ঢাকা : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২১ জুন, ২০১৭ ১০:৩৮:০৩
তারাবী নামাজ নিয়ে জনগণ বিভ্রান্ত
ডাঃ ইদ্রিস আলী


 


কেউ বলেন দুই যোগ দুই = চার আবার কেউ বলেন দুই যোগ দুই = পাঁচ। কোনটি সঠিক উত্তর হবে? সবাই বলবে, চার। পাঁচ উত্তরটি ভুল। তাহলে তারাবীর নামাজ কোন আলেম বিশ রাকাত, আবার কোন আলেম বলেন, ৮ রাকাত। এক্ষেত্রে কোনটি সঠিক। আমার জানা নাই। তবে দুইটি উত্তরের মধ্যে একটি সঠিক ও অন্যটি ভুল হতে বাধ্য। আহলে হাদীছ মসজিদে ৮ রাকাত পড়েন ও সূরা তারাবী পড়েন। হানাফী মসজিদে ২০ রাকাত পড়েন ও খতমে তারাবী পড়েন। দুইটির মধ্যে কোনটি সঠিক? হানাফী ঈমামের পিছনে নামাজহাবী মুসল্লী ৮ রাকাত পড়ে বেরিয়ে যায়, ফলে সামনের কাত্তারে ফাঁকা বা গ্যাপ সৃষ্টি হয়। এতে নামাজের শৃংখলা ভঙ্গ হয়। পিছনের কাত্তারে থেকে সামনে যেতে হয়, ফলে ধ্যান খেয়ালের বিঘœ ঘটে। আবার আহলে হাদীসের ঈমামের পিছনে হানাফী মুসল্লি নামাজ পড়তে শুরু করল, ৮ রাকাত পড়ার পর নামাজ শেষ। এখন হানাফী ভাইগন কি করবেন? এটি ও একটি সমস্যা। অন্যদিকে শুনা যায়, আহলে হাদীসের দলই সঠিক কোরআন সুন্নার অনুসারী। সুতরাং তারা খতমে তারাবী পড়েন না। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় ঃ- নবী করিম (সঃ) কি খতমে তারাবী পড়েছিলেন? নাকি পড়েন নাই। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে বিশ্ব বিখ্যাত মাজহাব হানাফীরা এটা পেলেন কোথায়? আর যদি নবী করিম (সঃ) খতমে তারাবী পড়ে থাকেন, তবে আহলে হাদীসগণ তাদের দাবী, তারা সঠিক হাদীসের অনুসারী। তাহলে তারা খতমে তারাবী কোন যুক্তিতে ছেড়ে দিলেন? আর নবী (সঃ) যদি ৮ রাকাত পড়ে থাকেন। খতমে তারাবী না পড়ে থাকেন? তাহলে হানাফীগন পেলেন কোথায়? আর যদি নবী (সঃ) দুই রকম পড়ে থাকেন, তাহলে আপনারা এক নিয়মে কটর হলেন কেন? এই দুইটি সাংঘষিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর জনগণের নিকট উন্মুক্ত করা দরকার। আপনারা যারা হক্কানী আলেম দাবী করেন তাদরে হক হল ঃ- এর সঠিক উত্তর বের করে জনগনকে জানিয়ে দেওয়া। অন্যথায় সাধারণ জনগন নামাজ রোজা ছেড়ে দিবে, কিছু নয়। আলেমদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকলে মানুষ ইসলাম ধর্ম থেকে দুরে সরে যাবে। তাই আমরা এর সমাধান চাই। এখানো আরো একটি প্রশ্ন চলে আসে। মুসল্লি যখন ঈমামের পিছনে নিয়ত বাধে তখন বলে “একতাদায়উ বিহাজাথ ঈমাম”। অর্থাৎ ঈমামের উপর ভার অর্পন করল, ঈমাম যাহা করবে মুসল্লিও তাহাই করবে বলে ওয়াদা করল। তাও সেটা আল্লাহর ঘর মসজিদে দাঁড়িয়ে ওয়াদা। এই ওয়াদা করার পর ঈমাম সেজদায় গেল আর মুসল্লি রুকু করছে ইচ্ছামত। তাহা কি ঈমাম ৪ রাকাত পড়ল আর মুসল্লি ৩ রাকাত পড়ে বেরিয়ে গেল। এটা কি করার বিধান আছে?
যদি এই বিধান না থাকে, তাহলে তারাবীর নামাজে নিয়ত করলাম “ইমাম যাহা করেন আমিও তাহাই করব” আর পরক্ষণে ঈমাম বিশ রাকাত পড়ছেন এবং মুসল্লি ৮ রাকাত, ১০ রাকাত, ১২ রাকাত ইত্যাদি পড়ে পিছন থেকে পালাচেছন। এটা কি ইসলাম সম্মত? এটা কি জায়েজ আছে? এটা ঈমামের সাথে ওয়াদা ভংগের শামিল কি-না? যদি কখনো এমন হয়ে যায় যে, ইমাম সাহেব ২০ রাকাত শেষ করে দেখেন যে, সকল মুসল্লি ১২ বা ৮ রাকাত পড়ে পালিয়ে গেছে, তখন ইমাম সাহেবের কেমন লাগবে? এটা সামাজিকভাবে কেমন দেখাবে? আর যদি ২০ রাকাত পড়ার বিধান কোথাও না থাকে তাহলেই বা আহলে হাদীসগন হানাফীকে নিষেধ বা বাধা দিচ্ছেন না কেন? এই প্রশ্নের ছবক্ষ আমাদের সাধারণ মুসল্লিগনের নিকট স্পষ্ট হওয়া দরকার। আমরা বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। তাই অনুরোধ থাকল- আপনারা শীর্ষ স্থানীয় উলামা-মাশায়েখগন একটি বাহাসের আয়োজন করে যুক্তি তর্ক করে সঠিক তথ্যটি বের করে একটি সঠিক নিয়মে নামাজ চালু করুন এবং যেটি ভুল সেটি ত্যাগ করুন এবং আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন, তাহলেই আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারব। অন্যথায় আমাদের সমাজে বিশৃংখলা লেগেই থাকবে।
এই মতভেদগুলো ইসলাম ধর্মের ফেরকার সৃষ্টি করেছে। তাই আমি একটি কবিতার মাধ্যমে এর পরিণতির কথা বলছি,
“যেদিন থেকে মুসলমানরা- ঐক্য দিন ছেড়ে, ভিন্ন ভিন্ন তরিকা আর- ফেরকায় গেল পড়ে। কেউবা করে পীর মুরিদী- কেউবা হুকুমাত। কেউবা বলে খেলাফত আর- কেউ বা করে তাবলীগ আর চার দলে চার মাজহাব- কেউ বা ফরজ আবার কেউবা কয় বেদাত,
আরেক দলে আহলে হাদীস- মাজহাব তাদের নাই, আহলে সুন্নাত আরো একদল- দেখতে পাওয়া যায়। শিয়া সুন্নীর দুটি জামাত- সব দেশেতে পাই সবাই বলে মোরাই সঠিক- অন্যেরা সব ভূল জাহান্নামে জ্বলবে তারা- পাইবে নাকো কুল। এই সুযোগে বেদীনেরা ষড়যন্ত্রকরে- জিহাদনামে মুসলমানদের বিভেদ সৃষ্টি করে, শহীদ হয়ে জান্নাত পাওয়ার- লোভ দেখায় যে তারে, হাতে দিল রাইফেল, বোমা- শটগান আর পিস্তল, নারী শিশু হত্যা করে- করে হট্টগোল। যার কারণে মুসলমানরা- হারাল সম্মান সারাবিশ্বে নির্যাতিত- নাইযে তাহারা দাম, একতা আর ঐক্যহল-মুসলমানদের প্রাণ, আল কোরআনে বলছে খোদা- হাদীসে প্রমান। “ওয়াঅ’তাছিম বিহাব লিল্লাহে জামিআউ-ওয়ালা তাফাররাকু” ঐক্যের সাথে ধররশি- চল সরল পথে, ভূল করিলে শাস্তি পাবে- উভয় জাহানেতে। মানতে পারলে জান্নাত পাবে- বাড়িবে সম্মান ওরে ও মুসলমান- কউ গেল তোর মান- সম্মান কই গেল তোর- মান সম্মান কেন নাই তোর দাম।
লেখক : পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মর্কতা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd