ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৪:৩৪
রোহিঙ্গাদের চাপে হুমকির মুখে কক্সবাজারের অর্থনীতি
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)


 


রোহিঙ্গাদের চাপে হুমকির মুখে পড়েছে পর্যটন শহর কক্সবারের অর্থনীতি। প্রতিনিয়ত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এখনো স্রোতের মতোই বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন আরাকানের রোহিঙ্গরা। চাহিদার চেয়ে বেশি জনশক্তির চাপ পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির অর্থনীতি। কক্সবাজার উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এতে রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে দ্বিগুণের বেশি গুণতে হচ্ছে ভাড়া। সামর্থর চেয়েও দ্বিগুণের বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা বাজারে। শনিবার ও রোববার উখিয়া থেকে নাফ নদীর সীমান্ত পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। তারা জানান, রোহিঙ্গাদের প্রবল চাপে এখানকার অর্থনীতির বাজার হু হু করে বেড়েই চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬ বাংলাদেশি বসবাস করছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইএসসিজির জরিপ অনুযায়ী ৪ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তার মধ্যে শিশু ২ লাখ ৪০ হাজার। এক বছরের কম বয়সী শিশু ৩৬ হাজার। গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারী ৫২ হজার। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের জোগান দিতে যে সরবরাহ ছিল তা দিয়ে এখন তার দ্বিগুণের বেশি মানুষের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি সামর্থ্যবান রোহিঙ্গারাও চড়া দামে পণ্য কিনতে পারছেন না। মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের গণহত্যা থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে দেশি-বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগের হাজার হাজার নারী-পুরুষ। সব মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফে সারাক্ষণই যেন মহাসমাবেশ। এসকল মানুষের চাহিদার জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাই তারা দ্বিগুণের মতো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে সব কিছুতে। গণপরিবহনেও দ্বিগুণ ভাড়া। এতে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষগুলো আরও সমস্যায় পড়ছে। বাড়তি এ চাহিদার জোগান দিচ্ছে দেশি-বিদেশি এনজিও, বিভিন্ন পর্যায়ের সাহায্যে থেকে। আর হু হু করে বাজার দর বাড়িয়েছে এখানকার কতিপয় অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী। আর্ত মানবতার জন্য সারা দেশের মানুষের মন কাঁদলেও সব অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো উখিয়ার এলাকাতে থাকায় সেখানেই রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল গড়তে দরকার হচ্ছে কাঠ-বাঁশ-পলিথিন থেকে শুরু করে গৃহস্থালি তৈজসপত্রের। দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের চাহিদা পূরণে চাপ পড়ছে স্থানীয় বাজারে। টেকনাফ শাহপরীর দ্বিপ এবং বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত হয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতন-অগ্নিসংযোগের কারণে তাদের সবাই প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছেন। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে সঙ্গে এসেছে শুধু পরনের কাপড়। কেউ কেউ সামান্য বার্মিজ মুদ্রা আনতে পারলেও কক্সবাজারে এ মুহূর্তে তা অচল। পানির দরে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। পরে এগুলো চোরাই পণ্যের দেনা শোধে ব্যয় হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়া কাঁচা বাজার, কুতুপালংখালী বাজার, বালুখালী বাজার, মোছনি বাজার, হৃদা বাজার, খানজরপাড়া বাজার, থ্যাংখায়ী বাজার, টেকনাফের বাজার গুলোঘুরে দেখা গেছে ১০টাকার বড় সাইজের আলুর কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা। ছোট সাইজের লাল আলু ৫০ টাকা। বরবটি ৬০ টাকা। ৩০/৩৫ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। ঝিঙা ৩০ টাকা। বেগুন ৫০ টাকা। করলা ৪০-৫০ টাকা। শাকের আঁটি ১৫-২০টাকা। কেজি ৬’শত টাকার ইলিশ ৯০০ টাকা। এ ছাড়াও সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০০-১৫০ টাকা বেছেড়ে। পাহাড়ে কিংবা সমতলে আশ্রয়স্থল  তৈরিতে রোহিঙ্গাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বাঁশ ও পলিথিন বা ত্রিপল। জাতিসংঘ শরণার্থী কমিশন (ইউএনএইচসিআর) থেকে কিছু রোহিঙ্গা ত্রিপল পেলেও বাঁশ ও পলিথিন কিনতে বাধ্য হয় রোহিঙ্গারা।
উখিয়ার  কুতুপালং, পান বাজার, বালুখালী, থ্যাংখায়ী, খানজরের পাড়াঘুরে দেখা গেছে রাস্তার পাশে বসা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একেকটি বড় আকারের একটি বাঁশ বিক্রি করছে ৫০০-৬০০ টাকায়। কঞ্চি বাঁশ ১০০-১২০ টাকায়। অথচ এসব বাঁশের অধিকাংশই প্রকৃতির দান সরকারি পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা। লবণ চাষে ব্যবহৃত পুরনো ও নরম পলিথিন বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ টাকা দরে। সামান্য বৃষ্টিতেই ফুটো হচ্ছে ঘরের চাল হিসেবে ব্যবহৃত এ পলিথিন। বাড়ানো হয়েছে হাঁড়িপাতিল, থালা, বালতি, বদনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্রের মূল্য। কুতুপালংয়ের বাজারে আড়াইশ গ্রাম ওজনের হাঁড়িপাতিল বিক্রি হচ্ছে চুক্তিভিত্তিক ২০০ টাকায়। অথচ এর দাম হওয়ার কথা ছিল অর্ধেক।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd