ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৫৬:১৮
কুরবানীকৃত পশুর চামড়া বিক্রির টাকা খাজনা দিতে শেষ!
নওগাঁ সংবাদদাতা


 


পবিত্র ঈদ-উল-আয্হা উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১ লাখের অধিক গৃহপালিত পশু কুরবানী দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কুরবানীর পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কুরবানীদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
কুরবানী ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও মৌসুমে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা চামড়া কেনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্খা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। এতে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কুরবানীদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
আবার যারা কুরবানী দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। বেশি সময় ধরে চামড়া রাখলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই অল্পমূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।
শনিবার ঈদের দিন ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ৫-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ১০-৫০ টাকা, বকনা গরু ১৫০-২০০, ষাঁড় গরু ৭৫০-৯০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হয়েছে।
মান্দার গনেশপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, এবার একটি বকরি কুরবানী দিয়েছেন। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। ‘চামড়ার দাম না থাকায় পাঁচ টাকা দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে চামড়ার খাজনাই পাঁচ টাকা।’ তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউপি’র বিন্দরামপুর গ্রামের গোলাম সারোয়ার বলেন, এবারের চামড়ার দাম তূলনামূলকভাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম।  অথচ বাজারে চামড়ার তৈরী পণ্য সামগ্রীর দাম কিন্তু এবারের ঈদে কম নেই।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্খা করছেন।
পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকা নতুন হাটের চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন কুমার বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। সময়মতো এসব চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে বা বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই কুরবানী পশুর চামড়া অল্পমূল্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোন ঠিক নেই।
নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বর্গফুটে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মোট কথায় আগামীতে চামড়ার বাজার পাটের তুলনায় খারাপ হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd