ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১৫ মে, ২০১৭ ১৪:৪০:১৪
‘‘আমার সাংবাদিকতার দ্বিতীয় আইকন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল’’
সৈয়দ মুন্তাছির রিমন
ড্যানিয়েল পার্ল


 

আমার সাংবাদিকতার প্রথম গুরুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর এই পেশা থেকে একদম অবসর নিয়েছিলাম। কিন্তু ২০০৩ সালে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘‘ড্যানিয়েল পার্ল’’ কে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। আর সেই কলামটি পড়ার পর নিজেকে আবার আবিষ্কার করে থাকি। তার মানে দ্বিতীয় জন্ম। তারপর তাকে মনে মনে স্মরণ রেখেছি। কিন্তু আমার স্মৃতির পাতায় তার নামটি ‘‘জন পার্ল’’ হিসেবে মেমোরিতে সেইভ রয়ে যায়।যখন ইন্টানেটের ছড়াচড়ি তখন ‘‘জন পার্ল’’ নামে অনেক খুঁজেও পাইনি। কিন্তু গতকাল রাতে আমার পুরনো ডায়রীর পাতা খুঁজতে গিয়ে দেখি তার নাম ‘‘ড্যানিয়েল পার্ল’’ এবং তার জীবন লিপিবদ্ধ রয়েছে। আজকের সমাজ ব্যস্থায় যখন সাংবাদিকতা বিভিন্ন ধাপে ধাপে কলংঙ্কিত হচ্ছে তখন তিনি আমাদের পথ চলার আদর্শ হয়ে উঠতে পারে। 
কে সেই বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক? 
দীর্ঘ সাংবাদিক ক্যারিয়ার রয়েছে ড্যানিয়েল পার্ল এর। ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের দক্ষিণ এশিয়া প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এরপরই ভারতের মুম্বাইয়ে চলে আসেন এই সাংবাদিক। আল-কায়েদাকে নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা করেন।পরবর্তীতে আল-কায়েদা অনুসরণের জন্য পাকিস্তানের অন্যতম ধর্মীয় নেতা শেখ মুবারক আলী গিলানির সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে আসেন। সময়টা ২০০২ সাল পাকিস্তানের করাচি। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় জঙ্গিরা। এখান থেকেই একটি জঙ্গি গ্রুপ তাকে প্রথমে অপহরণ করে।পরে মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর জঙ্গিরা তার ওপর চালায় নানাবিধ শারীরিক অত্যাচার। দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় ড্যানিয়েল পার্লের ওপর। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে তারা। ২০০২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জঙ্গিরা ভিডিওটি গণমাধ্যমের কাছে পাঠায়। আল-কায়েদাকে নিয়ে তার সাহসী খবরগুলো বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ১৭ মে ২০১০ সালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনে স্বাক্ষর করেন। যেসব দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তার একটি তালিকা প্রকাশ করবে এবং আইনের নাম দেওয়া হয় ড্যানিয়েল পার্ল ফ্রিডম অব দ্য প্রেস অ্যাক্ট। বারাক ওবামা, ড্যানিয়েল পার্লের বিধবা স্ত্রী ম্যারিয়ান, তাঁদের সাত বছরের সন্তান অ্যাডাম ও পার্লের মা-বাবার উপস্থিতিতে এই আইনে স্বাক্ষর করেন।
ড্যানিয়েল পার্ল ১০ অক্টোবর, ১৯৬৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং তিনি একজন মার্কিন সাংবাদিক। তিনি মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ কর্মরত থাকাকালীন পাকিস্তানের করাচিতে এক প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে আল কায়েদা সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহৃত হন। তিনি সন্ত্রাসী রিচার্ড রেইড (দ্য স্টোন বোম্বার), আল কায়েদা, এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ওপর পত্রিকায় একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন দাখিলের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। অপহরণকারীরা পরবর্তীতে শিরঃচ্ছেদের মাধ্যমে তাকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০০২ সালে হত্যা করে।
লেখক : সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd