ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৪ জুন, ২০১৭ ১৭:১৫:২৩আপডেট : ০৪ জুন, ২০১৭ ১৭:১৬:৪৪
শিল্পবর্জ্য দূষণ : মরতে বসেছে সুতাং নদী
সৈয়দ মো. রাসেল, হবিগঞ্জ


 


আমাদের এই বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু দিন দিন দূষণ আর দখলের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের অধিকাংশ নদী। হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুতাং নদী এক সময় ঐতিহ্য বহন করত এলাকায়। কিন্তু শিল্পবর্জ্য ক্রম দূষণে মরতে বসেছে নদীটি। কালো হয়ে গেছে নদীর পানি। এই পানিতে এখন শুধুই দুর্গন্ধ। নদীটি যে কেবল দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাই নয়, এই নদীই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সুস্বাস্থ্যের জন্যও নদীটি এখন বিরাট হুমকি। চর্মরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলার ওলিপুরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানার দূষিত বর্জ্য সুতাং নদীতে ফেলা হচ্ছে। ক্রমাগত এভাবে দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে সুতাং নদীর পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী বুল¬া, করাব, লুকড়া, নূরপুর, রাজিউড়াসহ বেশ কটি ইউনিয়নে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও  দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পাশাপাশি মানবিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, সুতাং নদীর সব মাছ মরে যাচ্ছে। ফলে হাজার হাজার জেলের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, নদী দূষণের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার ফসলি জমি। এ নদীর পানি এখন কৃষিকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও যারা ব্যবহার করছেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। শুধু তাই নয়; এ নদীর পানি পান করে মারা যাচ্ছে হাঁস-মুরগি। যে কারণে আশপাশের গ্রামগুলোতে হাঁস-মুরগি পালনও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এই নদী দূষণের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জীবনে। দূষিত পানি বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে যাওয়ার কারণে সেই সব পুকুর-জলাশয়ের মাছ মারা যাচ্ছে। হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশুপাখিও মারা যাচ্ছে। আবার এই নদীর পানির কারণে এখানকার জমিতে ভালো ফসল উৎপাদিত হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষক ইউসুফ আলী  জানান, এখানকার জমিতে কেউ কাজ করতে পারছে না। আবার এই জমিতে কাজ করার কারণে অনেক ধরনের রোগবালাই হয়ে থাকে।
অন্য এক কৃষক অভিযোগ করেন, জমিতে আগে যে পরিমাণ ধান হতো এখন আর সে পরিমাণ ধান হয় না। আবার এ বছর ধানের দামও কম। এমতাবস্থায় তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ওলিপুরে গড়ে ওঠা বড় বড় শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। ফলে এই নদী ব্যাপকভাবে দূষণের কবলে পড়েছে।
তিনি বলেন, এই নদী এখন স্থানীয়দের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে স্থানীয়দের যে ক্ষতি হবে এর জন্য সবাইকে আফসোস করতে হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd