ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:২২:০৬
৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিবে ভারত
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দেবে ভারত। দুদেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে।
৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে এই ঋণচুক্তি সাক্ষরিত হয়।
কোনো ঋণচুক্তির আওতায় এটিই হচ্ছে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বড় ঋণ। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের (প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা) ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম ও ভারতের পক্ষে এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এমডি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি উপস্থিত ছিলেন।
এই অর্থ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ, পায়রা বন্দরের বহুমুখী কনটেইনার টার্মিনাল, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প।
এ নিয়ে গত সাত বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের ঋণ দিল ভারত, যা তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। এর আগেও এলওসির আওতায় দুইবার ঋণ দিয়েছে ভারত।
২০১০ সালে এলওসির আওতায় প্রথম ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০১৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দুই বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে প্রথমটির অর্থে নেয়া ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয়টির ১৪টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
চুক্তি শেষে  ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হতে ভারত পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বাংলাদেশকে ৮০০ কোটি ডলারের তিনটি ঋণ দিয়েছি। এ পর্যন্ত এটাই ভারতের কোনো দেশকে দেয়া স্বল্প সুদে সর্বোচ্চ ঋণ।
তিনি বলেন, তৃতীয় ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল ও বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে ১৭টি পূর্বচিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশকে ভারতের দেওয়া অতীতের ঋণগুলোর মত এই ঋণেও অত্যন্ত হ্রাসকৃত বছরে মাত্রে এক শতাংশ হার সুদে দেওয়া হচ্ছে এবং এই ঋণ পাঁচ বছরের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দুই দেশ।
তবে ভারতীয় ঋণ চুক্তির অর্থছাড়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ভারতের লাইন অব ক্রেডিট ঋণের  এক বিলিয়ন এবং দুই বিলিয়ন চুক্তির পর অর্থ ছাড় সন্তোষজনক নয়। এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এতে অরুন জেটলি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তৃতীয় ‘ডলার ক্রেডিট লাইন এগ্রিমেন্ট’চুক্তির আওতায়  অগ্রীম ১৭টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সুতরাং এবার অর্থছাড়ে সমস্যা হবে না। প্রজেক্ট সিলেকশন, ল্যান্ডসহ অভ্যন্তরীন ইস্যুতে অর্থ ছাড়ে সমস্যা হয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সব দেশই হয়। আশা করছি- সরকার এ দূর্বলতা কাটিয়ে উঠবে।
এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দু ‘দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি  ও সুরক্ষার  চুক্তির উপর যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটসমুহ ও স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষর করেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd