ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:২৩:৪৪
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামত করে দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী
রংপুর সংবাদদাতা


 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  নতুন ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত বন্যার্তদের সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায়  ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামত করে দেওয়া হবে। একজন মানুষও ঘরহারা থাকবে না। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যার্তদের পুর্নবাসন করা হবে।
 
২০ আগস্ট রোববার দিনাজপুর জিলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তাদের নতুন করে বই দেওয়া হবে। বন্যার্তদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও খোঁজ-খবর নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
তিনি বলেন, বন্যা দুর্গতরা নতুন ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত আগামী তিন মাস ত্রাণ সামগ্রী পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা দুর্গতদের নতুন ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত আগামী তিন মাস খাদ্য সাহায্য চলবে। দুর্গতরা সবাই যেন খাদ্য সহায়তা পেতে পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।
১০ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের কাছেই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছবে। আপনাদের একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।
বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের জন্য বিমানবাহিনীর একটি হেলিকাপ্টারে প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এখানে পৌঁছেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে দিনাজপুর জেলা সদরের দিনাজপুর জেলা স্কুল এবং বিরল উপজেলার তেঘাড়া হাই স্কুল ত্রাণ শিবিরে স্থানীয়দের মাছে ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় যদিও পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে তথাপি সতর্কতার অংশ হিসেবে সরকার বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ ইকবালুর রহিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বক্তৃতা করেন।
এছাড়া, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যরিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বন্যার পানি নামার সাথে সাথে নানারকম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এই বিষয়টি খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, এখনও কোন কোন ক্ষেতে পানি জমে আছে, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি এই সমস্ত ক্ষেতের আইল কেটে দিয়ে অথবা পানিটা নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা বা যা যা প্রয়োজন করে পানিটা বের করে দিতে হবে। আর সেই সাথে সাথে পরবর্তীতে আমরা তা মেরামত করে দেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা-ঘাট নষ্ট হয়েছে। রেল লাইনে পানি ঢুকে গিয়েছিল, আমাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেমন সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয় এবং আমাদের এলজিইডি, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় আগে থেকেই তৈরী হয়ে আছে। বন্যার পানি নেমে গেলেই রাস্তা মেরামতের কাজ ইনশাল্লাহ আমরা শুরু করে দেব এবং নিজেরা যাতে নিজেরদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারেন সেই সুযোগ আমরা করে দেব।
ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে সেনাবাহিনী এবং প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, অনসার-ভিডিপির সদসদের নিয়োজিত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরী করেও সেখানে পাঠানে হয়েছে এবং নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে বন্যা দুর্গত এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই প্রত্যেকটা মানুষ ভালো থাকুক। আজকে যখন বন্যার খবর পেয়েছি সাথে সাথে আপনাদের ভোটে যারা নির্বাচিত সেসব সংসদ সদস্যরা প্রতেকেই ছুটে এসেছেন। আমাদের মন্ত্রীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থা সকলেই আজকে একজোট হয়ে কাজ করছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে জাতির পিতা নেই। তবু আমরা আশা করবো সেই ভরসা আমাদের ওপর আছে এবং থাকবে।
তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি চাই বাংলার মানুষ যেন ভালো থাকে। আপনাদের জীবন যাতে উন্নত হয়। আপনাদের ছেলে-মেয়েরা যেন লেখাপড়া শিখতে পারে, আপনারা যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারেন এবং যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা আপনাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারি- সেটাই আমাদের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে পর্যাপ্ত পরিমান রিলিফের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেকেই যেন রিলিফ পান তার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ঘর করে দেয়া এবং তাদের মাঝে খাস জমি বিতরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, খাসজমি দেব ভূমিহীনদের এবং যাদের ঘর নাই আমরা ঘর-বাড়ি করে দেব।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষক ভাইদের যাদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে- তারা যেন পুনরায় কৃষিঋণ পেতে পারেন, বীজ ও বীজতলার ব্যবস্থাও করে দেব।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন- প্রায় ২ কোটি কৃষক কৃষি উপকরণ কার্ড পেয়ে থাকেন। ১ কোটির মত কৃষক ভাইবোনেরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং ভর্তুকির টাকা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছায়। কাজেই এই ক্ষেত্রে যা যা করণীয় আমরা তা করবো।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd