ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • পানি না নামা পর্যন্ত বানভাসীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে          ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী          পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ : মেনন          তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী          বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৭ ১৩:৩১:২৪
আমিরুল মোমেনীন, শের-এ-খোদা মওলা আলী (রা.) এর প্রজ্ঞা ও বীরত্ব
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই


 


মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর ঘনিষ্ঠ অনুসারী যে চারজন বিশেষ মর্যাদাবান সাহাবী খোলাফায়ে রাশেদীন হিসেবে মুসলিম উম্মার কাছে সম্মানিত, হযরত আলী (রা) হলেন তাঁদের অন্যতম । তিনি মহানবী (স) এর জামাতা। তিনি যেমন ছিলেন বীর যোদ্ধা তেমনি ছিলেন জ্ঞানী ও বিদ্বান। রাসুল (স) তাঁকে ‘জ্ঞানের দরজা’ আখ্যায়িত করেন। শৌর্য-বীর্যের জন্য তিনি ‘আসাদুল্লাহ’ আল্লাহর সিংহ ও ‘ইয়াদুল্লাহ’ আল্লাহর হাত উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ৫৮৬টি হাদিস বর্ণনা করেন এবং তিরাশিটি সশস্ত্র জিহাদে বিজয় লাভ করেন ।
সাহাবীদের মধ্যে হযরত আলী (রা) অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনীতি বিশেষজ্ঞ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যে ছিলেন সুপণ্ডিত। অনন্য জ্ঞান প্রজ্ঞার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (স) এর বিশেষ নৈকট্যে থেকে সুরা নাজিলের প্রেক্ষিতসহ আয়াতসমূহের অর্থ ও তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করার সুযোগ লাভ করেন তিনি। তিনি আল কুরআনের অন্যতম সংকলক। হযরত ওমর (রা) কে হিজরত হতে মুসলিম সন গণনার পরামর্শ দেন তিনিই । হযরত ওমর (রা) বলেছেন, ‘আলী না হলে ওমর ধ্বংস হতো।’
আলী (রা) এর অসাধারণ বাগ্মিতা ও সাহসিকতার কাছে সকল প্রতিদ্বন্দ্বীই হার মানতো। তিনি ছিলেন সুকবি। তাঁর কবিতার বিভিন্ন সংকলন হয়েছে। ‘দীওয়ান-ই-আলী’ তাঁর বিশ্ববিখ্যাত কাব্য সংকলন। মুসলিম বিশ্বে তো বটেই, এর বাইরেও তাঁর কাব্য সমাদৃত হয়েছে। সার্বজনীন ও কালোত্তীর্ণ বাণী ও শিল্পসৌন্দর্যে এ গ্রন্থ কালজয়ী।
হযরত আলী (রা) মানবিক সকল মহত গুণে ও কর্মে অত্যুজ্জ্বল এক মর্দে মুজাহিদ। তাঁর অসাধারণ বিচারবুদ্ধি প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার ধৈর্য, বীরত্ব ও ত্যাগ সাধনা অতুলনীয়। তিনি মানবতার মূর্তপ্রতীক।
হযরত আলী (রা) এর মতো এত সব বড় বড় মহত গুণে উজ্জ্বল ব্যক্তি আর নেই । মুসলিম জাতির মর্যাদা ও গৌরব সমুন্নত করে রেখেছেন তিনি ইতিহাসে। আলী (রা) সত্যি-আলী। এমন বিশাল মহত ব্যক্তির মহত্ত্ব ও কার্যাবলী যত বেশি আলোচনা করা যায়, যত বেশি প্রচার করা যায়, পাঠকগণ ততবেশি অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হবেন।
মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলিফা ছিলেন হযরত আলী (রা.)। তাঁর পিতা আবু তালিব ছিলেন আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিমের পুত্র । আলী (রা.) এর ডাক নাম আবু তুরাব। তিনি নবীজী (সা.) এর কন্যা ফাতিমা (রা.) কে বিবাহ করেন। তাঁর মাতার নাম ফাতেমা বিনতে আসাদ ইবন হাশিম ।
হযরত খাদিজা (রা.) এর পরে তিনি প্রথম মুসলিম; আবুযার, আল মিকদাদ, আবু সাইদ আল খুদরী (রা.) প্রমুখের মতে বুরায়দা ইবনিল হুসায়ব (রা.) অথবা তিনি দ্বিতীয় মুসলিম। হযরত (সা.) যে দশজনকে জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবেন বলে স্পষ্টভাবে সুসংবাদ প্রদান করেন, তিনি তাদের অন্যতম। উমার (রা.) কর্তৃক তাঁর মৃত্যুশয্যায় মনোনীত ছয়জন নির্বাচকেরও তিনি ছিলেন অন্যতম।
হযরত আলী (রা.) এর বয়স ছিল তখন প্রায় ২২ বছর । আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইয়াছরিবে হিজরত করার শেষ রাতে শত্র“দের চোখের সামনে দিয়ে নিরাপদে গৃহ ত্যাগ করলেন। যাওয়ার সময় হযরত আলী (রা.) কে আমানতের গচ্ছিত সম্পদ প্রদানের দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। প্রত্যুষে শত্র“পক্ষ দেখল, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বিছানায় ছেড়ে হযরত আলী (রা.) নিশ্চিন্ত মনে শুইয়া আছে।
হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে হযরত (সা.) এর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.) এর সাথে আলী (রা.) এর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় হযরত ফাতেমা (রা.) এর বয়স ছিল ১৪ বছর এবং হযরত আলী (রা.) এর বয়স ছিল ২২ বছর। (তাবাকাতে ইবনে সা’দ, এসাবা, খোলাফায়ে রাশেদিন)। তিনি বদর, উহুদ ও খন্দক (পরিখা)-এর যুদ্ধে যোগদান এবং তাবুক ছাড়া অন্য সমস্ত অভিযানে নবীজী (সা.)-এর সঙ্গে গমন করেন। তাবূক অভিযানের সময় নবীজী (সা.) এর অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবার-বর্গের তত্ত্বাবধান এবং মদিনার শাসনভার তাঁর উপর ন্যস্ত ছিল। উহুদের যুদ্ধে তিনি ষোলটি আঘাতপ্রাপ্ত হন; তাঁহার প্রচণ্ড আক্রমণে খায়বারের দুর্জয় কা’মূস দূর্গের পতন ঘটে ।
নবীজী (সা.) এর উপর নবম সূরা (আল বারা’আঃ বা আত-তাওবা) অবতীর্ণ হওয়ার অল্প পরে উহার প্রথম তেরটি আয়াত হাজ্জের সময় মিনা প্রান্তরে সর্বসমক্ষে ঘোষণা করার জন্য নবীজী (সা.) তাকে প্রেরণ করেন। দশম হিজরি, মুতাবিক ৬৩১-৩২ সনে আলী (রা.) ইয়ামানে এ প্রচার সফরে গমন করেন। ইহারই ফলে হামাদানীরা ইসলাম গ্রহণ করে।
নবীজী (সা.)-এর কোলে যিনি লালিত-পালিত হয়েছিলেন, নবীজী (সা.)-এর মুখে যিনি কোরআন পাক শ্রবণ করেছেন, নবীজী (সা.) এর কাছেই যিনি কুরআন শিক্ষা লাভ করেছেন এবং বুঝেছেন, তাঁহার এলম সম্পর্কে আর কাহার এলেমের তুলনা করা যেতে পারে? রানবীজী (সা.) ফরমাইয়াছেন, “আমি এলেমের শহর এবং আলী উহার দরজা। এই কাড়নের সাহাবীগণের মধ্যে হযরত আলী (রা.) অন্যান্য সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন ।
হযরত উসমানের (রা.) শহীদ হওয়ার পর মদিনাতে একটি সর্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য বিরাজ করছিল। পাঁচ দিন যাবত রাজনৈতিক ডামাডোলের পর, মিসরীয় বিদ্রোহীদের নেতা, ইবনে সাবা, হযরত আলী (রাঃ)-এর পক্ষে এই বলে রায় দেয় যে, তিনিই একমাত্র খলিফা হওয়ার অধিকারী কারণ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) যার সপক্ষে একটি ওছিয়ত করেছিলেন। ২৩শে জুন ৬৫৬ খ্রীস্টাব্দে, হযরত উসমানের (রা.) মৃত্যুর ছয় দিন পর, হযরত আলী (রা.) মহানবী (সা.) এর চতুর্থ খলিফা নির্বাচিত হন এবং জনগণ তাঁর হাতে একে একে বয়আত গ্রহণ করেন।
খেলাফতের নির্বাচনের পরপরই তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী, মদীনা থেকে ইরাকের কুফায় সরিয়ে নেন, যা ছিল অধিকতর কেন্দ্রীয় একটি স্থান। তাঁর নির্বাচনের পরপরই তিনি জনগণের বিশেষ করে মহানবী (সা.) এর প্রভাবশালী সাহাবী যেমন হযরত তালহা (রা.) এবং হযরত যুবাইর (রা.) এর উত্থাপিত হযরত উসমান(রাঃ)-এর হত্যাকারীদের যথাশীঘ্র শাস্তির জনপ্রিয় দাবির সম্মুখীন হন। হযরত আলী (রা.) ঘোষণা করেন যে, তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করা এবং কেবল তারপরই তিনি হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের বিচারের সম্মুখীন করতে পারবেন। কিন্তু হযরত তালহা (রা.) এবং হযরত যুবাইর (রা.), হযরত আলী (রা.) এর এই সিদ্ধান্তে রাজী হননি; তারা সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করা শুরু করেন।
হযরত আয়েশা (রা.), যিনি প্রকৃত অবস্থা অবগত ছিলেন না, তিনিও হযরত উসমানের হত্যাকারীদের শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে হযরত তালহা (রা.) এবং হযরত যুবাইর (রা.) এর সাথে যোগ দেন। তিনজনে মিলে বসরার উদ্দেশ্যে এক সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেন। হযরত আলী (রা.) যুদ্ধ এবং রক্তপাত এড়াতে যারপরনাই চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, তাঁর এবং হযরত আয়েশা (রা.) এর সৈন্যবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়, যদিও, হযরত তালহা (রা.) এবং হযরত যুবায়ের (রা.) যুদ্ধের পূর্বেই সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন এবং অন্য কোন শত্র“র দ্বারা নিহত হন।
হযরত আয়েশার (রা.) সৈন্যরা পরাজিত হয় কিন্তু হযরত আলী (রা.) তাঁকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন এবং তাঁর নিরাপত্তার খেয়াল রাখেন। তিনি তাঁর ভাই মোহাম্মদ বিন আবু বকর (রা.) এর রক্ষাবেষ্টনীতে তাঁকে মদীনায় প্রেরণ করেন। এটি ‘উটের যুদ্ধ’ নামে খ্যাত; কারণ হযরত আয়েশা (রা.) যুদ্ধের সময় উটের উপর সওয়ারী ছিলেন। পরবর্তীতে, হযরত আয়েশা (রা.) জীবনভর হযরত আলী (রা.) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অনুতপ্তা ছিলেন। উটের যুদ্ধের পর হযরত আলী (রা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) কে, যিনি তখনও তাঁর হাতে বয়'আত গ্রহণ করেননি, ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁর নিকট আত্বসমর্পণ করার আহ্বান জানান। কিন্তু হযরত মুয়াবিয়া (রা.) এই অজুহাতে তাঁর নিকট নিজেকে সমর্পণ করেনি যে, হযরত উসমান (রা.) যিনি উমাইয়া বংশোদ্ভূত ছিলেন, তার রক্তের প্রতিশোধ প্রথমে নিতে হবে।
আমীর মুয়াবিয়া (রা.), আমর বিন আস (রা.) এর সহায়তায়, সৈন্য প্রস্তুত করা শুরু করে। হযরত আলী (রা.), অন্য কোন বিকল্প না পেয়ে, মুয়াবিয়ার সাথে লড়ার জন্য সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হতে হয়। ৫৬৭ খ্রীস্টাব্দের জুলাই এ দুই সৈন্যবাহিনী ‘সিফফিনে’ যুদ্ধে উপনীত হয়। দু'পক্ষেই ব্যাপক হতাহত হয়; কিন্তু যুদ্ধ এই মতৈক্যে শেষ হয় যে, বিষয়টি একটি মধ্যস্থতা কমিটিতে নিষ্পত্তি হবে। এই কমিটিতে হযরত আলী (রা.) এর পক্ষে আবু মুসা আল আসরি (রা.) এবং আমীর মুয়াবিয়ার পক্ষে আমর বিন আস (রা.) প্রতিনিধিত্ব করে। দুর্ভাগ্যবশত এই মধ্যস্থতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ আমর বিন আস (রা.) আবু মুসা আল আসরি (রা.)-এর সাথে গ্রহীত সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাড়াঁয়।
একটি বড় দল, যারা মধ্যস্থতার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ছিল, হযরত আলী (রা.) থেকে সরে গিয়ে তাদের জন্য এক নতুন আমীর নির্বাচিত করে নেয়। এই দলটিকে ‘খারেজী’ অর্থাৎ ‘ব্যতান্ত্রিক’ বলা হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম, হযরত আলী (রা.) তাদেরকে বুঝিয়ে রাজি করেনোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা নিষ্ফল হয়; যা ভয়াবহ যুদ্ধে মোড় নিলে প্রচুর খারেজী নিহত হয়। এই বিপর্যস্ত পরাজয়ের পর খারেজীরা হযরত আলী (রা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) এবং আমর বিন আস (রা.) কে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তী দু'জন হত্যা প্রচেষ্টা হতে বেঁচে যেতে সক্ষম হলেও হযরত আলী (রা.) ফযরের নামাজের জন্য মসজিদে যাবার সময় আক্রমণকারীর দ্বারা গুরুতর আহত হন। দু’দিন পর এই অমিত সাহসী এবং ধর্মপ্রাণ খলীফা ৪০ হিজরীর ২০ রমযানে পরলোক গমন করেন। এই সময়ে তাহার ৩৭ বৎসর বয়সী বড় ছেলে আল হাসানকে (রা.) ইমামতি হস্তান্তর করেন৷ নিঃসন্দেহে, হযরত আলী (রা.) খেলাফতের পবিত্রতা এবং মর্যাদা রক্ষার খাতিরে তাঁর জীবন কুরবান করেন। তিনিও সেই দশজন সৌভাগ্যশালীদের একজন মহানবী (সা.) যাঁদের বেহেস্তের সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন।
মুসলমানরা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের কথা বিস্মৃত হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ ও একে অন্যকে হত্যার নেশায় মেতে ওঠে। ফলে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ ও ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিফ্ফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। গৃহযুদ্ধে রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রত্যয়িত তালহা, যুবাইর ও অনেক বয়োবৃদ্ধ সাহাবাসহ লক্ষাধিক মুসলমান নিহত হন। কার্যত ইসলামী খেলাফত অত্যন্ত দ্রুত অন্তিম সময়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
সিফ্ফিনের যুদ্ধের পর ‘দুমাতুল জানদালে’ ইসলামী খেলাফতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বৈঠককালে ১২ হাজার সৈন্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী খলিফার পক্ষ ত্যাগ করে। ইসলামে ‘খারেজি’ নামে উগ্রপন্থী সম্প্রদায়ের উদ্ভব তাদের থেকেই।
খারেজি সম্প্রদায় মুসলিম মিল্লাতের জাতীয় শত্র“ হিসেবে হজরত আলী, মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে চিহ্নিত করে তাঁদের একই দিন ও অভিন্ন সময়ে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আসন্ন মাহে রমজানের ১৫ তারিখ ফজরের নামাজের সময় আক্রমণ পরিচালনার সময় নির্ধারিত হয়। আততায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ে বয়োবৃদ্ধ তিন সাহাবির ওপর হামলা করে।
সৌভাগ্যক্রমে আমর ইবনুল আস (রা.) অসুস্থতার কারণে সেদিন মসজিদেই যাননি। আর মুয়াবিয়া (রা.) আততায়ীর আক্রমণে সামান্য আহত হলেও বেঁচে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হজরত আলী (রা.) ৬৬১ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি শাহাদাৎ বরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.) তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন এবং কুফা জামে মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
সরলতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক ছিলেন হজরত আলী (রা.)। মুসলিম জাহানের খলিফা হয়েও নিজ হাতে তাঁকে ও ফাতেমা (রা.)কে কাজ করতে হতো। দাস-দাসী কোনো দিনই তাঁর ঘরে ছিল না। ইতিহাসবিদরা বলেছেন, ‘আলী (রা.) ছিলেন যুদ্ধে সাহসী, পরামর্শদানে বিজ্ঞ, বক্তৃতায় স্বচ্ছ, সাবলীল, বন্ধুদের প্রতি অকপট এবং শত্র“দের প্রতি দয়াশীল। আলী (রা.) মাহাত্ম্য ও শৌর্য-বীর্যের নিদর্শনস্বরূপ ছিলেন।’

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd