণ ভিউ দেখা যায়।
 
এভারেস্টে যারা উঠতে চায়, তাদের জন্য HMI তীর্থযাত্রার মত। এখানে ট্রেনিং দেওয়া হয়। থাকার ব্যবস্থাসহ সব কিছু আছে। সাথে রয়েছে মিউজিয়াম। এখানে যথেষ্ট সমৃদ্ধ্ সংগ্রহ রয়েছে। সব এভারেস্ট সম্পর্কিত।  এ ইন্সটিটিউটটি Tenzing Norgay এর সন্মানে করা হয়।
 
 
চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানা তেমন বড় না। অল্প কিছু প্রাণী। কিন্তু উঁচু নিচু হওয়াতে হাঁটতে ভালোই কষ্ট হবে।
 
 
চা বাগান
যদিও দার্জিলিং এর প্রায় পাহাড়েই চা বাগান। তারপরও কাছে গিয়ে দেখা হয় চা বাগান।
 
 
ক্যাবল কার
ক্যাবল কারে উঠার জন্য টিকেট কেটে নিতে হয়। লম্ভা সিরিয়াল। উঠা যায় ৬ জন। চার কিলো. মোট। নামতে দুই কিলো, উপড়ে উঠতে দুই কিলো। এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টার মত লাগে। ক্যাবল কার থেকে চারপাশ দেখতে এত বেশি ভালো লাগে বলার মত না।মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দার্জিলিং ভ্রমণ
 
 
রক গার্ডেন
রক গার্ডেন এ সাধারণত বিকেলের দিকে যায় সবাই। ৩টার দিকে। তখন জীপ পাওয়া যায়। এক সাথে অনেকে যাওয়া যায়, এতে খরচ কম।
রক গার্ডেন দার্জিলিং শহর থেকে অনেক নিচে। যাওয়ার পথে অনেকগুলো চা বাগান চোখে পড়ে। আর নিচ থেকে দার্জিলিং শহর ও চোখে পড়ে। রক গার্ডেনে একটা ঝর্ণা আছে। জায়গাটা খুব সুন্দর করে সাজানো, ফুল গাছ দিয়ে। ঝর্ণাটা এত বেশি বড় না। কিন্তু সুন্দর। ঝর্ণা থেকে ঝর্ণার চারপাশ বেশি সুন্দর। ঝর্ণার উপরের দিকে উঠার জন্য সিঁড়ি করে দেওয়া আছে। সিঁড়ি বেঁয়ে উপরে উঠে এক পাশ দিয়ে উঠে আরেক পাশ দিয়ে নামা যায়।  পাহাড়, মেঘ আর আকাশের নীল মিলে দারুণ লাগে দৃশগুলো।
মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দার্জিলিং ভ্রমণ
 
চৌরাস্তা এবং মল
চৌরাস্তা দার্জিলিং এর কেন্দ্র। চৌরাস্তার পরেই রয়েছে মল। এখানে অনেকটুকু সমতল জায়গা। অনেক মানুষ জড়ো হয়। চারপাশ সুন্দর ভাবে দেখা যায়। আর এখানে রয়েছে একটা স্টেজ। কনসার্ট বা বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়।
চৌরাস্তার আরো উপরে রয়েছে অবজারভেটরি হিল এবং Mahakal Temple ।
সূর্য মেঘের আড়াল হলেই কেমন সব অন্ধকার হয়ে যায়। ঠাণ্ডা লাগাও শুরু হয়। আবার খুব দ্রুতই সূর্য অস্ত যায় । মলের খোলা জায়গা থেকে এখানকার ভিউ বেশি সুন্দর দেখায়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd