ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০১৭ ২৩:২৪:০১আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ১১:০৫:২৭
জাতীয় শোক হোক জাতীর শক্তির উৎসরণ
দেশ চায় ডিজিটাল প্রজন্মের রাজনীতিবিদ
পুলক কান্তি বডুয়া, এফ আই ই বি


 

 
সারাংশ
১৫ আগস্টের শোককে জাতিগত শক্তিতে রূপান্তরিত  করতে চাই জাতীয় পরিকল্পনায় ডিজিটাল প্রজন্মের রাজনীতিবিদ; বঙ্গবন্ধুকে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ঠিকানায় পরিণত করতে প্রয়োজন ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ভিশন ৪১। সেই রূপকল্প বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ নেতৃত্বের সংকট । তাই শুধু শোকের অনলে অনুষ্ঠান নির্ভর শোক দিবস পালনে নয়, দিনটি হোক প্রজন্মের বঙ্গবন্ধু হওয়ার স্বপ্নযাত্রায় ‘আমিই বাংলাদেশ, আমিই বঙ্গবন্ধু’ তবেই বঙ্গবন্ধু মৃত্যুহীন এক জাতি। সারা বাংলায় একটি প্রশ্ন থাকবে, যার উত্তর শুধু একটাই বাঙালি বাঙালি ।
 
মূল প্রতিবাদ্য
এ কোন সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার, আমাদের প্রতিবাদ শুধুই অক্ষমের ধিক্কার। সত্যিই কি করবো? বলবো, এই আঁধার দিগন্তে একমাত্র নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা ছাড়া আর ‍উপায় নেই।
প্রতিদিন সকাল হয়, পত্রিকার পাতায় এক একটি মন খারাপের খবর আশাহত করে। প্রতিদিন নতুন করে স্বপ্ন দেখি। দিন শেষে এক একটি জেগে উঠা স্বপ্ন, আবার মরে যায়। স্বপ্নরা বড্ড ক্লান্ত আজ। রাত জেগে নতুন স্বপ্নের খোঁজে কিছু মানুষের ফেইসবুক ঘাঁটি, নতুন কোনো আশা আর ঠিকানার খোঁজে। প্রতিদিন বড্ড উৎসাহ জাগে বুকে, প্রায় রাতে অনেক সফলতার, আনেক আনন্দের, কিছু আশা জাগানো পোস্ট, ছবি, আনন্দময় মূহুর্ত, আবার আরেকটি স্বপ্নের সিঁড়ি একে দেয় মনে। ক্লান্তি উবে যায়, আবার সকালের সুন্দর একটি ভোরের প্রতীক্ষায়, চোখের দু-পাতা লেগে আসে। তৈরি হয় ভাবনা।
একটি জাতি সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে উঠতে, অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ পেতে, নিরাপদ প্রজন্মের জন্যে, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, জাতিগত ভাবনা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব, পরিচালনা, সূদুর প্রসারী পরিকল্পনা, সামাজিকভাবে দৃঢ চেতনা সৃষ্টি করতে, লালন পালন ও দেশপরিচালনায় মেধাবী, যুগউপযোগী, রাজনীতিবিদ পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক্সটা একাডেমিক বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় প্রজন্মের মধ্য থেকে রাজনিতীবিদ সৃষ্টি করা, করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া  প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বার্থে, সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে এর গুরুত্ব বুঝতে ও বুঝাতে হবে। রাজনীতি এখন আর কোন সম্মানিত পেশা বা গৌরবের বিষয় নয়। বরং এটা সকলের সমালোচনা, মশকরা, ঘৃণার, স্বার্থের, সহজ কিছু প্রাপ্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রজন্মের কাছে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ নিয়ে সমালোচনা, ক্ষোভ ও নানা অযোগ্যতার বিষয় নিয়ে কথা বলা, লেখা, আলোচনা করা এখন ফ্যাশন। শুধু তাঁরাই  নন, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, মিডিয়া সবারই লক্ষ্যবস্তু রাজনীতিবিদ । এমন কী জনগণ। সবার কাছে সবচেয়ে সহজ বিষয় যে কোনো ব্যর্থতায়, দূর্ঘটনায় দায়ী রাজনিতীবিদ, মন্ত্রী, সরকার। দেশের বারটা বাজার জন্য দায়ী এ দেশের রাজনীতিবিদ আর তাদের মাধ্যমে গড়া স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বৈধ অবৈধ সব সরকার কোনো না কোনো দেশের ক্ষতির কারণ। এই সাধারণ ও নিয়ম হয়ে যাওয়া দেশের সকল ক্ষতির উৎস রাজনীতিবিদ । কারণ তাঁরাই সরকার তৈরি ও পরিচালনা করেন। দেশের দু’টি প্রধান দলকে বিবেচনায় নিলে দেখা যায়. উভয় দলের রাজনীতিবিদরা একই কম গড়নে, মননে, চিন্তায়, চেতনায় ঘুরে ফিরে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত একই মুখ, একই ঢং, একই বিষয় । দুই দলের আদর্শিক গঠনতন্ত্র, মেনোফেস্টো, নির্বাচনী ওয়াদা কারো থেকে কারো কম নয়। সমস্যা হচ্ছে- ওই গঠনতন্ত্র ও আদর্শের বাহকের ব্যক্তি চরিত্র, চিন্তা, কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন । ফলে রাজনীতি ও দলীয়রাজ নীতিবিদরা সুনির্দিষ্টভাবে দুই মেরুতে অবস্হান করে, ফলে তারা নানা সরকার যাত্রা পালার নায়ক-নায়িকা ও বাকী সবাই বাংলাদেশ নামক মানচিত্রে চারদিকের ভোট টিকেট কাটা দর্শক । তাই বাকিরা দর্শকের মতোই কৌতুক করে, হাসে কাঁদে, বাঁশি বাজায়, চিৎকার চেঁচামেচি করে। আমাদের দেশের সরকার পুরনো যাত্রা পালার মতো রাজনীতিবিদরা ওই যাত্রা পালার চিৎকার করা আগের দিনের নায়ক-নায়িকার মতো । ফলে যাত্রা আর চলে না। প্রজন্ম আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বিশ্বায়নের নানা জ্ঞান বিজ্ঞান আর বিনোদনে ওরা মজেছে, তাই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হলে, আগামীতে রাজনীতি সচল রাখতে ও বিরোধী দলকে শক্তিশালী করে প্রয়োজনীর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে পুনরায় সরকার গঠন ও বাংলাদেশে গণতন্ত্র কার্যকর করতে হলে প্রজন্মকে রাজনীতিতে উৎসাহিত করে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া যার সার্বজনীন কোর্স বা কাঠামো তৈরির মধ্য দিয়ে আধুনিক মেধাবী রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে । এদের কেই উভয় রাজনৈতিক দল নিজ নিজ দলে পরবর্তী সরকার গঠন বা পুনক্ষমতায় আসার জন্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা দরকার । অর্থাৎ প্রফেশনাল রাজনীতিবিদ প্রফেশনাল রাজনীতি করবে। একটি নির্দিষ্ট জাতীয় কোর্স ও মনস্তাত্বিক ডাক্তারি পরিক্ষায় উত্তরণরাই রাজনীতি করবে। চাকুরি ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিবিদদের অবসরের বয়স নির্ধারণ করা দরকার । তাহলে স্বাধীন ক্রিয়েটিভ রাজনীতিবিদ আমরা পাবো । বর্তমান পদ্ধতিতে রাজনীতিবিদ হিসেবে যাদের পাই তারা প্রত্যেকেই লেজুর বৃত্তি ও তোষামদের উপর পিএইচডি করে আসা লোক। সাংগঠনিক, ক্রিয়েটিভ আর নৈতিক চরিত্রের কেউ উভয় দলের বড় নেতা হওয়ার সুযোগ না থাকায় এসব হচ্ছে । সিনেমা হলের অচল ছবির রাজনীতি কখনো দেশের জন্যে মঙ্গল হবে না । ব্যবসায়ীরা ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যবহার করবে । তাই আজ আমাদের ভাবতে হবে, পুরাতনদের আর সমালোচনা না করে, প্রজন্মকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার পদ্ধতি বের করতে হবে । সকল মুশকিল এর উৎসকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে না দেখে আমরা সবাই এর সমালোচনা আর হা হুতাশ করে যাচ্ছি। সুতরাং সরকারের ব্যর্থতার দায় আমাদেরও;  কারণ আমরা রাজনীতি করি না, যা করি তাহলো হুক্কা হুয়া । যে দেশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে কেনা। সে দেশ চালানোর কারিগর তৈরি আজ সময়ের প্রয়োজন । একটি সরল অংক যে রাজনীতিবিদরা আন্দোলনের নামে হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে এবং উভয় দল মানসিকভাবে আনফিট । সুতরাং দেশ নেতা, রাজনীতিবিদ পেতে হলে আমদের রাজনীতি করার মুক্ত স্বাধীন অবকাঠামো দিন । দেশ তৈরি করে চাবি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে প্রজন্ম। আজ ১৫ আগস্টের মর্মমূলে শোকগাঁথার শক্তিতে এটাই হোক আমাদের নতুন ভাবনা।
 
পাদটীকা : রাজনীতিবিদ ডিজিটাল প্রজন্মের মধ্য তৈরি না হলে বঙ্গবন্ধুকে আমরা  চেতনায় রাখবো কীভাবে?
এক শ্রেণীর মানুষ রাজনীতিকে চরমভাবে ঘৃণা করে। তারা কি বুঝে এটা করে সেটাই আমি বুঝিনা। সরকার ছাড়া একটি দেশ চলতে পারে না আর সে সরকার গঠনের জন্যে রাজনৈতিক দলের অবশ্যই দরকার । রহিম চাচা কিংবা করিম চাচার মতো দুয়েক জন সাদা মনের মানুষ দিয়ে দেশ চালানো যায়না । তাঁরা যতোই ভালো মানুষ হোক, এইজন্যে অবশ্যই একটি দল লাগে আমি ছাত্র রাজনীতিরও পক্ষে তবে সেটা অবশ্যই সুস্থ ধারার । কারণ ছাত্রাবস্থায় যদি রাজনীতি শেখা না যায় তাহলে বুড়ো বয়সে হঠাৎ সে কিছুই করতে পারবে না । সব বড় বড় নেতাই তরুণ বয়সে তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন।
লেখক : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ও আহ্বায়ক, বাংলাদেশ বাঙালি মূল নিবাসী ইউনিয়ন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd