ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:২৯:২৭আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৭:৪৯
সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত


 

বেসরকারি সিকিউরিটি সেবা প্রদানকারী শীর্ষ যে ক’জন সফল ব্যক্তি-উদ্যোক্তা রয়েছেন এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড (এলিট ফোর্স)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের সিকিউরিটি সেবা প্রদান করে আসছেন। সিকিউরিটি সেবা প্রসঙ্গে সম্প্রতি তিনি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : সময়ের পরিক্রমায় এলিট ফোর্স ১৮ বছরে পা রেখেছে। এরই আলোকে আপনার দৃষ্টিতে, কতোটুকু এগিয়েছে এলিট ফোর্স; এ বিষয়ে জানতে চাইছি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : আমরা অনেক এগিয়েছি। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৭ জন গার্ড নিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। এখন আমাদের প্রায় ১৯ হাজার গার্ড রয়েছে। জনবলের দিক দিয়ে দেখতে গেলে, আমরা অনেক লোকের কর্মসংস্থান করেছি। আমাদের কর্মপরিধিও বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি এলিট ফোর্স। দেশের সর্বত্র অর্থাৎ ৪৬০টি উপজেলায় আমাদের কর্মকা চলছে। আমাদের পরে দেশে যেসকল সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানি গড়ে উঠেছে সেসবগুলোর সর্ব সাকুল্যে জনবল আমার জানা মতে, ১০ হাজারের উপরে নয়। এদিক থেকে আমরা সন্তুষ্ট।
টাইমওয়াচ : দেশের অন্যান্য সিকিউরিটি কোম্পানির তুলনায় আপনাদের এত দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার নেপথ্য রহস্য সম্পর্কে বলবেন কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫শ’ সিকিউরিটি কোম্পানি কাজ করছে। ২০০২ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রচুর কোম্পানি এসেছে। এরমধ্যে প্রথম সারির ১০টি কোম্পানির মধ্যে ‘সিকিউরেক্স’ (ঝবপঁৎবী) প্রথম পথপ্রদর্শক/পাইওনিয়ার। সিকিউরেক্স এই দেশে প্রথম ১৯৮৯ সালে সিকিউরিটি সেবা কার্যক্রম শুরু করে। দেশের প্রথম ১০টি কোম্পানির মধ্যে সিকিউরেক্স একটি কোম্পানি। এই কোম্পানির মালিক প্রয়াত গ্রুপ কাপ্টেন তাহের কদ্দুছ ছিলেন আমাদের বাবার মতো। উনিই এই দেশে প্রাইভেট সিকিউরিটি সেবা কার্যক্রম প্রথা প্রথম প্রচলন করেছিলেন। আমি ওনার আত্মার শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ্ উনাকে বেহেশত নসিব করুন।সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত
২০০১ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড’ সেন্টার আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে পৃথিবীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। একই প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল। তখন আমেরিকায় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ নামে একটি ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছিল এবং বর্তমানে তারা পুরো আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। আপনারা জানেন যে, সিকিউরিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এরজন্য কি কি প্রয়োজন হতে পারে; তাই প্রথমেই আমরা চিন্তা করেছি অবকাঠামো। অবকাঠামোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা হলো- প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট আলাদা জায়গা, সাথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইত্যাদি। এ জন্য আমরা অনেক প্রশস্থ এবং নানাবিধ সুবিধাদী সম্পন্ন ‘ডিজিটালাইজ্ড ট্রেনিং সেন্টার’ করেছি। এটির মান খুবই উন্নত। তবে এটি আমরা নিজেরাই বললে শুনতে একটু বেমানান লাগে। আমাদের এখানে আগত প্রচুর দেশি-বিদেশী ভিজিটর এবং সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞগণ আসেন মূলতঃ তাঁরাই এগুলো বলেছেন। ইন্ডিয়া, পাকিস্তানসহ পুরো এশিয়া মহাদেশের মধ্যে আমাদের ট্রেনিং সেন্টারের মতো সমমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অন্য আর কোথাও নেই। এরমধ্যে আমরা আরেকটি খুব উল্লেখযোগ্য/Significantজিনিস করেছি। তাহলো- ডগ ট্রেনিং/Squad যুক্ত করেছি। আমাদের ৭ তলা বিশিষ্ট হেড কোয়ার্টারের প্রতিটি তলাতেই সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মকা চলছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান কর্নেল এই এলিট হেড কোয়ার্টারকে ‘মিনি পেন্টাগন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ ধরনের ডিজিটালাইজ্ড বিল্ডিং অনেক দেশেই নেই। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো- আমাদের অবকাঠামো। আল্লাহর অশেষ রহমত যে, সব কিছু মিলিয়ে প্রতিযোগীতায় আমরা অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছি। আমাদের প্রসারও ঘটেছে বেশ। আমরা গত ২ বছর যাবৎ দূতাবাসগুলোতে গার্ড দিচ্ছি। আগে একটি মাল্টিন্যাশনাল সিকিউরিটি কোম্পানির বাংলাদেশে একক কর্তৃত্ব ছিল। এটি আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। আমরা ফেইসবুক, গুগলের সঙ্গেও কাজ করছি। এছাড়া আমরা আন্তর্জাতিক অনেক কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের সেবা গ্রহনকারী গ্রাহক সংখ্যা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।
টাইমওয়াচ : অবসর জীবনে মানুষ অবসর সময় কাটায়। আপনি সেই কাজটি না কওে নতুন করে সিকিউরিটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন; এর নেপথ্যের অনুপ্রেরণা কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : আমাদের সামরিক বাহিনীর চাকরির সীমা পরিধি সম্পর্কে অনেকের জানা নেই। আমরা অফিসার অর্থাৎ একজন মেজর ৪৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। একজন লেফটেনেন্ট কর্নেল ৫০ বছর বয়সের মধ্যেই অবসর গ্রহণ করেন। একজন ব্রিগেডিয়ার ৫২ থেকে ৫৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর কেউ যদি যে কোনো কাজ করতে চান, তখন খুব সহজে কর্মসংস্থান হয় না। এই সময়কালে প্রায় সকল অফিসারগণ এক ধরনের কর্মহীনতায় ভোগেন। এই বিষয়টি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। এই কারণেআমরা চার বন্ধু মিলে ইন্ট্রিগ্রেটেড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড (ISSL) নামে প্রথমে একটি কোম্পানি ১৯৯৫ সালে চালু করি। এটির আমি ফাউন্ডার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলাম। পরে আমি এলিট ফোর্স গঠন করি। এরমধ্যে আমি প্রায় ৩১ ধরনের বিজনেস করি। যেহেতু ওইগুলোর কোন অভিজ্ঞতা আমার ছিল না আমি ওই সব ব্যবসায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু সিকিউরিটি সেবা ব্যবসায় হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অনেকটা সফল হয়েছি। কেননা এটি হলো ‘ফৌজি’ টাইপ। ব্রিফিং,পেরেড, প্রশিক্ষণ, জোড়ে পাও উঠায়ে সেল্যুট, সারা দিন বকাবকি, হৈ চৈ করলেই অনেক কিছু মেনেজ করা যায়।
সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত
টাইমওয়াচ : আমাদের দেশে গড়ে ওঠা কোম্পানিগুলোর মধ্যে শত বছর টিকে থাকা কোম্পানি নেই বললেই চলে। এলিট ফোর্স শত বছর টিকে থাকুকÑ এ ধরনের কোনো স্বপ্ন আপনাদের রয়েছে কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : সিকিউরিটি বিজনেস বাংলাদেশে লো ইকোনোমি (Low Economy) বিজনেস। কিছ ব্যাংক আছে আমাদের গার্ডদের মাত্র ৫ হাজার টাকা দেয়। ৫ হাজার টাকা দিয়ে একজন গার্ড কী করতে পারেন, তা আপনিই ভাবুন? তবুও এ ব্যবসা বাংলাদেশে বাড়বে এবং চলতে থাকবে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেও এ ব্যবসা চলবে। কেউ ভালো সিকিউরিটি পেতে চাইলে একজন গার্ডের মোটামুটি গ্রহণযোগ্য শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে, তাদের ফিজিক্যালি ফিট হওয়া দরকার, তাদের কিছু বোধ জ্ঞান থাকা দরকার। আমরা একজন গার্ডের মধ্যে এই বিষয়গুলো পাই না। আমরা গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি যে, নুন্যতম অর্থ প্রদান করার বিষয়ে। যেহেতু গার্ড সার্ভিস চলে এসেছে এবং থাকবে। অবশ্য কিছু কিছু সম্মানিত গ্রাহক ভালো। তাদেরকে আমরা গার্ডের পিছনে প্রয়োজনীয় খরচ দেখাই যে, গার্ড সার্ভিস চালাতে গেলে কি কি খরচাদি আছে। ক্লায়েন্টরা ভালো পেমেন্ট না করলে তাদেও গার্ড সার্ভিসও ভালো হয় না। সেখানে ৩ জনের ক্ষেত্রে ২ জন গার্ড ডিউটি করে। প্রত্যেক গার্ডকে ১৬ ঘন্টা করে ডিউটি করতে হয়। একজন গার্ড ১৬ ঘন্টা ডিউটি করলে তার মানসিক এবং শারীরিক শক্তি থাকবে বলে কী আপনি মনে করেন? আমিতো মনে করি, তা সম্ভব নয়। ফলে বেশির ভাগ গার্ড রাতে ঘুমায়। এর কারণ হলো- আমরা তাদেরকে বেশি খাটাই। সরকার একটি নিম্নতম মজুরি দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের এ রেট কেউ মানতে চায় না। সিকিউরিটি সার্ভিস সমাজে এখন ভালো অবদান রাখছে। রাজধানীর গুলশান, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকায় সব সিকিউরিটি কোম্পানি পুলিশের সাথে পাহারা দিচ্ছে। তাই ভালো উদ্যোগ থাকলে এই ব্যবসাও শত বছর টিকে থাকবে বলে আমি মনে করি। আর আমরা সেই স্বপ্ন লালন করেই এগিয়ে চলছি।
টাইমওয়াচ : সিকিউরিটি সেবাকে অধিক সম্প্রসারণের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : আমরা সরকারের সাথে বসতে চাই। হিসাব করতে হবে যে, একজন লোক ঢাকার শহরে থাকতে হলে তার জীবিকা খরচ কত টাকা লাগতে পারে এবং তার ফ্যামিলিকে কিছু টাকা পাঠাবে এভাবে বিবেচনা করে গার্ডদের জন্য ন্যূনতম একটি অর্থ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধনীরা ইচ্ছে করলে একজন গার্ডকে ভালো পেমেন্ট করতে পারে। পত্রিকায় পড়েছি, দেশের একটি জুয়েলার্স মালিকের সন্তান দৈনিক হাত খরচ করতো ২ লাখ টাকা। অথচ আমাদের দেশের অনেক ব্যাংক, টেলিফোন কোম্পানি মাস শেষে একজন গার্ডকে মাত্র ৫ হাজার টাকা দেয়। রাজধানীতে একজন লোকের থাকা-খাওয়া, জীবনমান প্রভৃতি হিসাব করে সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। মাসিক বেতন কম হওয়ার জন্য আমাদের দেশে গার্ড সার্ভিস খুবই দূর্বল। আপনি বেশির ভাগ স্থানেই এই দূর্বলতা লক্ষ্য করবেন। বিশেষ করে রাতের বেলা আপনি যে কোনো স্থানে এই দৃশ্য দেখতে পারবেন; যেটি আমি একটু আগেই বলেছি।
সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত
টাইমওয়াচ : এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আপনার পরামর্শ কী? অন্যদিকে আমরা জানি যে, নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্রের ব্যবহারও জড়িত। গার্ডদের অস্ত্র ব্যবহারে সরকারের কোনো নীতি নেই। আপনারা অস্ত্র ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত কীভাবে করেন; বলবেন কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : আমরা যারা বড় বড় কোম্পানি রয়েছি, সবাই সরকারের কাছে অস্ত্র নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। সরকার এ ব্যাপারে সর্তক। এক্ষেত্রে সরকারেরও অনেক কিছু ভাবনার বিষয় রয়েছে যে, কার হাতে কোথায় কখন অস্ত্র চলে যাবে। এজন্য আমরা আমাদের সাবেক সৈনিক যাদের কাছে হাতিয়ার আছে তাদেরকে এই সেবায় নির্বাচন করি। এটি কড়াকড়ি ভাবে দেখলে, সঠিক নয়। এটি তাদেরকে নিজের ব্যবহারের জন্য সরকার অনুমতি দিয়েছে। তবে সরকার এ ব্যাপারে কিছুটা হলেও নমনীয়। এই বিষয়টি ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা লক্ষ করে আসছি। যেমন- ক্যাশ ক্যারিংয়ে তখন থেকেই এভাবে হাতিয়ার ব্যবহার হচ্ছে। সরকারের পর্যাপ্ত রিসোর্স নেই যে, প্রতিটি কোম্পানিকে হাতিয়ার দিবে। এজন্য সরকার এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও নমনীয়। বিশেষ করে গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে হাতিয়ার জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু আমাদের কাছে চিঠি এসেছে যে, সিকিউরিটি কোম্পানির হাতিয়ার জমা দিতে হবে না। তারা তাদেও মতো ডিউটি করুক। কিন্তু যখন হাতিয়ারধারী কোনো একজন যখন ছুটিতে যায় কিংবা অসুস্থ হয় তখন আমরা হাতিয়ার দিতে পারি না। কারণ একজনের হাতিয়ার দিয়ে অন্য একজনকে ডিউটি করানো আইন সঙ্গত নয়। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে অন্য লোকের হাতিয়ার ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা চেয়েছি।
টাইমওয়াচ : সিকিউরিটি সেবায় অস্ত্র কতটুকু জরুরি? এ বিষয়ে কীভাবে সুষ্ঠু সমাধানে আসা যায়; সরকারের কাছে আপনাদের কোনো চাওয়া আছে কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : সিকিউরিটি সেবার জন্য আমরা অবশ্যই অস্ত্র চাই। আমাদেও কোম্পানিতে ক্রয়কৃত/ব্যবহার করা যায় এমন অস্ত্র রাখার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। আগেই বলেছি, অস্ত্র রাখার ব্যাপাওে সরকার যথেষ্ট সতর্ক। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরাও চাই না যে, অস্ত্র যে কোনো সন্ত্রাসী/প্রাধিকারবিহীন লোকের কাছে চলে যাক।
সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত
টাইমওয়াচ : বর্তমান সরকার বিদেশ থেকে অনেক প্রশিক্ষিত কুকুর এনেছে। সরকারি এবং আপনাদের ডগ স্কোয়াড সার্ভিস বিষয়ে বলবেন কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : সরকারের সঙ্গে আমাদের তুলনা হয় না। দেশের র‌্যাব ডগ স্কোয়াড অত্যন্ত যোগ্যতা সম্পূর্ণ। পুলিশ, আর্মি, বিজিবি’র ডগ স্কোয়াডও শক্তিশালী। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে- আমরা প্রাইভেট সেক্টরে ডগ স্কোয়াড করেছি। এক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করেছি এবং আমাদের অবকাঠামো চোখে দেখার মতন। সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চ মূল্যে ডগ এনেছে। আমরাও ডগ এনেছি। দেশ থেকেও কিছুসংগ্রহ করেছি। আর্মিদের অকশন (অঁপঃরড়হ) করাডগও আমরা সংগ্রহ করি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে৩৫ হাজার টাকা করে আমরা ডগ ক্রয়করেছি। আর্মিদের অকশন থেকে আমরা ৪টি ডগ মাত্র ২৮ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। অবশ্য এসব ডগের কিছু ত্রুটি আছে। তবে আমরা ওইসব ডগকে ট্রেনিং করিয়ে কাজ করছি। কিছুদিন আগে দেখলাম, পুলিশ ১২ লাখ টাকা মূল্যে একেকটি ডগ কিনেছে; এতো মূল্যের এসব ডগের কথা শুনে অবাক হয়েছি। আমরা ডগের কিছু খেলাধুলাতেও (Dog Show) নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়েছি। যেমন- স্নিফিং, আক্রমন, আগুন লাগানো, রিংয়ের ভিতর দিয়ে লাফানো। এখন আমরা ডগ দিয়ে বেশ কিছু কাজ পাচ্ছি। বড় বড় মিটিংয়ে স্নিফিং এবং সার্চের কাজগুলো পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছেÑ ডগ স্কোয়াড করার পর আমাদের ইমেজ অনেক গুণে বেড়ে গেছে। প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিতে ডগ স্কোয়াড একটি অচিন্তনীয় ব্যাপার। এটি আমরা বাংলাদেশে করতে পেরেছি।
টাইমওয়াচ : এলিট ফোর্স নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা কী রয়েছে?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : আমরা চাই- এলিট ফোর্স আরো বড় হোক, আরো উন্নত হোক। বাকী কোম্পানিগুলোও যেনো তাদের অবকাঠামো ঠিক করে উন্নত সেবা দিতে পারে। আশা করি, আমাদের ব্যবসা বাড়বে, কমবে না। একটি বিষয় হলো- আমরা যতদূর এসেছি এটিকে ধরে রাখা, চলমান রাখা, টিকে থাকা অনেক বেশি কঠিন।
সিকিউরিটি সেবায় গার্ডদের বেতন কাঠামো সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত
টাইমওয়াচ : বেসরকারি সিকিউরিটি সার্ভিস উন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত মতামত কী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ পিএসসি (অব.) : বেসরকারি সিকিউরিটি সার্ভিসকে সরকারকে প্রাধান্য দিতে হবে। এই সেক্টরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লোক কাজ করছে। এজন্য আমাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো উচিত। ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া উচিত। আমাদের ট্যাক্স ৪০% এবং ভ্যাট ১৫% দিতে হয়। এজন্য ভ্যাট দিয়ে অনেকেই গার্ড নিতে আগ্রহী নয়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন- গ্রাহকদের ওপর গার্ডদের জন্য একটি ন্যূনতম রেট নির্ধারন করে দেওয়া। আমাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘সার্ভিস ফি’ নির্ধারণ করা। বর্তমানে যেভাবে চলছে তাতে আমাদের ব্যবসায়িক মুনাফা খুবই কম। এই জন্য আমাদের মন ভালো থাকে না। যাইহোক সব কিছু মিলিয়ে দেশে যারা প্রাইভেট সিকিউরিটি সেবা সার্ভিস পরিচালনা করছে- তারা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে কাধ মিলিয়ে বিরাট রকমের একটি ভূমিকা পালন করছে। সম্পুর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় এতগুলো লোকের কর্মসংস্থান একটি বড় রকমের অবদান বলে গন্য হওয়া উচিত।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd