ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১২:০৭:১৯
বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে
টাইমওয়াচ ‍রিপোর্ট


 


বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য বাণিজ্যে ৮১৮ কোটি ডলারের ঘাটতি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৫৪৩ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স) ব্যাপক হারে কমে গেছে। এ কারণে বিদেশের সঙ্গে লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ফলে চলতি হিসেবে বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এপ্রিল শেষে চলতি হিসাবে ১৭৮ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময় ৩৫৩ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। অবশ্য সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) এখনও উদ্বৃত্ত রয়েছে।

 
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনে অনেক আমদানি করছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগকেও উদ্বুদ্ধ করছে। এতে মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য আমদানি বেড়েছে। ফলে মোট আমদানি বেড়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের কিছু নেই।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত দশ মাসে মোট আমদানি ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। আর এ সময় রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮০৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে পরিমিত ঘাটতি ছিল এবং তা আগের অর্থবছরের চেয়ে কমও ছিল। এর কারণ জ্বালানি তেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম ছিল। গত কয়েক মাস ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক বছর আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৪০ ডলারের আশপাশে ছিল। এখন তা ৫০ ডলারের ওপরে।
 
পণ্যের পাশাপাশি সেবা বাণিজ্যেও বাংলাদেশের ঘাটতি বেড়েছে। সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশকে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে সে তুলনায় পেয়েছে খুবই কম অর্থ। জুলাই-এপ্রিল সময়ে সেবা বাণিজ্যে বাংলাদেশ ২৭২ কোটি ডলারের ঘাটতিতে রয়েছে। গত অর্থবছরে প্রথম দশ মাসে এ খাতে ২১১ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। এদিকে গত নয় মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) রেমিট্যান্স ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত দশ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। আর পেট্রোলিয়াম পণ্যে ২৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল তুলা আমদানি ১৩ শতাংশ এবং লোহা, স্টিলসহ এ ধরনের পণ্য আমদানিতে ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
 
এ ছাড়া চিনিতে ৪০ শতাংশ, ডালে ৫৭ শতাংশ, ভোজ্যতেলে ১৫ শতাংশ, মসলায় ৩৫ শতাংশ এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আমদানি বৃদ্ধি ভবিষ্যতের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধির জন্য ভালো।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd