ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:৫৫:৩১
দেশী জাতের গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে জামালের ভাগ্য পরিবর্তন
এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম)


 


দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভিসা বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী অধ্যুষিত রাউজান উপজেলায় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকার যুবকের সংখ্যা। এসব বেকার যুবকেরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে গড়ে তুলছে গবাদি পশুর খামার, মৎস খামার, পে¬াট্রি ফার্ম সহ নানা উৎপাদনশীল কৃষি খামার। এছাড়াও অনেক চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ীরা বাড়তি আয়ের জন্য বা শখের বশে গড়ে তুলেছেন এসব খামার। এত করে পরিবর্তন হয়েছে অনেক যুবকের ভাগ্যের চাকা। এদের মধ্যে একজন উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তরপাড়া গ্রামের হাজী মো. আরবান আলীর পুত্র ও চুয়েট কর্মচারী মো. জামাল উদ্দিন।
জামাল উদ্দিন নিজ গ্রামে প্রায় ৩২ শতক পৈত্রিক জমিতে বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের প্রথম দিকে গড়ে তুলেছেন দেশী জাতের গরুর খামার। সে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে নিয়ে এই অঞ্চলে মানুষের চাহিদা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে দেশী জাতের গরু সংগ্রহ করে তার খামারে শুরু করেন হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রক্রিয়া। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঊনসত্তরপাড়ার বশির মোহাম্মদ শাহ মাজারে পশ্চিম পার্শ্বে হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক ঘেঁষে টিনের প্রাচীরের ভেতরে বাঁশে বেড়া ও  টিনের চালার তৈরি জামাল উদ্দিনের গরুর খামার। তার এই খামারে রয়েছে প্রায় ৩০ টি হৃষ্টপুষ্ট দেশী জাতের ষাঁড়। প্রতিটি ষাড়ের ওজন প্রায় ১০০-১২০ কেজি। এই সব ষাড়ের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। এসময় খামারি মো. জামাল উদ্দিন, তার বাবা ও তার দুই কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জামাল উদ্দিন চুয়েটের একজন কর্মচারী। তার আয়ের উপর নির্ভর তার পরিবার। তার স্বল্প আয় দ্বারা পরিবারে ব্যয়ভার বহণ করতে প্রায়শ হিমশিম খেতে হয়। কিশোর বয়স থেকে কর্মঠ জামাল উদ্দিন বন্ধের দিন ব্যাতিত প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চাকরি করার পর বাকী সময় কাটে আড্ডায়। তাদের আড্ডার মধ্যমণি তরুণ বয়সী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনের অনুপ্রেরণা ও পরামর্শে চলতি বছরের জানুয়ারীতে গড়ে তোলেন দেশী জাতের গরুর খামার। প্রাথমিকভাবে নিজের কিছু জমানো অর্থ বিনিয়োগ করে তৈরি গোয়াল ঘর। পরবর্তীতে প্রবাসী বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী,আনোয়ারা সহ বিভিন্ন স্থানের কৃষকের কাছ থেকে খামারের জন্য গরু সংগ্রহ করেন। কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে শুরু করেন হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে তার কোন প্রশিক্ষণ না থাকলেও বিভিন্ন খামারী ও পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তার খামারটি পরিচালনা করেন। প্রতি সপ্তাহে দুইবার নির্ধারিত পশু চিকিৎসক দ্বারা গরু গুলোর স্বাস্থ্য পরিক্ষা নিরীক্ষা করান। এই খামারের গরু গুলোর পরিচর্যার জন্য রয়েছে কামাল, শহিদুল ও জালাল নামে তিনজন কর্মচারী। চাকরির সময় ছাড়া বাকী সময়টুকু সে খামারে গরুর দেখাশুনা করেন। সে চাকরিতে তার বৃদ্ধ বাবা খামারে সময় দেন। এই পর্যন্ত সে খামারে প্রায় পনের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সামনের কোরবানীর বাজারে গরুগুলো বিক্রি করলে দশ থেকে বার লক্ষ টাকা তার লাভ হবে বলে জানান জামাল উদ্দিন। ব্যাংক থেকে ঋণ বা সরকারী সহযোগীতা ও প্রশিক্ষণ পেলে দুগ্ধজাতের গাভীর খামার করার পরিকল্পনার কথা জানান সে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন জানান, খামারি জামাল উদ্দিন দেশী জাতের গরু হৃষ্টপুষ্টের মাধ্যমে কোরবানি ঈদে স্থানীয় চাহিদা পুরণে ভুমকিা রাখার পাশাপশি নিজেও লাভবান হচ্ছেন এবং কয়েকজন বেকারের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন। তার দেখাদেখিতে অনেক বেকার যুবক অনুপ্রাণিত হয়ে গবাধি পশুর খামার গড়ে তোলছেন। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লেলিন দে জানান, গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে কোন প্রকল্প নেই তারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠা খামারিদের আমরা প্রযুক্তি পরামর্শ ও সেবা দিয়ে থাকি। উপজেলায় গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করে এমন খামারির সংখ্যা ৪২৫ জন। এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮’শ ৪৫টি ষাড়, ৬ হাজার ১’শ ২২টি বলদ, ২ হাজার ৫টি মহিষ, ৫ হাজার ৬’শ ৪১টি ছাগল, ১ হাজার২’শ ৫৫টি ভেড়া। এছাড়াও দুগ্ধজাত গাভীর বড় খামার (কমপক্ষে ১০ টি গাভী) ৪১ টি খামারে রয়েছে ৬৭৫টি গাভী এবং   প্রান্তিক খামার (১টি গাভী ১টি বাছুর) রয়েছে প্রায় ১২০টি। যা গত বারের চেয়ে দশ শতাংশ বেশি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd