ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • পানি না নামা পর্যন্ত বানভাসীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে          ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী          পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ : মেনন          তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী          বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২২ জুন, ২০১৭ ১০:৫২:৫৫
শিশুরা কেন খেতে চায় না
ডা. এস এম রবিউল হোসাইন


 


প্রচলিত আছে শারীরিক সুস্থতাই স্বাস্থ্য, সুস্থতা এমন একটি অবস্থা যা মোটা বা চিকন স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করেনা। সন্তানকে ভালবাসা মায়েদের ধর্ম। সন্তান মোটা হলেও মায়েদের নিকট চিকন মনে হয়। প্র্যাকটিসের প্রারম্ভ থেকেই সব মায়েদের কাছ থেকে একটা অভিযোগ শুনতে হচ্ছে (শিশু খেতে চায়না) এই না খাওয়ার পিছনে রয়েছে অনেক কারন, প্রথমত খাওয়ার ব্যাপারে অনিয়মই হচ্ছে শিশুর খেতে না চাওয়ার অন্যতম প্রধান কারন।আমাদের দেশের বেশির ভাগ মায়েরাই জানেন না শিশুকে খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম কানুন। প্রায়ই দেখা যায় বাবা শিশুর নাক চেপে ধরেন, শিশু শ্বাস নেওয়ার জন্য হ্যাঁ করলে মা শিশুকে মুখে খাবার পুরে দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন, ফলে শিশু সে খাবার বমি করে ফেলে দেয়। শিশু খেতে চায়না এ অভিযোগ তাদের যাদের পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। দেখা গেছে যাদের পর্যাপ্ত খাবারের অভাব রয়েছে তাদের বেলায় এ অভিযোগ কম।শিশু না খাওয়ার আরেকটি কারন হচ্ছে টিকা।আমার প্র্যাকটিস জীবনে দেখেছি সাধারনত টিকা দেওয়ার পূর্বে শিশুরা বেশ খায় এবং ঘুমায়, টিকানেওয়ার পর সম্পূর্ন উল্টোটা, সুতরাং আমাদেরকে এ ব্যাপারে আরো বেশি মনযোগী হয়ে প্রকৃত কারন উদঘাটন করতে হবে।
আমরা জানি, একটি নবজাতক শিশুর পাকস্থলির ধারন হ্মমতা এক আউন্স বা ৩০ এম এল। তাকে ধারন হ্মমতার চাইতে অধিক খাবার দিলে সে কোথায় রাখবে? সঙ্গত কারনেই, শিশুটি খাবে না।
বর্তমান যুগটা হচ্ছে ভেজাল খাবারের। যেদিকে তাকানো হয় ভেজালের সমারোহ, সকালের কাচা কলা বিকেলে সম্পূর্ন পাকা বুঝতেই পারছেন, আমরা কি খাচ্ছি। ফাস্টফুড, বিভিন্ন চকলেট, চুইংগাম, ড্রিংকস, চিপস এসব বাচ্ছাদের প্রিয়। এসব কৃক্রিম খাবারের ভিড়ে প্রকৃত খাবার চাপা পড়ে যায় ফলে শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে।
অপুষ্টি বিভিন্ন রোগের কারন। সাধারনত দারিদ্র্য, খাদ্যাভাব এবং পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহন সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব পুষ্টিহীনতার জন্য দায়ী।
অজ্ঞতার কারণে অনেক বাবা - মার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শিশুর পুষ্টির যোগান দিতে পারেন না। স্বল্প মূল্যের খাবার দিয়ে কিভাবে অপুষ্টি জনিত সমস্যার সমাধান করা যায় তা সকলকে অবহিত করতে হবে। শিশুকে প্রতিদিন শাক- সব্জি, ফল- মূল খাওয়ালে শিশুর রুচি বাড়ে।
গবেষণায় জানা গেছে আমাদের মস্তিস্কের ক্রিয়াকলাপ আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রন করে। মস্তিস্কের হাইপোথ্যালামাস নামক স্থানে ক্ষুন্নিবৃত্তি কেন্দ্র ওপরিতৃপ্তি কেন্দ্র আছে যাদের ক্রিয়া-কলাপ পরস্পর নির্ভরশীল। রক্তে সবলীকৃত খাদ্যের পরিমান কমে গেলে 'হ্মুণ্নিবৃত্তি কেন্দ্র' উত্তেজিত হয় এবং আমাদের হ্মুধা পায়, কখনও কখনও শিশুরা অসুখের কারনে আহারে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। যেমন শিশু যদি বেশী অপুষ্টির শিকার হয়, বদহজম হয়, পেটে কৃমি থাকে, মুখে ঘা থাকে, ফলিক এসিড ও হিমোগ্লোবিনের পরিমান কম হলে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও ভিটামিনের অভাব হলে। এছাড়া শরীরে বড় ধরনের কোন রোগ হলে যেমন মূএতত্র, শ্বাসতত্র, হ্নদপিন্ড, লিভারের অসুখ সহ অন্যান্য কোন জটিল রোগ হলেও শিশু আহারে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। তার সাথে ক্রমেই স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। এহ্মেএে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অল্প আহারে স্বাস্থ্য নষ্ট হয় না; বরং পরমায়ু বৃদ্ধি পায়। বেশী পরিমান আহার হজম করতে বেশী শক্তি অপচয় হয়। যখন তখন ঘণ্টায় ঘন্টায় শিশুকে খাবার দেয়া মোটেই উচিত নয়। মনে রাখতে হবে শিশুর খাবার হজম হলেই তার হ্মিধে লাগবে। সুনির্দিষ্ট সময় ছাড়া শিশুকে কিছু খাওয়ালে তিনটি ক্ষতি হবে। প্রথমত যে খাবারটা শিশুর পেটে আছে তা ঠিকমত হজম হবে না। দ্বিতীয়ত এ খাবার দেয়ার ফলে যখন তার হ্মিধে লাগবার কথা ছিল সে ক্ষিধেটা তখন তার লাগবে না-ফলে তখন সে পরিমাণে আরো কম খাবে।জোর করলেও কোন লাভ হবে না;বরং বমিসহ আরও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিবে।
শিশুর খায় না এটা শিশুরোগ নয়। তবে শিশু যদি রোগের কারণে খাওয়া ছেড়ে দেয়,সেহ্মেএে চিকিৎসা জরুরী। যে শিশুকে জোর করে খাওয়ালে বমি করে, তাকে আদর দিয়েই খাওয়াতে হবে। তা না হলে মানসিক হ্মতিও হতে পারে।
খাওয়ানোর পদ্ধতি : সাধারণত শিশু ০-৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে। ৪-৬ মাস বয়সের পরে শিশুর বেড়ে উঠার জন্য যে পরিমান শক্তি যে পরিমান প্রোটিন প্রয়োজন তা মায়ের দুধ বা গরুর দুধে পাওয়া যায় না। ফলে শিশুকে বাড়তি খাবারের সাথে পরিচয় করাতে হয়,যাকে উয়ীনিং বলে।
প্রথমে উয়ীনিং ফুড হিসাবে একটি খাবার অল্প পরিমাণে দিতে হবে। তার পর ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হয়। এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় উয়ীনিং ফুডের সাথে পরিচয় করাতে হয়। সাধারনত উয়ীনিং হিসাবে পাকা কলা খাওয়ানো যেতে পারে। কারন, ইহা সহজে গ্রহনযোগ্য।
এরপর শিশুকে খিচুড়ি দেওয়া যেতে পারে। যা চাল, ডাল, তেল, সব্জি প্রভৃতি দিয়ে রান্না হয়। মাছ মাংস ডিম একের পর এক দেওয়া উচিত,উয়ীনিং এর সম্পূর্ণ পদ্ধিতিটা ৯ মাস-১ বছর বয়সের শেষ হয়, যখন শিশুরা বড়দের খাবার খেতে পারে, আলাদা করে রান্না করার প্রয়োজন হয় না। বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, এমন একটি উয়ীনিং ফুড হচ্ছে সেরেলাক, যা ব্যয়বহুল। তবে ঘরে তৈরি খাদ্যেই বেশী পুষ্টিগুন থাকে।
অনেক মা শিশুকে ঘুমের মধ্যে খাওয়ান, এটা যে কোন শিশুর জন্য বিপদের কারন হতে পারে। এ ধরনের খাওয়ানোর পদ্ধতি পরিহার করতে হবে। মায়েরা সন্তানের ওজনের ব্যাপারে বেশী চিন্তিত থাকে। সে কারনে কত বয়সে কেমন ওজন থাকলে শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক আছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে, তা উল্লেখ করা হলো-
বয়স ওজন (কেজিতে)
১ বছর ৮.৪--১২.৮
২ বছর ১০.২--১৫.৭
৩ বছর ১১.৬--১৭.৮
৪ বছর ১৩---২১
৫ বছর ১৪---২৩
মনে রাখার সহজ উপায় হলো- শিশুর বয়স (বছরে) যোগ ৪ গুন ২ অর্থাৎ শিশুর বয়স যদি ২ বছর হয়, তবে তার ওজন (২+৪*২ বা ১২ কেজি (সামান্য কম বেশী গ্রহনযোগ্য) আপনার শিশুর ওজন যদি ছকের মধ্যে থাকে ধরে নিতে হবে শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে না-তার স্বাস্থ্য ভালোই আছে।
শিশুকে প্রতিমাসে একবার ওজন পরিমাপ করে তা চার্টে লিখে রাখতে হবে। যদি দেখা যায় ওজন কমে যাচ্ছে তখন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd