ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৭ ১৪:৩৩:৪৭
প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি মনীষী ভাষাবিদ জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই


 


ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ভাষা ও ভাষাতত্ত্বে ছিল তার অগাধ পাণ্ডিত্য। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ছিলেন মৌলভী মফিজ উদ্দিন আহমেদ। মাতার নাম হুরুন্নেসা। শহীদুল্লাহ নামটি তাঁর মা পছন্দ করে  রেখেছিলেন। আকিকা হয়েছিলেন মুহম্মদ ইব্রাহিম নামে। তাঁর মা মনে করলেন শহিদে কারবালার চাঁদে তাঁর ছেলে গর্ভে এসেছিল; কাজেই তাঁর নাম শহীদুল্লাহ হলে ক্ষণজন্মা হবে। পরবর্তীকালে তাঁর মায়ের ধারণা সত্যি বলে পরিগণিত হয়েছিল। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বংশপরিচয় সম্পর্কে জানা যায় সৈয়দ আব্বাস আলী মক্কী নামে এক কামিল দরবেশ চতুর্দশ শতকের দক্ষিণ বাংলায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেন। পীর গোরা চাঁদা নামেও তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১২৬৫ সালে পবিত্র মক্কা নগরে এই সাধক পুরুষের জন্ম। কারও কারও মতে, তিনি হযরত শাহজালাল (র.) এর ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম। হাডোয়ায় পীর গোরা চাঁদের মাজার অবস্থিত। শহীদুল্লাহ সাহেবের আদি পুরুষ শেখ দারাম আলী। এই দরবেশ সাহেবের প্রধান খাদেম রূপে হিন্দুস্তান থেকে আগমন করেন এবং তাঁর দরগাহে বংশক্রমিক খাদেম রূপে বহাল থাকেন। ইনিও একজন কামেল ছিলেন। শহীদুল্লাহ সাহেবের রক্তে এই কামেল দরবেশের রক্তধারা এবং পীর গোরা চাঁদের রূহহানি ফয়েজ প্রবাহিত হয়েছিল। গ্রামের পাঠশালাতেই মুহম্মদ শহীদুল্লাহ শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পাঠশালায় পড়া শেষ করে তিনি হাওড়া জেলা স্কুলে ভর্তি হন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর বই পড়ার দারুণ নেশা ছিল। সে সময় থেকেই তাঁর ভাষা শেখার আগ্রহের জন্ম হয়। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর শিক্ষক ছিলেন আচার্য হরিনাথ দে। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিনামা ভাষাবিদ। তাঁর সংস্পর্শে এসেই শহীদুল্লাহ ভাষা শেখায় অনুপ্রাণিত হয়। হাওড়া জেলা স্কুল থেকে ১৯০৩ সালে তিনি কৃতিত্বের সহিত সংস্কৃত সহ এন্ট্রান্স পাস করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং ১৯০৬ সালে এফএএস করেন। বিএ ভর্তি হলেন প্রথমে হুগলী কলেজে। ১৯০৮-০৯ সালে তিনি যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বিএ পাশ করেন। এমএ তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ের অধ্যাপক পণ্ডিত সত্যব্রত সামশ্রমী মুসলিম ছাত্রকে সংস্কৃত পড়াতে অস্বীকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখার্জীর অনুরোধে মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে তৃণমূল ভাষাতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করেন এবং এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ঐ সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ভাষাতত্ত্ব বিভাগ চালু করা হয়। ১৯১১-১৫ সালে তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক ছিলেন। ১৯১৩ সালে তিনি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় জার্মানীতে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তৎকালীন ভারত সরকারের শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ছাড়পত্রের অভাবে তাঁর বিদেশ যাত্রা ব্যর্থ হয়। ১৯১৪ সালে তিনি বিএল পাশ করেন। ১৯১৫ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অনুরোধে তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন পরে তিনি মহকুমা শহর বশিরহাটে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর ব্যাপক প্রসারও হয় ঐ সময়। একবার তিনি বশিরহাট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। ১৯১৭ সালে তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯১৮-২১ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি ও সমিতির মুখপাত্র বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক রূপে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৯-২১ সাল পর্যন্ত মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শরৎকুমার লাহড়ী গবেষণা সহায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাসের উপর বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যামূলক প্রবন্ধ রচনা করেন। যা সে সময়ে শিক্ষাবিদ গুণীজনদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জার্নালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার স্যার আশুতোষ মুখার্জী প্রবন্ধগুলো পাঠ করে সংক্ষিপ্ত একটি পত্র দিয়েছিলেন। তা ছিল: ইধৎ রং হড়ঃ ভড়ৎ ুড়ঁ. ঈড়সব ঃড় ড়ঁৎ টহরাবৎংরঃু. স্যার আশুতোষের দুই বাক্যের এই চিঠি সেদিন শহীদুল্লাহর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। স্যার আশুতোষের এই অবদানের কথা শহীদুল্লাহ জীবনে কখনো ভোলেননি। তিনি তাঁর বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থটি স্যার আশুতোষের নামে উৎসর্গ করতে গিয়ে এই পত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। একই সঙ্গে তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক (১৯২৫ পর্যন্ত) ছিলেন। ১৯২২-২৪ সাল পর্যন্তি তিনি ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। ১৯২৩ সালের ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শান্তি নিকেতনের সমাবর্তন উৎসবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা সভার তিনি সভাপতি ছিলেন। ১৯২৬ সালে ভাষাতত্ত্বে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য ড. শহীদুল্লাহ ফ্রান্সে যান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বৈদিক ভাষা, প্রাচীন ভাষা, তিব্বতী ভাষা চর্যাপদ অধ্যয়ন করেন। একই সাথে জার্মানীর ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও বৈদিক ভাষা, সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রাকৃত ভাষার উপর পড়াশোনা করেন। দুই বছর সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর অভিসন্দর্ভের নাম ‘ল্য শাঁ মিসতিক দ্য কান্নআদ্য সরহ’ প্রথম বারের মত ইউরোপীয়দের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নির্দশন চর্যাপদকে তুলে ধরেন। তিনি এও প্রমাণ করেন যে, বাংলা ভাষা সংস্কৃত থেকে নয়, গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে এসেছে। যেখানে অধিকাংশ পণ্ডিত দাবি করেন বাংলা ভাষার উদ্ভব দশম শতাব্দীতে, সেখাবে শহীদুল্লাহ দাবি করেন এর সূচনা সপ্তম শতাব্দীতে। এটি যে একটি অসাধারণ গবেষণা কর্ম হয়েছিল তাঁর স্বীকৃতিও তিনি লাভ করেছিলেন। ১৯২৮ সালে এটি প্যারিস থেকে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী ত্রিশ বছরে ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি স্বদেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৮ সালে অক্টোবর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিখিল বঙ্গীয় মুসলিম যুব সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ আলাদা হলে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ ও রিডার হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৪০-১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ছিলেন। ১৯৪১ সালে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত প্রাচ্যবিদ্যা সম্মেলনে ভাষাতত্ত্ব শাখার সভাপতি ছিলেন এবং বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে জয়পুরে অনুষ্ঠিত পিইএন আয়োজিত নিখিল ভারত লেখক সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এই সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির অভিভাষণে তিনি বলেন: আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তাঁর চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব সত্য। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছিল যে, মালা তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গিতে দাড়িতে ঢাকবার জোটি নেই। ১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে অতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে বাংলা বিভাগে পুনরায় যোগদান করেন এবং ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ফরাসী ভাষায় খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৫৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালের নভেম্বর মাসে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার অন ট্রেডিশনাল কালচার ইন সাউথ-ইস্ট এশিয়া তে ইউনেস্কো মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন এবং সেমিনারে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৫৯-৬০ সালে করাচিতে অবস্থিত উর্দু উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক নিযুক্ত হন এবং এক বছর সেখানে অবস্থান করেন। ১৯৬০ সালের ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন। ১৯৬১-৬৪ সালে বাংলা একাডেমির “ইসলামী বিশ্বকোষ” প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তিনি পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি হন। ১৯৬৩ সালে “পূর্ব পাকিস্তানি ভাষা আদর্শ অভিধান” প্রকল্পের প্রথম অংশ পূর্ব পাকিস্তান আঞ্চলিক ভাষা অভিধান প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করেন। ১৯৬৩-৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন। একই সময়ে ঢাকার ইসলামিক একাডেমীর কার্যনির্বাহী সভার সদস্য হন। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক গঠিত বাংলা পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির তিনি সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রথম ইমেরিটাস প্রফেসরের পদ লাভ করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রাইভ অব পারফরম্যান্স লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ফরাসী সরকার তাকে নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্টস এন্ড লেটারস পদক প্রদান করেন। আদমজী, দাউদ প্রভৃতি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী সভাপতিরূপে দীর্ঘদিন তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তার গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। এছাড়া তিনি ৪১টি পাঠ্য বইও লিখেছেন। ২০টি বই সম্পাদনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের উপর তার লিখিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৬০টিরও বেশি। ভাষাতত্ত্বের উপর রয়েছ তার ৩৭টি রচনা। এছাড়া তিনি ৩টি ছোটগল্প এবং ২৯টি কবিতা লিখেছিলেন।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচেষ্টা করে গেছেন আজীবন। ১৯৫০ সালে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে তার প্রতিরোধ করার আহবান জানিয়ে সুধীজনেরা যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তার খসড়া ছিল তাঁরই রচনা। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন আদর্শবান। ছাত্রদের প্রতি তাঁর যে øেহশীলতা ছিল, তার তুলনা হয় না। বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি মোট একুশটি ভাষা জানতেন। তার মধ্যে রয়েছে: ইংরেজি, ফারসি, সংস্কৃত, জার্মান, আরবি, উর্দু, হিব্র“, গ্রিক, ল্যাটিন, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, মারাঠি, তামিল, সিংহলি ইত্যাদি। বাংলা ছাড়াও তিনি ইংরেজি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং ভালভাবে লিখতে পারতেন। তাঁর মতো পণ্ডিত ব্যক্তি আমাদের দেশে এ যাবত জন্মগ্রহণ করেননি। ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকায় পরলোকগমন করেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

Developed by orangebd