ঢাকা : বুধবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • আঞ্চলিক দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে নারীরা এগিয়ে : চুমকি          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে          সরকারের কাজ সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই উন্নয়ন মেলা          পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন          বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে শতশত মুসুল্লি
printer
প্রকাশ : ১৫ মে, ২০১৭ ১১:৫৪:৩৭আপডেট : ১৫ মে, ২০১৭ ১২:২৭:৪৭
মায়ের সেবার একটি উপহার
সাহিদুর রহমান খান


 

রাসুল দঃ সব সাহাবীদের মধ্যে তাঁর বিশেষ বিশেষ স্মৃতিময় উপহার বন্টন করছেন, এরমধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিলো রাসুল দঃ এর জুব্বা মোবারক। হযরত আলী রাঃ ভাবলেন তিনি যেহেতু রাসুলের দঃ জামাতা তিনিই হয়তো পাচ্ছেন, ওমর রাঃ ভাবলেন যেহেতু তিনি এতো বীরত্ব নিয়ে ইসলাম এর জন্য কাজ করছেন তিনিই হয়তো পাচ্ছেন, আবু বকর রাঃ ভাবলেন তিনি যেহেতু প্রিয় বন্ধু তাঁকেই হয়তো জুব্বা উপহার দেয়া হবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আল্লাহর রাসুল দঃ বললেন এ জুব্বা ওয়ায়েস করনী এর। সবাই তো অবাক, কে এই ওয়ায়েস করনী? কার জন্য এতো ভালোবাসা। এ জুব্বা পৌঁছানোর দায়িত্ব দিলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ কে।
 
 
জবাবের জন্য সাহাবীদের অপেক্ষা করতে হলো বহুযুগ। রাসুল দঃ দুনিয়া চলে বিদায় নিয়েছেন। আরবের ক্ষমতার মসনদে ওমর রাঃ। হজ্বের মঊসুম চলছে, দেশ বিদেশ থেকে হাজারো হাজি উপস্থিত। হযরত ওমর রাঃ বললেন ইয়ামেন এর করন শহর থেকে আগত ওয়ায়েস নামের কেউ কি উপস্থিত আছেন? একজন উঠে বললেন জ্বি হ্যা আমিরুল মুমিনীন আমার ভাতিজা হলো ওয়ায়েস করনী।
 
 
সে তো আরাফাতে দিকে গেলো তাঁর ছাগল নিয়ে।
 
 
ইতিমধ্যে আলী রাঃ ও উপস্থিত হলেন, হযরত ওমর রাঃ সহ দুইজন দৌঁড় দিচ্ছেন আরাফাত এর দিকে। দেখলেন সাধারণ এক মধ্য বয়েসী মানুষ বসে আছেন, তারা দুজন কাছে গিয়ে বললেন কি নাম আপনার? বললো ওয়ায়েস করনী।
 
 
আলী রাঃ ও ওমর রাঃ বললেন, তুমি দু’হাত তুলে আমাদের জন্য দোয়া করো, আল্লাহর রাসুল দঃ বলেছেন, তুমি দোয়া করলে আল্লাহ সে হাত ফেরত দেননা, সাথে রাসুল দঃ এর জুব্বাও উপহার দিলেন। এবার জানতে চাইলেন কি এমন কাজ করেছো যে তোমার এতো মর্যাদা আর আল্লাহর রাসুল তোমাকে তাঁর জুব্বা মোবারক দিলেন।
 
 
ওয়ায়েস করনী বলেন, আমি আমার মায়ের খেদমত করেছি, আমার মা খুব অসুস্থ থাকায় আমি আল্লাহর রাসুল দঃ এর কাছে এসে ইসলাম কবুল করতে পারিনি, কিন্তু মায়ের শেষ দিনগুলোতে তাঁর কাছে থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি, হয়তো এর জন্যই এতো প্রাপ্তি।
 
 
হযরত মুসাঃ একবার আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহ জান্নাতে আমার সংগী কে? আল্লাহ বললেন একজন কসাই।
 
 
মুসা আঃ কিছুটা বিচলিত হলেন, তিনি ছিলেন খুব রাগ স্বভাবের মানুষ, বললেন আল্লাহ আমাকে জানাও সে কোথায় থাকে আমি দেখতে চাই। আল্লাহ তাঁর পরিচয় দিলে মুসা আঃ ঐ কসাই এর কাছে গেলেন। দেখলেন সাধারন একজন কসাই। মুসা আঃ নিজের পরিচয় না দিয়ে ঐ কসাইয়ের সাথে সারাদিন সময় কাটালেন, তাঁর কাছে কোন কিছু স্পেশাল মনে হয়নি, দিনশেষে ঐ কসাই মুসা আঃ কে বাড়িতে খাবারের নিমন্ত্রন করলেন।
 
 
বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো কসাইয়ের বৃদ্ধ মা, বিছানায় পেশাব পায়খানা করে এমন, কসাই নিজের হাতে সব পরিষ্কার করছে, এবার মা কে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়ে শুইয়ে দিচ্ছে, এমন সময় মা যেন কানে কানে কি বললেন।
 
 
মুসা আঃ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মা তোমার কানে কানে কি বলেছে? উত্তরে কসাই বলে উঠে আসলে আমার মা আমার কানে কানে দোয়া করে, হে আমার সন্তান আল্লাহ যেন জান্নাতে মুসা আঃ সাথে তোমাকে রাখে। আপনিই বলুন কোথায় আমি সামান্য কসাই আর কোথায় আল্লাহর নবী মুসাঃ। এটা কি কখনো সম্ভব?
 
 
দুটি ঘটনা কি আপনার হৃদয় স্পর্শ করেছে? যদি করে থাকে তাহলে বলবো, এই মা দিবসে শপথ করুন, জীবনের একটি মুহুর্তও মা'কে কষ্ট দিবেন না। আমরা অনেক সময় নানা কারণে ষ্ট্রেস এ থাকি, মা'কে ধমক দিয়ে কথা বলি, যেনে রেখো মায়ের চোখের পানি মাটি স্পর্শ করার পূর্বেই আল্লাহর আরশে পৌঁছে যায়।
 
 
যাদের মা বেঁচে আছেন তারা মায়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন, আর যাদের মা বাবা বেঁচে নেই তাদের জন্য ইসালে সাওয়াব কোরআন খানি করুন। নিজে মায়ের কবরের সামনে গিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করে তাঁর জন্য দোয়া করুন।
 
 
না এতেই আপনারই লাভ, আপনার প্রজন্ম তাহলে আপনার কবরে দাঁড়িয়ে দোয়া করবেন।
 
 
জীবন সুন্দর, জীবনের কাব্যিকতা আরো সুন্দর, মা সে সুন্দরের আলো। আসুন সে আলোয় নিজের ভুবন আলোকিত করি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd