ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • পানি না নামা পর্যন্ত বানভাসীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে          ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী          পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ : মেনন          তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করতে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী          বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০১৭ ১৮:০১:০৬
সরকার ছাগল ভেড়া এবং মহিষ পালনকারীদেরও ঋণ সুবিধা দেবে
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার এখন থেকে ছাগল, ভেড়া এবং মহিষ লালন পালনকারিদেরকেও গবাদিপশু লালন পালনকারিদের ন্যায় ৫ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ সুবিধা প্রদানের চিন্তা-ভাবনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, গাভী পালনে আমরা যদি ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারি তাহলে ভেড়া, ছাগল,এবং মহিষ এগুলিতে দিতে পারবো না কেন? দিলে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।
১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার কটন ও জুট সিষ্টেমে ভেড়ার পশম মিশিয়ে সুতা এবং সেই মিশ্রনে প্রস্তুকৃত বস্ত্র সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা একথা বলেন।
 ‘তবে শুধু উৎপাদন করলেইতো হবে না। সেগুলি যদি সাথে সাথে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা যদি না করে দেই তাহলে কিন্তু কোনটাই টিকবে না। স্থায়ী হবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের কিন্তু গরু ও ছাগল কোরবানী দেওয়ারই রেওয়াজটা আছে। এখনো ভেড়া কোরবানীর ব্যাপারে কোন আগ্রহ কারো নেই, দেয়ও না। তিনি বলেন, এগুলো আস্তে আস্তে উৎসাহিত করা যায়।
মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইসস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভেড়ার পশম, পাট ও সুতার মিশ্রনে কম্বল,শাল,পাপস,জায়নামাজ সহ অন্যান্য গৃহস্থলী সামগ্রী তৈরী করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হক,প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হক এবং বিএলআরআই মহাপরিচালক তালুকদার নুরুন নাহার বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ছাগল,ভেড়া এবং মহিষ লালন পালনকারিদেরকে নিন্ম সুদে এই ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর সংগেও কথা বলবেন।
বঙ্গবন্ধুর সময় সমবায়ের ভিত্তিতে মিল্ক ভিটা তৈরির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সমবায় ভিত্তিতে করলে তারা বাজারজাতকরণের সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন,যদি আমরা কো-অপারেটিভের মাধ্যমে দিতে পারি তাহলে সেটার বাজারজাতকরণের সুবিধাটাও তারা পাবে। কাজেই আমি মনে করি ওভাবে আমাদের একটা উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। তাতে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।
ভেড়ার মত অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মাংস ছাড়াও হাড় ও চামড়া থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিরও আহ্বান জানান তিনি।
দেশে বর্তমানে ধান, মাছসহ বিভিন্ন ফসল ও খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে গবেষণার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রায় ২১ বছর পর আমরা ১৯৯৬ এ ক্ষমতায় এসে গবেষণার ওপর গুরুত্ব না দিলে এগুলো কিন্তুু হত না। গবেষণাটার মাধ্যমে আমরা কিšু‘ অনেক কাজ করতে পারি।
ভেড়ার পশমের সঙ্গে পাট মিলিয়ে পণ্য তৈরি করলে একদিকে পশম আমদানি যেমন কমবে আবার পাটেরও চাহিদা তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
একইসঙ্গে কালো ছাগল উৎপাদনসহ অন্যান্য দুগ্ধ ও প্রাণীজ আমিষ উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পদক্ষেপের কারনে দেশ সবদিক দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় দেশের মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগত। মানুষ একবেলাও খাবার পেত না। এখন বাংলাদেশে তা নেই।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধাগুলো যথাযথ ব্যবহারে সক্ষম হলে এদেশে আর কোন মানুষ দরিদ্র থাকবে না।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd