ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • পানি না নামা পর্যন্ত বানভাসীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে          ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী          পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ : মেনন          তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী          বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২২ জুন, ২০১৭ ১০:৩৩:৪৭
মহিমান্বিত রাত শবে কদর


 

পবিত্র রমজান মাস বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ রহমত ও বরকতের মাস। এ রমজান মাসের এক বিশেষ রাত লাইলাতুল কদর বা শব-ই-কদর। মহিমান্বিত রজনী। পবিত্র শব-ই-কদরে কুরআন শরীফ নাজিল হয়েছিল। বিভিন্ন হাদিসের ভিত্তিতে এমনটি বিশ্বাস করা হয় যে, রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে মহিমান্বিত এই রাত অর্থাৎ শব-ই-কদর নিহিত রয়েছে। আর সে কারণেই ধর্মপ্রাণ মানুষ রোজার মাসের শেষ দশদিনের বিজোড় রাতগুলোতে আলস্নাহর বিশেষ আরাধনায় মগ্ন হয়। তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ২৬ রমজান দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ রমজানের রাতটিই সেই পুণ্যরজনী, যে রাতের সংবাদ মহান আলস্নাহ ও তাঁর রাসূল (সা) দিয়েছেন। মুমিন মুসলিমদের জন্য এ রাতটি বিশেষভাবে গুরম্নত্বপূর্ণ। এই রাতে যিনি নিজেকে যত বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখবেন তিনি তত বেশি সওয়াব হাসিল করবেন। ফজিলতের দিক থেকে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। লাইলাতুল কদরের মহিমা ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিশ্বের সকল মুসলিমই অবহিত।
 
 
লাইলাতুল কদরকে উর্দু ও ফার্সিতে শবে কদর বলে। শব অর্থ রাত। কদর অর্থ সম্মান। সুতরাং শবে কদর অর্থ সম্মানিত রাত। আবার কদরের অন্য অর্থ হচ্ছে তকদির। এ শব্দটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। অতএব, শবে কদরের অনেক গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্বয়ং আল্লাহপাক পূর্ণাঙ্গ সূরা কদর নাজিল করেছেন। এই সূরায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি জানেন কি? শবে কদর হলো হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতারা ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’’ (অনুবাদ: আওয়ারহলিকুরআন.কম) আল্লাহ পাক বলেন, ‘‘শবে কদরের ইবাদত এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি বরকতময় ও শ্রেষ্ঠ’’, এ রাতেই প্রথম কুরআন নাজিল হয়। এ রাতে হযরত জিব্রাইল (আ.) অগনিত ফেরেস্তা নিয়ে ধরাপৃষ্ঠে অবতরণ করে বিশ্ববাসীর জন্য অসংখ্য কল্যাণ ও প্রাচুর্য বিতরণ করেন। আল্লাহ পাক অসংখ্য পাপীকে ক্ষমা করে থাকেন। তওবা কবুল হয়। আসমানের সমস্ত দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এ রাতে গরম ও শীত কোনোটি বেশি অনুভূত হয় না। ফজর পর্যন্ত নক্ষত্র অটুট থাকে। সূর্য উদয়কালে প্রখরতা থাকেনা ও সূর্য উদয়কালে শয়তান উপস্থিত থাকে না। অতএব, পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদরকে অনুসন্ধান করতে হয়। অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ রাত সমূহে শবে কদর ঘটে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তুমি যদি চাও তোমাদের কবর নূরের দ্বারা উজ্জ্বল হোক, তা হলে শবে কদরের রাত্রে ইবাদত কর। যে ব্যক্তি শবে কদরের রাতকে জিন্দা রাখে, কেয়ামতের দিন তার দিল মুরদা হবে না।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd