ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:০৫:১৮আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:০৫:৫৬
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার আলোকে বিশ্বশান্তি
সমীরণ বড়ুয়া


 


শুভ প্রবারনা পূর্নিমা। বৌদ্ধদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এই উৎসবকে ঘিরে সারা বিশ্বে বৌদ্ধ বিহারে ও গৃহে নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃত ভাষায় প্রবারণা শব্দ হতে পালি প্রবারণা শব্দের উদ্ভব হয়েছে। মূলত প্রবারণা শব্দের অর্থটা হচ্ছে প্র-প্রকৃষ্ট রূপে ধারণ করা, গ্রহণ করা, মনের রাগ, দ্বেষ, মোহ ও অশুভ চিন্তা চেতনাকে বর্জন করা। ত্যাগের মাধ্যমই পরিশীলিত ও পরিশুদ্ধ হওয়া, দান, শীল, ভাবনা, সমাধি ও প্রজ্ঞা উৎপাদনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি হওয়া। আত্ম সংযম করা, আত্মোপলব্ধি, আমন্ত্রণ, পাপ- দেশনা, দোষ ত্রুটি স্বীকার করা। মিলনোৎসব, আশার তৃপ্তি পূরণ, অভিলাস পূরণ এবং এক ভিক্ষু- অপর ভিক্ষুর কাছে আত্ম নিবেদনের মাধ্যমে সংশোধিত হওয়াটাই হল প্রবারণা। মূলতঃ আশ্বিনী পুর্ণিমাই হচ্ছে বৌদ্ধদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা। এই শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার আলোকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে সুপ্রিয় পাঠকদের জানার সুবিধার্থে এখানে কিঞ্চিত আলোকপাত করছি।
আজ সারা বিশ্বে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠি, ধর্ম বর্ণ, গোত্র নিয়ে চলছে নানা ভেদাভেদ, হত্যা, নিধন যজ্ঞ। ফলে বিভিনø দেশে ধর্মমতাবলম্বীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে হানাহানি, নারী ধর্সণ, অত্যাচার, অনাচার, দমন- নিপীড়ন, নির্যাতন, মানবাধিকার চরম লঙ্ঘন ও বিপন্ন মানবতার মত লোম হর্ষক নারকীয় ঘটনা। হিংসায় উন্মুক্ত এই অশান্ত বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে মানবপুত্র মহাকারুনিক তথাগত ধর্মরাজ গৌতম বুদ্ধের অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হতে হবে। সামাজিক, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশকে সুন্দর শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে হবে। যদিও এটা খুবই দূরুহ কাজ। তবে গৌতম বুদ্ধের ধর্ম, পঞ্চনীতি, চতুরার্য্য সত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গসহ বুদ্ধের সকল আদর্শ ও নীতিকে সমুন্নত রাখতে পারলেই প্রতিটি দেশে শান্তি ফিরে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এবার প্রবারনা পূণিৃমার তাৎপর্য বিষয়ে আলোকপাত করছি। তথাগত অর্হৎ গৌতম বুদ্ধ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে বারনসীর অন্তর্গত সারনাথের মৃগধাবে পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষু সংঘের কাছেই সর্ব প্রথম ধর্ম চক্র সূত্র দেশনা করেন। এই ধর্ম দেশনা শ্রবণ করে কৌন্ডন্যের ধর্মচক্ষু উৎপন্ন হযেছিল। “যংকিঞ্চি সমুদয় ধম্মং সববন্তং নিরোধ ধর্মং”। অর্থাৎ তার জাত বিষয় সদেব মনুষ্য লোকের সীমা অতিক্রম করে একত্রিশ লোকভূমিতে পৌঁছে যায়। সাথে সাথে সাধুবাদ ধ্বনিতে সারাবিশ্ব আলোকিত হয়ে উঠেছিল। এমনকি কোটি দেবতা এবং ব্রহ্মা অন্য কোন্ডন্যের সাথে স্রোতাপন্ন হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পরেই তথাগত গৌতম বুদ্ধ ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস শুরুর করল। এই বর্ষাবাসের শুরু থেকেই বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্ম শ্রবণে মনো সংযোগি হয়ে বুদ্ধের কাছে দেশনা শ্রবণ করত। বুদ্ধের পঞ্চবগীয় শিষ্যের মধ্যে বপ্পভিক্ষু বুদ্ধের মুখ নিসৃত ধর্মদেশনা শ্রবণ করে বিমুক্ত সুখ লাভ করেন। পরে তিন মাসের মধ্যে পাচজন ভিক্ষুই অনাত্ব লক্ষণ সূত্র শ্রবণ করে বিমুক্ত হন। ভিক্ষুগণ বললেন রূপ অনাত্মা, রূপ আত্মা নহে। যদি রূপ আত্মা হয়, তবে পীড়ার কারণ হত না। রূপে এ রূপ অধিকার করা যেত, আমার রূপ এ রূপ হোক, এ রুপ না হোক, যেহেতু রূপ আত্ম নহে। সেহেতু রূপ পীড়ার কারণ হয়ে থাকে। আমার রূপ, এ রূপ থেকে অনুরূপ হোক- এ অধিকার লাভ করা যেত না। বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিভাজন সম্পর্কে ও একই কথা বলেছেন। হে ভিক্ষুগণ- তোমরা কি মনে কর, রূপ নিত্য না অনিত্য। অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ। দুঃখ ভান্তে। যা অনিত্য তা পরিবর্তনশীল। এই যে সর্বরূপতা আমার নয়। আমি আমার নই। আমার এই আত্মা ও নয়। বিষয়টি সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা দর্শন করতে হবে। বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান সম্পর্কে ও বুদ্ধ তাই বলেছেন, এভাবে বিষয় দর্শন করলে শ্রতবান আর্যশ্রাবক রূপে নির্বেবেদ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। সংস্কার ও বিজ্ঞান উদাসীন হয়। উদাসীনতার কারণে স্পৃহায় হয়। বিরাগ হেতু বিমুক্ত হয়। বিমুক্ত হলে- বিমুক্তি হয়েছিল বলে জ্ঞান উৎপন্ন হয়। এতে জন্মের বীজ ক্ষীন হয়। ব্রহ্মচর্য ব্রত পরিসমাপ্তি হয়। আর জন্ম হবে না বলে মনে স্থির সিদ্ধান্ত হয়। এভাবে প্রকৃষ্ঠ রূপে জানতে পারে। গৌতম বুদ্ধ উপরোক্ত দেশনা কালে ভিক্ষুগণ প্রসন্ন চিত্তে শ্রবণ করে বেশ আনন্দিত হন। এই ভাবে এই মহাবিশ্বে ৬১ জন অরহত আত্মপ্রকাশ করেন। প্রবারণা পূর্ণিমার শুভলগ্নে ভগবান বুদ্ধ সকলকে আহ্বান করে বলেেলন- ভিক্ষুগণ, আপাত দৃষ্টিতে তোমরা সকলেই আত্মজয়ী হয়েছ। তোমরা বিমুক্ত দর্শন ও আর্যসত্য লাভ করেছ। বুদ্ধ বললেন- খীনং পুরানং নবং নত্থি সম্ভাবং। অর্থাৎ তোমাদের পুরাতন বীজ সিদ্ধ ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন বীজ উৎপন্ন হবে না। তোমরা সবাই মৃত্যুঞ্জয়ী। হে ভিক্ষুগণ, তোমরা আজ হতেই দিকে দিকে বিচরণ কর। দেব মানবের কল্যাণে তথাগতের অনন্ত জীবনে সাধনা লব্দ অমিয় বাণী প্রচার করতে থাক। তবে এক সাথে দু’জন যাবে না। “চরথ ভিক্ খবে চারিকং, বহুজন হিতায়ং, বহুজন সুখায়ং, অথায় হিতায়, দেব মনুসানং- দেসেথ ধম্মং আদি কল্যাণেং পরিযেসান কল্যানং, সাথং সব্যঞ্জনং, কেবলং পরিপুন্নং, পরিসুদ্দং, ব্রহ্ম পরিয়ং, পকাসেথ, মা একেন দ্বেঅগমিত্থ। আমি উরু বেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি। সেদিনই শুভ আশ্বিনী পূর্ণিমা। তাকে আমরা প্রবারণা পূর্ণিমা বলে আখ্যায়িত করি। বুদ্ধ ক্রমাগত ছয় বৎসর মগধ রাজ্যে মধ্য ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্ম প্রচার করে সপ্তম বর্ষে মাতৃদেবীকে বিমুক্তি দানের উদ্দেশ্যে গন্ড বৃক্ষমূলে যমজ উদ্ধ প্রদর্শন করে ত্রংত্রিংশ দেবলোকে দেবরাজ পযান্ড কম্বল সিংহাসনে বর্ষীব্রত অধিষ্ঠান করেন। মাতৃদেবীকে বলেছিলেন কুশল ধর্মো- অকুশল  ধর্মো। এভাবে তিন মাস যাবত অভিধর্ম দেশনা করে মাতৃদেবীকে বিমুক্তি দান করেন। তারপরে ভগবান বুদ্ব প্রবারণা পূর্ণিমার শুভলগ্নে ভারতের সাংকাশ্য নগরে স্বর্গ হতে অবতরণ করছিলেন। তখন দেবতা ও মানুষের মধ্যে মিলন ঘটেছিল। স্বর্গ থেকে অবতরন কালে তিনটি সিঁড়ি তৈরী হয়েছিল। একটি সোনার,একটি রুপার, একটি মুক্তার।তথাগত বুদ্ধ স্বয়ং মণি মুক্তার সিঁড়িতে মহাব্রহ্মা সোনার সিঁড়িতে ওদেবরাজ ইন্দ্র রৌপার  সিঁড়ি বেয়ে স্বর্গ হতে অবতরণ করেছিলেন। এ সব কারণে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নর নারীগণ প্রতি বৎসর শুভ প্রবারণা পূণিমা তিথিতে অর্থাৎ আশ্বিণী পুনিমা উপলক্ষে আকাশে ফানুস বাতি প্রজ্জলিত করে আসছে। স্বর্গের চুলামনি চৈত্যের কাছে তথাগত বুদ্ধের ধাতু রয়েছে। এই ধাতু চৈত্যকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বের বৌদ্ধরা ফানুসবাতি উত্তোলন করে থাকেন। তাছাড়া পাবেল্য ভিক্ষু সংঘকে উপলক্ষ করে তথাগত বুদ্ধ কঠিন চীবর দানের বিধান প্রবর্তন করেন। এখানে বলাবাহুল্য যে, বুদ্বাংকুর সিদ্বার্থের কেশধাতুকে পূজা ও বন্দনার জন্য প্রবারনা পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত একমাস ব্যাপী বিহার শীর্ষে ও গৃহশীর্ষে আকাশ প্রদীপ উত্তোলন করা হত। আজ গৌতম বুদ্বের জন্মের আড়াই হাজার বছর পরে এসে সারা বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। বুদ্ধ প্রতিরুপ দেশ সমূহের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ শুরুর আশংকা পরিলক্ষিত হচেছ। এছাড়ও আমাদের বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্র মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ঢল নেমেছে। দেশটির সামরিক জান্তা ও সন্ত্রাসীদের হাতে স্বজন সহায় সম্পদ হারানো এসব মানুষের ওপর বর্বরতা, পৈশাচিকতা, নৃশংশতা, দমন, নিপীড়ন, গণহত্যা, দেশত্যাগে বাধ্যকরার মত মানবতার ভুলুণ্ঠিত হওয়া জগন্য অপরাধ সংঘঠিত করা বৌদ্ব ধর্ম, ও সংঘের প্রাতনিধি কোন ব্যক্তি বা রাষ্ট্র কখনো সমর্থন করে না। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের  সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ ও দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় এ বছর আপাময় মানুষের সঙ্গে একাত  হয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।বৌদ্ধ ধর্ম কোন গোষ্ঠি বা বর্ণের নয়। সমগ্র মানব জাতির। বৌদ্ধ ধর্মের মল ভিত্তি অহিংসা। হানাহানি বা কোন জাতি নিধন নয়। মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, অদন্ডনীয়ও  নিরাপরাধকে দোষি সাব্যস্ত করে যে ব্যক্তি দন্ড বিধান করে । সেই ব্যক্তি ইহজন্মে সহসা দশবিধ অবস্থার ঘৃণ্যতর পাপ ভোগ করে থাকে। তীব্র যন্ত্রনা, ধনক্ষয়,অঙ্গচ্চেদ, পক্ষাঘাতাদি,কঠিন ব্যাধি ও চিত্ত বিক্ষেপ গ্রস্থ হন॥ রাজা হতে চুত্য হয়ে যশ:লোপ, নিদারুণ ্অপবাদ,জ্ঞাতি ও সম্পত্তি বিনাশ হয়ে থাকেসেখানে তার গৃহ দাহ ঘটে। দেহাবমানে সেই মন্দবুদ্ধি নরকে উৎপন্ন হয়। কোন বৌদ্ধ- মানুষ নয়। কোন প্রাণীকে হত্যা করতে পারবে না। তাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি যারা নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে- তাদের প্রতি বাঙ্গালি বৌদ্ধদের পক্ষে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, তা এখনই বন্ধ করুন। অবিলম্বে রোহিঙ্গাদেরকে স্বসম্মানে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে উদাত্ত আহ্বান জানাই। পরিশেষে বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে, প্রাকৃতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঘূণিঝড়, বন্যা খড়া থেকে পরিত্রাণ পেতেই মহামতি গৌতম বুদ্ধের ধর্ম, আদর্শ ও নীতিকে  সমুন্নত রাখতে প্রতিটি দেশে পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে সুখ, শান্তি ফিরে আসবে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে আজ শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতার ভাষায় যদি বলি- “পাষানের মৌনতটে যে বাণী রয়েছে চিরস্থির। কোলাহল ভেদ করি শত শতাব্দীর”। সকলকে শুভ প্রবারণা পূণিমার মৈত্রিময় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সকল দুঃখিত প্রাণী দুঃখহীন হউক। সকল ভয়ার্ত প্রাণী ভয়হীন হোক। সকল রোগার্ত প্রাণী রোগহীন হোক। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
লেখক : আধ্যাত্মিক সাধক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক প্রাবন্ধিক শিক্ষাবিদ। প্রধান পরীক্ষক বাংলা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম। ইমেইল- baruasamiran01gmail.com

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd