ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৭ ১১:৪৬:২২
দেশের প্রথম ‘আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ স্থাপিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ‘আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’। ‘চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ নামের এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে দেশীয় সক্ষমতা যুগোপযোগী করতে এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। এদিকে এই প্রকল্প অনুমোদনের পরপরই ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইনকিউবেটরের নকশার দুটি ছবি প্রকাশ করে আইসিটি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।
প্রকল্প সম্পর্কে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সরকার “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গঠনের লক্ষে তথ্য প্রযুক্তির উপর দেশব্যাপী অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল মনস্ক জাতি বিনির্মাণের লক্ষে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ‘চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ প্রকল্প অনুমোদন করায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই প্রকল্প প্রণয়ণ ও অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম আরো বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত গ্রাজুয়েটদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে, একাডেমিক কার্যক্রমকে শিল্পের চাহিদানুসারে তৈরি করার সংযোগ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভৌত অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করবে এই প্রকল্প। তিনি আরো বলেন, চুয়েটের অগ্রযাত্রায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ৩২০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি (ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্ল্যান) একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এসব বড় প্রকল্পগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের প্রয়াসগুলোকে সফল ও সার্থক করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমি চুয়েট পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইটি শিল্প এর মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভৌত অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি তৈরি করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে সারাবিশ্বে ৯০০০ এর অধিক আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর রয়েছে। ন্যাশনাল বিজনেস ইনকিউবেশন অ্যাসোসিয়েশন (এনবিআইএ)-এর ২০০৫ সালের তথ্য মতে, কেবল উত্তর আমেরিকায় এসব ইনকিউবেটরের মাধ্যমে প্রায় ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ চীন ৭০০ এর অধিক এবং ভারতে ৭০ এর অধিক ইনকিউবেটর রয়েছে। চীন ও ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। আইটি সেক্টরে নতুন নতুন সফল ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী কার্যক্রম উৎসাহ ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা হলে আইটি শিল্পে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে এবং এর মাধ্যমে বৈদেশিক আয় অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন দেশের অভিজ্ঞমহল। আইসিটি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ৭৬.৯১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
তথ্য-প্রযুক্তি পাতার আরো খবর

Developed by orangebd