ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • পানি না নামা পর্যন্ত বানভাসীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে          ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী          পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ : মেনন          তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী          বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ০৪ জুলাই, ২০১৭ ১৮:৪৫:০৫
পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সময়োপযোগী একটি অসাধারণ গ্রন্থ
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই


 


ডা. এ এন এম এ মোমিন রচিত মহাগ্রন্থ “পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ” গ্রন্থটি পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আমার দৃষ্টিতে এ গ্রন্থটি সময়োপযোগী অসাধারণ একটি গ্রন্থ। সাধারণ পাঠকসমাজ ও ছাত্রছাত্রীগণ এ গ্রন্থটি পাঠে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। জানতে পারবে পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে। বইটির সম্পাদনা করেছেন হুজ্জাতুল ইসলাম মো. ইন্তেখাব রাসূল, প্রকাশকাল ২৫ মার্চ, ২০১৬ ঈসায়ী, প্রকাশনা আলে রাসূল পাবলিকেশন্স, নীলক্ষেত, ঢাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মো. শাহজাহান আলী। ২২৮ পৃষ্ঠার মূল্যবান গ্রন্থটির মূল্য ২০০ টাকা। এ গ্রন্থটি যিনি রচনা করেছেন তিনি আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। মাইজভাণ্ডারী গবেষণা, মরমী গবেষণা ও সুফীতত্ত্ব বিকাশে এ মনীষীর অবদান অপরিসীম। তাঁর সাথে আমার শ্রদ্ধা ও øেহের সম্পর্ক। কাছে থেকে তাঁকে আমি দেখেছি। তিনি এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনীষী। ডা. এ এন এম এ মোমিন ১৯৫১ সালে ৪ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুস সামাদ, মাতার নাম সৈয়দা শামসুন নাহার। তিনি ১৯৬৬ সালে রামদিয়া বিএমবিসি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে তিনি যথাক্রমে øাতক সম্মান ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র অবস্থা থেকে তাঁর বিভিন্ন গবেষণামূলক লেখনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলার বাণী, বাংলাদেশ টাইমস, সাপ্তাহিক সিনেমা, সাপ্তাহিক হলিডে ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়। ১৯৭৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে ‘লিয়াজোঁ’ অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরি সূত্রে তিনি যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন পোর্ট এন্ড শিপিং এডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাপান, ইতালি, শ্রীলংকা থেকে বন্দর ও জাহাজ বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তিনি সরকারি দলের নেতা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জবল আলী বন্দর, সৌদি আরবের জেদ্দা, মিশরের আলেকজেন্ড্রাদিয়া ও ইরানের বন্দর আব্বাস পরিদর্শন করেন। ২০০৯ সালে ‘পরিচালক প্রশাসন’ হিসেবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি পুরোপুরি ইসলামের ইতিহাস, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, সুফি দর্শন বিষয়ক লেখা ও গবেষণা কর্মে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তিনি একটি সেবামূলক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর লিখিত “পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ” গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, মাইজভাণ্ডারী একাডেমী সাবেক সভাপতি প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আবদুল মান্নান চৌধুরী। তিনি লিখেছেন: “‘ইসলাম’ হচ্ছে একটি সার্বিক জীবন ব্যবস্থা যা সর্বকালে, সর্বযুগে, সকল ক্ষেত্রে, সকল স্থানে সকল মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। ইসলাম চির গতিশীল, চিরন্তন ও শাশ্বত জীবন বিধান আর মহান ঐশী গ্রন্থ ‘কুরআন’ হচ্ছে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সংবিধান। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক কী, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের শর্তগুলো কী, আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে মানবের ভূমিকা কী, সমাজকে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী করতে হলে মানবের করণীয় কী, মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক, ধর্মীয়, নৈতিক ও নীতিগত আচরণের স্বর্গীয় বা ঐশী নির্দেশনাগুলো কী প্রভৃতি এ মহাগ্রন্থ কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যা কিছু সুন্দর এবং কল্যাণকর তাই ইসলাম। ধর্ম এসেছে মানুষের জন, মানুষ ধর্মের জন্য আসেনি। মানুষ যদি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর হুকুমকে মান্য করে, আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। আর যদি অন্যথা হয়, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তার উপর বিভিন্নভাবে খোদার শাস্তি কিংবা গজব নিপতিত হয়, বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে এ ধরাধামে। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম তথা কুরআন না মানার ফলশ্র“তি।
মানুষ যখন অবিচার, অনাচার, ব্যভিচার, কুসংস্কার, অন্যায়, খুন-খারাবী, রাহাজানি, দুর্নীতি, ধর্মহীনতা, সন্ত্রাস, বর্বরতা, অশ্লীলতা প্রভৃতি পাপে নিমজ্জিত হয়, তখন ধরাধামে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে এবং মানব সমাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অতীতে আ’দ, সামুদ, বন নিবাসীসহ বহু জাতি কীভাবে ধ্বংস হয়েছে তার বিবরণ পবিত্র কুরআন মজিদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহকে ভয় করা বা তাকওয়া’র উপর মহান আল্লাহ তায়ালা অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ঐশীগ্রন্থ কুরআন হচ্ছে একটি অলৌকিক গ্রন্থ যা সকল শ্রেণীর, সকল বয়সের মানুষের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের একটি আলোকবর্তিকা। কুরআনকে জানতে হবে না, কুরআনকে আমল করতে হবে।
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক, ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ডা. এ এন এম এ মোমিন তাঁর “পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ” শীর্ষক গ্রন্থে এ সত্যটি অতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ কী, ইবাদত কী ও কেন, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ইবাদতের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং প্রকৃতি, তাগুত, শয়তান, জ্বীন ও ফেরেশতাদের ইবাদত এবং প্রবৃত্তি পূজা প্রসঙ্গ, কুরআনের আলোকে সামাজিক শাস্তি প্রসঙ্গে, আল্লাহর ওলীদের পরিচয়-মর্যাদা, মহানবি (দ.) এর বিদায় হজের ভাষণ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সামাজিক অত্যাচার ও কার্পণ্যের কুফল, মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের ব্যাখ্যা প্রদানে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, মানবীয় কষ্ট ও স্বস্তি প্রভৃতি কুরআন-হাদিসের আলোকে এ গ্রন্থে অতি সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মানুষ হচ্ছে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ তথা সৃষ্টির সেরা জীব। এহেন সেরা জীব কীভাবে তার স্বভাব দোষে পশুর চাইতেও অধম হতে পারে সে বিষয়টিও লেখক কুরআন-হাদিসের আলোকে অতি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নবুয়তের পরিসমাপ্তির পর মহানবি (দ.) এর বেলায়েতের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হন আমিরুল মোমেনিন হযরত আলী (ক.) যিনি খেলাফতেরও যোগ্য উত্তরাধিকারী বটে। হযরত আলী (ক.) এরপর হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনসহ পরবর্তী ১২ জন ইমাম এবং বংশের ক্রমধারায় ওলীয়ে কামেলীনগণ বেলায়তের প্রবাহকে জারি রেখে চলেছেন যা হাশর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। এ ওলী-বুজুর্গদের হাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আধ্যাত্মিক জগতের প্রশাসনের ভার ন্যস্ত করেছেন। আল্লাহর জমীনে যখন বিপর্যয় ও দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পায় সেজন্য মহানবি (দ.) এর সুপারিশ কামনা করে খোদার কাছে ফরিয়াদ করেন। ফলশ্র“তিতে মানব সমাজ মুক্তিলাভ করে। সুতরাং বিপর্যয় ও দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেহ, মন, আত্মার পরিশুদ্ধি অত্যাবশ্যক এবং এ পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্য ওলী-বুজুর্গের সোহবতের কোন বিকল্প নেই। বলাবাহুল্য, আল্লাহকে পেতে হলে মহানবি (দ) এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালবাসা থাকতে হবে এবং মহানবি (দ.) এর ভালবাসা পেতে হলে তাঁর বেলায়তের উত্তরাধিকারী ওলী-বুজুর্গদের সান্নিধ্যে যেতে হবে এবং তাঁদেরকে ভালবাসতে হবে।
ঐশী বিধান অনুযায়ী ‘খেলাফত’ ও ‘ইমামত’ আহলে বাইত এবং তাঁদের উত্তরাধিকারী বংশধরদের হাতে ন্যস্ত থাকার কথা যার সুস্পষ্ট ঘোষণা মহানবি (দ.) গাদীরে খুম এবং বিদায় হজের ভাষণে দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন যা মহানবি (দ) এর তিরোধানের পর মুসলিম শাসনামলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কারণে পালিত হয়নি। মুসলিম বিশ্বের বিপর্যয় ও অধপতনের এটিও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে লেখক পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছেন।
পাশ্চাত্য বিশ্বে তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বিভিন্ন অর্থনেতিক ব্যবস্থার (যথা: পুঁজিবাদ, বাজার অর্থনীতি, সামন্তবাদ) ছদ্মাবরণে অনাচার, ব্যভিচার, যৌনাচার, শোষণ, বঞ্চনা, অপসংস্কৃতি, আধিপত্যবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেটাও সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ বলে লেখক অভিমত প্রকাশ করেছেন। মোট কথা, ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই আজ আমাদের এ দুর্গতি, ভোগান্তি, অশান্তি ও বিপর্যয়। তাই সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামকে সঠিকভাবে অনুশীলন ও প্রয়োগ করতে হবে এবং আধ্যাত্মিক সাধকদেরকে ধর্মগুরু ও শাসনগুরু হিসেবে মানতে হবে ও তাঁদের সান্নিধ্যে যেতে হবে। কুরআন-হাদিসের শিক্ষাকে জীবনের সর্বস্তরে কাজে লাগাতে হবে। লেখক এ বিষয়গুলো বর্তমান গ্রন্থে অতি সুন্দরভাবে অকাট্য যুক্তি প্রমাণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। বইটির আবেদন সর্বজনীন। সঙ্কাটাপন্ন বিশ্ব মানবতা এ গ্রন্থ পাঠে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। বইটির ভাষাশৈলী সুন্দর, প্রাঞ্জল ও চমৎকার। আমি এমন একটি চমৎকার বই উপহার দেওয়ার জন্য লেখককে অভিনন্দন জানাই এবং বইটির বহুল প্রচার ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”
লেখক ডা. এ এন এম এ মোমিন কুরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা খোদায়ী গজব এই সম্পর্কে একটি অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন: “সেই মহান আল্লাহ তা’লার প্রশংসা দিয়ে শুরু করছি যিনি আদি-অন্ত ও গোপনে-প্রকাশ্যে চির বিরাজমান। যিনি বিশ্ব জগতকে সৃষ্টি করে ভারসাম্য দান করেছেন। তার পরিমাপ ও পরিমাণ স্থির করে এর অধিবাসীদের প্রয়োজনীয় পথের সন্ধান দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহতালার সুনির্বাচিত প্রেরিত নবি মোহাম্মদ (দ.) এবং তাঁর আহলে বাইতের প্রতি দরুদ ও সালাম জানাই। রাসুল (দ.) এর উপস্থাপিত ও প্রদর্শিত পথের অনুসারীগণ সত্যিকারের পথের সন্ধান পায় ও যার অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হলে তাকে পথভ্রষ্ট ও ধ্বংস হতে হয়। যিনি সত্যবাদী, সত্যভাজন ও সাংসারিক বিলাস ব্যসনের উর্ধে থেকে তাঁর পরম বন্ধু আল্লাহ তা’লাকেই প্রত্যাশা ও কামনা করেছেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর প্রতি পরিপূর্ণ দরুদ, পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও সুগভীর শুভেচ্ছা জানাই। এই নবি (দ) এর প্রকৃত সাহাবা ও তাঁদের অনুগামী তাবেঈন বা অনুবর্তীদের প্রতিও সালাম ও অভিনন্দন জানাই। যাঁরা নিজেদের প্রভু আল্লাহতা’লার প্রতি কায়মনোবাক্যে সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর নির্দেশিত মত, পথ ও পন্থা অনুসরণ করেছেন। মহান আল্লাহ তা’লা এই বিশ্বকে এক গভীর রহস্যময়, জটিল ও অতিসূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন।”
পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে মানুষের বিপর্যয় ও সামাজিক মূল্যায়ন বিবিধ প্রসঙ্গে তাঁর গ্রন্থটিতে বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ইবাদত কী ও কেন এই বিষয়ে একটি অধ্যায় আছে। এতে তিনি প্রতিটি পাতায় পাতায় পবিত্র কোরআনের বিবিধ সুরা থেকে অনুবাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন ইবাদত করার প্রয়োজনীয়তার উপর। অন্য একটি অধ্যায়ে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সামাজিক শাস্তি সম্পর্কে তিনি ধারণা দিয়েছেন। এতেও মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বাণীকে বারেবারে মানুষ বুঝার মতো সহজ সরলভাবে আরবি ও বাংলায় প্রকাশ করেছেন। আরেকটি অধ্যায়ে সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে তিনি ব্যাপকভাবে গবেষণালব্ধ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহর ওলীদের পরিচয় ও মর্যাদা এই প্রসঙ্গে পৃথক একটি অধ্যায় রেখেছেন। বইটিতে রাসুল (দ.) এর বিদায় হজের শেষ ভাষণ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বর্তমান সমাজ ও প্রজন্মকে বোঝানোর ব্যাপকভাবে গবেষণা ও সহজসরলভাবে লিখেছেন। সামাজিক অত্যাচার ও কার্পণ্যের কুফল এ বিষয়েও তিনি একটি অধ্যায় লিখেছেন। এতে রাসুল (দ.) এর বর্ণিত হাদিসের বাণী দ্বারা বর্তমান সমাজকে এই কুফল থেকে রক্ষার করণীয় সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যা প্রদানে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও লেখক বইটিতে ব্যাপকভাবে তাঁর মতামত কোরআন হাদিসের দৃষ্টি সহজভাবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। মানবীয় কষ্ট ও স্বস্তির বিষয়ে বইটিতে আরেকটি অধ্যায় রয়েছে। মানবীয় আচরণ ও ঐশী দণ্ডবিধান এই বিষয়ে তিনি কোরআন হাদিসের দৃষ্টিতে সেই প্রাচীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন দণ্ডবিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। মূলত মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও রাসুল (দ.) এর বাণী পবিত্র হাদিস এর মাধ্যমে মানুষ যে উপকার এবং ইহকাল পরকালে নাজাত পেতে পারে সে সম্পর্কে তিনি তাঁর গ্রন্থটি ব্যাপক আলোচনা করেছেন। পবিত্র কোরআনের আলোকে সামাজিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সে সম্পর্কে এ বইটি বর্তমান সময়ের জন্য একটি অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা সহকারে সময়োপযোগী সহজ সরল বর্ণনায় মানুষকে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন তিনি। এই বইটি পাঠে সমাজ ও এ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। সাধারণ পাঠক বইটি পাঠে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। আমি এ বইটি সার্বিক সফলতা ও প্রচার কামনা করছি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

Developed by orangebd